বাংলা ভাষায় গবেষণার ’মৌলিকত্ব’ যাচাইয়ে সফটওয়্যার চালু করল ঢাবি

ইংরেজি ভাষায় লেখা গবেষণার সাদৃশ্য শনাক্তে বিভিন্ন সফটওয়্যার থাকলেও বাংলায় লেখা গবেষণা যাচাইয়ের কোনো সফটওয়্যার এতদিন ছিল না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 August 2022, 11:28 AM
Updated : 2 August 2022, 11:28 AM

বাংলা ভাষায় লেখা গবেষণা প্রবন্ধ, অভিসন্দর্ভ ও পুস্তকে চৌর্যবৃত্তি (প্লেজারিজম) হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ে সফটওয়্যার তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ’অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে’ উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সফটওয়্যারটি উদ্বোধন করেন।

ডিইউবিডি২১ নামে সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘ আট মাসের পরিশ্রমে সফটওয়্যারটি বানানো হয়েছে। এটি বাংলা ভাষায় লিখিত আর্টিক্যাল, কন্টেন্ট, অ্যাসাইনমেন্ট, রিসার্চ পেপারের মৌলিকত্ব যাচাই করতে সক্ষম হবে।

“তাছাড়াও কোন কোন উৎস থেকে তথ্য নেওয়া বা কপি করা হয়েছে, কত শতাংশ কপি করা হয়েছে সেটাও দেখা যাবে। পাশাপাশি তথ্য নেওয়ার লিংক দেখাবে সফটওয়্যারটি।”

ইংরেজি ভাষায় লেখা গবেষণার সাদৃশ্য শনাক্তে টার্নিটিনসহ বিভিন্ন সফটওয়্যার থাকলেও বাংলা ভাষায় লেখা গবেষণা যাচাইয়ের কোনো সফটওয়্যার এতদিন ছিল না।

আব্দুস সাত্তার বলেন, সফটওয়্যারটিতে প্রথমে বাংলা ভাষায় লিখিত বিভিন্ন রিসার্চ আর্টিকেল, অ্যাসাইনমেন্টগুলো প্রাথমিক উৎস (প্রাইমারি সোর্স) হিসেবে যুক্ত করা হবে। সেক্ষেত্রে উইকিপিডিয়াসহ বিভিন্ন গবেষণা জার্নালকে ব্যবহার করা হবে। তারপর নতুন কোনো গবেষণার ‘সিমিলারিটি ইনডেক্স’ নির্ণয়ের জন্য ইনপুট দিলে সফটওয়্যার সেটি নির্ণয় করবে।

আবদুস সাত্তার বলেন, “এটি আরও ডেভেলপড করা হবে। প্রাথমিক উৎস যুক্ত করাসহ এতে বিভিন্ন বিষয় সংযোজন করা হবে। তারপর নীতিমালার আলোকে আমরা এটিকে বাণিজ্যিকভাবে চালু করব।“

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড মো আখতারুজ্জামান বলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি গবেষণায়ও ব্যবহৃত হবে।

“কেউ গবেষণা করতে চাইলে তার গবেষণায় কোনো সিমিলারিটি আছে কিনা যাচাই করা যাবে। ফলে গবেষণাটি হবে একেবারে মৌলিক। আর মৌলিকত্বই হল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান। এটা যখন আমরা পরিপূর্ণভাবে করতে পারব তখনই সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যাশিত সামগ্রিক মানের ওপরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক