১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘ইন্ধনে’ ছাত্রদল হামলা করেছে: ছাত্রশক্তি

“ফ্যাসিস্ট সরকারের মত বর্তমান সরকার ছাত্রদলের মাধ্যমে ক্যাম্পাস দখলে নিয়ে ফ্যাসিস্ট হতে চাইছে,” বলেন জবি ছাত্রশক্তির নেতা ফেরদৌস শেখ।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘ইন্ধনে’ ছাত্রদল হামলা করেছে: ছাত্রশক্তি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বুধবার সমাবেশ করেন ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Aug 2026, 05:12 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) প্রশাসনের ‘ইন্ধনে’ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ছাত্রশক্তি, শিবির ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া।

হামলায় জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কারসহ ছয় দাবিতে বুধবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

শাহীন মিয়া বলেন, হামলায় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ ও সংগঠক জাবির খান, জকসুর জিএস, এজিএসসহ ৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন নেতাকর্মী হামলায় আহত হয়েছেন।

“এই হামলার দায় শুধু ছাত্রদলের একার নয়, এর পেছনে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সরাসরি ইন্ধন রয়েছে।”

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক সেমিনারে প্রবেশ করা নিয়ে মারামারিতে জড়ান ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। দুপুরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে ক্যাম্পাসের অদূরে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরেও।

সংঘর্ষে অন্তত ৭০ জন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে তথ্য দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দিন পরবর্তী দুই দিনের জন্য ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা জারির ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “আগামী দুই দিন ক্যাম্পাসে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ৫ অগাস্ট বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৬ অগাস্টেও কার্যকর থাকবে।”

বুধবার ছাত্রশক্তির শাহীন মিয়া সমাবেশে দাবি করেন, “ক্যাম্পাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে প্রোগ্রাম আয়োজন করেছিল, সেখানে ইউজিসির চেয়ারম্যানের কাছে আমাদের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কিছু দাবি তুলে ধরতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন সেখানে আমাদের বাধা দেয়। আমরা প্রশাসনের বাধা না মেনে আমাদের কর্মসূচি পালন করলে প্রশাসন তাদের পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদল দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে।”

সমাবেশে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, “পূর্বে ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের পোষা ছাত্রলীগ দিয়ে ক্যাম্পাস দখলে রেখেছিল দীর্ঘ ১৭ বছর। একইভাবে বর্তমান সরকার ছাত্রদলের মাধ্যমে ক্যাম্পাস দখলে নিয়ে ফ্যাসিস্ট হতে চাইছে।”

তিনি বলেন, “অতীত ভুলে যাবেন না। আমরা জুলাই পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কারও দখলে যেতে দেব না। বিশ্ববিদ্যালয় কারও বাপ-দাদার সম্পত্তি না। আপনারা যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালান, তাহলে আপনাদেরকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হবে।”

সমাবেশে ছয়টি দাবি তুলে ধরা হয়।

  • মঙ্গলবারের হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে স্থায়ী বহিষ্কার করতে হবে।
  • অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
  • ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • বৃহস্পতিবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে হবে।