Published : 18 Feb 2026, 04:13 PM
খণ্ডকালীন শিক্ষকদের বাদ দিয়ে স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করায়, পরীক্ষা বয়কট করে অধ্যক্ষের রুমে তালা লাগিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের একাংশ।
বুধবার সকালে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরীক্ষা শুরু হলে শিক্ষার্থীরা তা বয়কট করে অধ্যক্ষের রুমে তালা দিয়ে কলেজ মাঠে অবস্থান নেয় এবং বিক্ষোভ দেখায়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচি চলে দুপুর ২টা পর্যন্ত।
আন্দোলন শেষে শিক্ষার্থীরা দুইটি দাবি তোলেন।
তারা বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করতে হবে এবং বিগত ১০ বছর থেকে যারা চাকরি করে আসছে তাদের সঙ্গে ন্যায় বিচার করতে হবে।”
এদিন একাদশের প্রথম শ্রেণির অর্ধ বার্ষিক আইসিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
কলেজের ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসলেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে তালা দেওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত হয়ে যায়।
কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা মিনা বলেন, "আমাদের কলেজে নতুন শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে, তাদেরকে আমরা চিনি না, পূর্বে যারা ছিলেন তারা খুব বন্ধুসুলভ ছিলেন। তারা ১০-১২বছর আমাদেরকে পড়িয়েছেন। তাদেরকে হঠাৎ করে বহিষ্কার করে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় আমরা আন্দোলনের করছি।"
মানবিক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ অহি বলেন, "আমাদের স্কুল আর কলেজে সম্প্রতি যে প্রধান অধ্যক্ষ নিয়োগ হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। তার নামে সৌদি আরবে ১৬ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলা রয়েছে।

“ইউজিসির কাছে নিয়োগ বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আমাদের আবেদন উপেক্ষা করে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১০-১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে 'ভালো পড়ান না'— এমন অভিযোগ তোলা হলেও বাস্তবতা হল, এই শিক্ষকরাই বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে স্কুল ও কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। কিন্তু এসব শিক্ষককে সরিয়ে স্বজন প্রীতি এবং দলীকরণের মাধ্যমে নতুন শিক্ষকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমরা আমাদের পুরাতন শিক্ষকদের ফেরত চাই।"
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না তবে যতটুকু জানতে পেরেছি, যারা সেখানে শিক্ষক ছিল তারা কোনো প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসা শিক্ষক নয়। তারা খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে ছিল। যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছিল বলে এমন কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে রিটেন পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন এবং ভাইভার মাধ্যমে।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “রিটেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ন্যূনতম যে জিপিএ দরকার তা কর্মরত শিক্ষকদের ছিল না। তথাপি আমরা শুধুমাত্র তাদের জন্য আবেদন যোগ্যতা শিথিল করেছি। তারপরও দেখা গেল রিটেন পরীক্ষায় তারা কোয়ালিফাই করতে পারে নাই। ফলে ভাইবা ও প্রেজেন্টেশন থেকে তারা বাদ করে। আমি যতটুকু শুনেছি ভেরিফাই করতে পারি নাই এসব বাদ পড়া শিক্ষাকরা শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে সেখানে একটি বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে।”