Published : 17 Aug 2025, 12:45 AM
দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ‘শিক্ষার কিছু নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও কলামনিস্ট ফরহাদ মজহার।
তিনি বলেছেন, “উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান আমাদেরকে স্বাধীনতার যুদ্ধে ঢুকিয়ে দিয়েছে, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব নিয়ে কোনো গবেষণা নেই।
“আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতরে শিক্ষার কিছু নেই। তরুণরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেখেনি, গণঅভ্যুত্থান কাকে বলে।”
শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র— টিএসসিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
ফরহাদ মজহার বলেন, “আমরা পাঁচ তারিখে (৫ অগাস্ট) একটা গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছি। এটা একটা বৈশ্বিক ঘটনা। নিউ লিবারাল ইকোনমিতে পৃথিবীর কোথাও এভাবে সরকার উৎখাত হয়নি। ফরাসি বিপ্লবের পরে খুব তাৎপর্যপূর্ণ একটা ঘটনা এটা। কিন্তু কেন তরুণ ছাত্ররা এ ব্যাপারে সচেতন না, উপলব্ধি করতে পারছে না— এটা এখনও শুধু তাদের আবেগের বিষয়।’
তিনি বলেন, “উনসত্তরে আমরা দেখেছি, পুলিশ ঢাবিতে প্রবেশ করতে পারেনি। কারণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাধীন ছিল। তখন শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাহিনী। বাইরের কোনো শক্তির হস্তক্ষেপের অধিকার ছিল না। অথচ এখন যে কেউ প্রবেশ করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা আজ বিলুপ্ত।”
‘শিক্ষা গবেষণা ও রাজনীতি: আসন্ন ডাকসু নির্বাচন’ শিরোনামে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করে ‘চিন্তা চর্চার’ সংগঠন ‘ভাববৈঠকী’।
সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সময়কার ‘বিশ্বমানের’ গবেষণার কথা তুলে ধরে ফরহাদ মজহার বলেন, “পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে আইনস্টাইনের ফর্মুলা সংশোধন করেছিলেন সত্যেন বোস। ইতিহাস বিভাগ, অর্থনীতি বিভাগ ছিল বিশ্ববিখ্যাত। অথচ আজ ছাত্ররা পলিটিক্যাল ইকোনমির পরিবর্তে এমবিএ করছে। এমবিএ মানে কোম্পানির কাছে নিজেকে বিক্রি করা।”
তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, “আমরা একসঙ্গে গণঅভ্যুত্থান করেছি। কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হয়ে অংশগ্রহণ করিনি। তাই সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব মোকাবিলায় বাম, ডান, ইসলামপন্থী—সব মতের তরুণদের একত্র হতে হবে।”
ফরহাদ মজহার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “কেন আমরা দেখিনি যে, রাজু ভাস্কর্যের সামনে বা শহীদ মিনারে তরুণরা দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছে— আজ থেকে আমরা দেশের ক্ষমতা গ্রহণ করলাম! কেন এই হিম্মত আসেনি? এত বড় ঘটনার পরও তরুণদের মধ্যে আত্মসমালোচনা নেই। যদি শেখ হাসিনার এই ফ্যাসিস্ট সংবিধান কায়েম থাকে এবং সেনা সমর্থিত অবৈধ উপদেষ্টা সরকার নির্বাচন করে, তবে প্রত্যেকেই রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে। কিন্তু ছাত্রনেতাদের মধ্যে এর সামান্য উপলব্ধিও নেই।”
সভায় অন্যদের মধ্যে ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আরমানুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের খাইরুল আহসান মারজান ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের মোজাম্মেল হক বক্তব্য রাখেন।