দুর্ঘটনার পর ঢাবিতে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বিক্ষোভ

“আজকে ক্যাম্পাসে এক নারী যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন, এটা এক শিক্ষার্থীও হতে পারতেন,” বলেন এক বিক্ষোভকারী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Dec 2022, 04:14 PM
Updated : 2 Dec 2022, 04:14 PM

গাড়ির সঙ্গে এক কিলোমিটার ছেঁচড়ে নেওয়ার পর নারীর প্রাণহানির ঘটনায় ক্যাম্পাসে যানবাহন নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মশাল হাতে বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও অংশ নিতে দেখা যায়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।

এসব কর্মসূচি থেকে বিক্ষোভকারীরা গাড়ি চাপায় ওই নারীর মৃত্যুর বিচারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ, অবাধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে প্রবেশ পথগুলোতে পাহারা চৌকি বসানোসহ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

শুক্রবার বিকাল ৩টার দিকে দেবরের বাইকে শাহবাগ হয়ে হাজারীবাগে ভাইয়ের বাসায় যাচ্ছিলেন রুবিনা নামের এক নারী। তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আজাহার জাফর শাহর প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রুবিনা ছিটকে চলে যান ওই গাড়ির নিচে।

পেছন ও আশপাশ থেকে অনেকে চিৎকার করলেও চালক গাড়ি থামাননি। এক কিলোমিটার ছেঁচড়ে যাওয়ার পর রুবিনাকে আর বাঁচানোর উপায় ছিল না। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শামসুন নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, “ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনা ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু প্রশাসন নির্লিপ্ত হয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

“আজকে ক্যাম্পাসে এক নারী যে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন, এটা এক শিক্ষার্থীও হতে পারতেন। এই ঘটনা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষা নেওয়া উচিত।”

ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক আদনান আজিজ চৌধুরী  বলেন, “আজকে যে দুর্ঘটনা হয়েছে, এটাকে একটা ‘হত্যা’ হিসেবে গণ্য  করতে হবে। এটা কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং একজন সাবেক শিক্ষকের দ্বারা নারী হত্যা করা হয়েছে।

“ওই শিক্ষক যদি নারীকে গাড়ির নিচে চাপা পড়তে দেখে গাড়ি থামিয়ে দিত, তাহলে সেটি দুর্ঘটনা হত। কিন্তু তিনি সেটা করেননি, বরং তিনি ওই নারীকে টেনেহিঁচড়ে নীলক্ষেত পর্যন্ত নিয়ে যান। এর দ্বারা হত্যার মোটিভ (উদ্দেশ্য) বোঝা যায়। এটা মার্ডার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক এই হত্যা ঘটিয়েছে, এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে যে- আমরা এটার জন্য নিন্দিত ও লজ্জিত।”

নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভেতরের রাস্তাগুলোতে স্পিড লিমিট লেখা থাকতে হবে। স্পিড লিমিট কেউ ক্রস করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে হবে।

“বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি রাস্তা খোলা থাকতে পারে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি চলাচল করতে পারে; বাকি সব রাস্তা বন্ধ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর রিকশা চলাচল করবে, যেগুলোতে ট্যাগ লাগানো থাকবে যে- এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিকশা।”

রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আখতার হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি চলাচলের জন্য সঠিক কোনো নিয়ম মানা হয় না। গাড়ি উল্টোপথে আসতেছে কি না, তা দেখার জন্য কোনো নিরাপত্তা রক্ষী নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

“কিন্তু আজকে যে একজন নারীকে গাড়ির নিচে পিষে হত্যা করা হয়েছে, সেই ঘটনায় ঢাবি প্রক্টর দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এই হত্যাকাণ্ডের দায় বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই নিতে হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক