Published : 19 May 2026, 04:21 PM
ভাইরাসজনিত রোগ হাম ও উপসর্গে শিশুর আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণাসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।
এছাড়া দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা, ফ্রি আইসিইউ সেবা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছে তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেছেন, "গত কয়েক মাসে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যু হাসপাতালের করিডোরে করিডোরে স্বজনদের আহাজারি এ যেন রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। হামের মত প্রতিরোধযোগ্য রোগ বাংলাদেশে প্রায় নিয়ন্ত্রিতই ছিল।
“গত কয়েকমাসে আকস্মিক এর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়া এক গুরুতর মানবিক সংকটের ইঙ্গিত প্রদান করে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টাসহ ওই বিভাগের বেশ কয়েকজনের দুর্নীতি অব্যবস্থাপনা এর জন্য দায়ী বলে গণমাধ্যমে এসেছে।”
তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের দায়িত্বরত ব্যক্তিরা বিগত আওয়ামী সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করেছেন। এ দায় অস্বীকার করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যক্তিবর্গ দায় চাপিয়েছেন পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের উপর। এই দায় চাপানোর খেলা প্রকৃত দোষীদের দায়মুক্তিই দিচ্ছে। মৃতের পাহাড় সামনে রেখে এ যেন এক নির্মম পরিহাস! ফলে এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজন একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন যেটি প্রকৃত দায়ীদের উন্মোচিত করবে।
"বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর কয়েক মাস অতিবাহিত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে এই সংকটকে মোকাবিলা করার প্রয়োজন হলেও কার্যকরী পদক্ষেপ এখনও দৃষ্টিগোচর হয়নি। কোনো বিশেষ সংকট এলেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সকল হাসপাতালেই রয়েছে আইসিইউ সংকট, যতটুকুও বা আছে অব্যবস্থাপনার দরুন তা মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়"।
বাজেটে শিক্ষা খাত ও স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ছাত্র সংগঠনগুলির শিক্ষাখাতে বাজেটের ২৫ ভাগ বা জিডিপির ৬ ভাগ বরাদ্দের দাবি ‘উপেক্ষিত হয়ে আসছে’। খোদ ইউনেস্কোর মতে শিক্ষা খাতে একটি দেশের জিডিপির ন্যূনতম ৬ ভাগ বরাদ্দ থাকা উচিত সেখানে আমাদের বরাদ্দের পরিমাণ ১ ও ২ এর মাঝখানে অবস্থান করে।
“দক্ষিণ এশিয়ার দেশেগুলির মধ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ বিচারে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে কার্যত অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় যে বরাদ্দ দেওয়া হয় তা অতি নগণ্য।
“আবার বরাদ্দের একটা বড় অংশই ব্যয় হয় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন ভাতা বাবদ। প্রতি বছরই কমছে গবেষণাখাতে বরাদ্দের পরিমাণ। অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য কোনো বরাদ্দই রাখা হয় না, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ এতই কম যে সেই খাতে কোনো ব্যয়ই করা হয় না। একদিকে যেমন মিলছে না বরাদ্দ অন্যদিকে বলা হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ আয় বাড়ানোর কথা। আর এই নীতির ভুক্তভোগী হচ্ছেন শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। নামে বেনামে বিভিন্ন ধরনের ফি এর বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপর। চলছে বানিজ্যিক সান্ধ্যকালীন কোর্সের রমরমা ব্যবসা। সম্প্রতি প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরিক্ষার আবেদন ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। আবাসন-পরিবহন-ক্লাসরুমসহ নানান ধরনের সংকটে জর্জরিত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ কলেজ গুলিতে ক্লাসরুম-পরিক্ষার হল, শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।”
মার্কিন চুক্তি প্রসঙ্গে মুক্তা বাড়ৈ বলেন, "অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা- যিনি এখন বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষর করলেন "রেসিপ্রোকাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট" বা আরটিএ। এটি পারস্পরিক সুবিধার চুক্তি নয়। এটি একটি অধীনতার দলিল। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের জ্বালানী, কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি সব কিছুই এক ধরণের হুমকির মুখে পড়বে। সর্বোপরি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে এবং ভূরাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ চরম ঝুঁকিতে পড়বে।”