Published : 02 Dec 2025, 05:46 PM
রাজধানীর সরকারি সাতটি কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ‘স্কুলিং’ পদ্ধতি বাতিল এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক সব পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারকে স্থায়ীভাবে অন্তর্ভুক্ত করে আইন করার দাবি জানিয়েছেন কলেজগুলোর শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষভবন চত্বরে সমাবেশ করে তারা এই দাবি তুলেছেন।
‘সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা পরিষদ’ নামে কলেজগুলোর শিক্ষকদের সংগঠনের ব্যানারে এ সমাবেশ হয়েছে।
ঢাকা কলেজের শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খসড়া অধ্যাদেশে যে ‘স্কুলিং’ পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে, আমরা তা বাতিল চাই। কলেজগুলোর স্বতন্ত্র কাঠামো বজায় রেখে আমরা প্রস্তাবিত ইউনিভার্সিটির একাডেমিক ও প্রশাসনিক সর্বস্তরে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে অধ্যাদেশ জারির দাবি জানাচ্ছি।”
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহকারী অধ্যাপক তরিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা চাচ্ছি কলেজগুলোর একাডেমিক বা শিক্ষক পদগুলোতে যেমন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা আছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পদগুলোতেও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
“আর প্রশাসনিক পদগুলোতে অর্থাৎ ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার বা কন্ট্রোলার পদগুলোতেও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে জানাচ্ছি।
“আর বর্তমানে কলেজগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারী পদগুলোতে যেভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিয়োগ হয়, সে ধারা যেন বজায় থাকে তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি আমরা।”
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকার রাজধানীর বড় সাতটি সরকারি কলেজকে নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের প্রক্রিয়া গুছিয়ে এনেছে। তবে এ নিয়ে কলেজগুলোর স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন।
‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ এর প্রস্তাবিত কাঠামোতে সাতটি কলেজসহ সারা দেশের সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদোন্নতির মতো মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কায় আছেন।

আর কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনি কাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশ জারির দাবি তুলেছেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করে ‘ইন্টারডিসিপ্লিনারি’ কাঠামোতে বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবনা অনুযায়ী কলেজগুলোর উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানও চালু থাকবে।
এ কাঠামোর বিরোধিতা করছে কলেজগুলো শিক্ষকদের সংগঠন ‘সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা পরিষদ’।
সোমবার রাতে তোপখানা রোডে শিক্ষাবিদ ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনের করে পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম স্কুলিং কাঠামোর সমালোচনা করে বলেন, “প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় মডেল সরকারি কলেজগুলোর সক্ষমতা সংকোচনের ঝুঁকি তৈরি করেছে, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ, সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক সমতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
“সরকারি কলেজে আসনসংখ্যা কমে গেলে শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে উচ্চ ফি-নির্ভর বেসরকারি কলেজে ভর্তি হতে বাধ্য হবেন। ফলে শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত হবে। অথচ জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০১০ উচ্চশিক্ষার প্রসারের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, “৩ ডিসেম্বর সারাদেশের সকল সরকারি কলেজে মানববন্ধন ও ‘প্রেস ব্রিফিং’, ৪ ডিসেম্বর পাবলিক পরীক্ষা বন্ধসহ সাত কলেজে সর্বাত্মক কর্মবিরতি, ৬ ডিসেম্বর বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সারা দেশের সকল সদস্যের অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মহাসমাবেশ করা হবে।
“যদি ঢাকার সাত কলেজের অন্যতম প্রধান অংশীদার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের মতামত ও দাবি উপেক্ষা করে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের সব সরকারি কলেজ ও দপ্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক কর্মবিরতি (টোটাল শাট ডাউন) শুরু হয়ে যাবে।”