২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রথম ভোটের অপেক্ষায় জকসু

পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ পাওয়ার আগে কলেজ থাকাকালে ১৪ বার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়; সবশেষ হয় ১৯৮৭ সালে।

অনুপম মল্লিক আদিত্য

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Dec 2025, 12:04 AM

Updated : 26 Aug 2026, 05:26 PM

বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার দুই দশক পর প্রথমবার কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনের অপেক্ষায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে (জকসু) প্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনও করবেন পুরান ঢাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেবেন সাড়ে ১৬ হাজার শিক্ষার্থী। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে, যা একটানা চলবে বেলা ৩টা পর্যন্ত। ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরসহ সংগঠনগুলো চারটি প্যানেলে ভোট করছে।

কলেজ থেকে ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হওয়ার পর প্রথমবার জকসুর এই নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সোমবার রাতে ভোটের প্রস্তুতির বিষয় জানাতে এসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা হাসান সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে যত ধরনের নিরাপত্তা প্রয়োজন সব নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, বিজিবি ছাড়াও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক নজরে রাখছেন।

জাল ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ নির্বাচনে কেউ জাল ভোট দিলে ওএমআর মেশিনে ধরা পড়বে। আর প্রত্যেক বিভাগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরাই ভোট পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

“ফলে অন্য কেউ এসে ভোট দেওয়ার সুযোগ নাই।”

ভোটগ্রহণের সময়সীমা বেলা ৩টার মধ্যে কেন্দ্রের চৌহদ্দিতে কেউ থাকলে প্রয়োজনে এ সময়ের পরও তাদের ভোটগ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিদ্বন্দ্বিতা ২১ পদে

এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এক বছরের জন্য গঠিত হচ্ছে ২৩ সদস্যের কেন্দ্রীয় সংসদ; যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ২১ পদে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ।

আর একমাত্র ছাত্রী হল নওয়াব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হল পাচ্ছে ১৫ সদস্যের হল সংসদ। এ সংসদে প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দেবেন ১২৪২ জন। হলের প্রাধ্যক্ষ পদাধিকার বলে এ সংসদের সভাপতি এবং তিনি আবাসিক শিক্ষক বা হাউস টিউটরদের মধ্যে একজনকে কোষাধ্যক্ষ মনোনীত করবেন।

সবশেষ ভোট কবে

জগন্নাথ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপ পাওয়ার আগে কলেজ থাকাকালে মোট ১৪ বার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে। 

এর মধ্যে সর্বপ্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫৪-৫৫ শিক্ষাবর্ষে। সবশেষ ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষে অর্থাৎ ১৯৮৭ সালে ছাত্রসংসদের ভিপি নির্বাচিত হন মো. আলমগীর সিকদার লোটন ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর সিকদার জোটন।

২০০৫ সালে কলেজ থেকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০৫’ এ ছাত্র সংসদ সম্পর্কিত কোনো ধারা না থাকায় প্রতিষ্ঠার পর কুড়ি বছর পরেও জকসু আয়োজন সম্ভব হয়নি।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবার জকসু নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া নেয় প্রশাসন। এ ধারাবাহিকতায় গত ২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯তম সিন্ডিকেট সভায় জকসু খসড়া নীতিমালা অনুমোদন দেয় প্রশাসন। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর রাষ্টপতির অনুমোদন পায় জকসু নীতিমালা। 

নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। শুরুতে ২২ ডিসেম্বর দিন ঠিক করা হলেও ভূমিকম্পে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় ৮ দিন পিছিয়ে তা ৩০ ডিসেম্বর করা হয়।

নির্বাচনের প্যানেল কাদের

নির্বাচনে মোটাদাগে চারটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এসব প্যানেলের বাইরে কেন্দ্রীয় সংসদে অন্যান্য প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

>> ছাত্রদল-ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত 'ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান'

>> ছাত্রশিবির-আপ বাংলাদেশ-ইনকিলাব মঞ্চ সমর্থিত 'অদম্য জবিয়ান ঐক্য' প্যানেল

>> ছাত্রফ্রন্টের সঙ্গে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে ‘মওলানা ভাষানী ব্রিগেড’

>> ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ 

কী থাকছে ব্যালট পেপারে?

কেন্দ্রীয় সংসদে তিন পৃষ্ঠার ব্যালট পেপারে ভোটাররা মোট ২১টি পদে ভোট দিতে পারবেন। ব্যালট পেপারে বামপাশে পদের ক্রম অনুযায়ী ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরের সঙ্গে প্রার্থীর ব্যালটের সংখ্যাসূচক নম্বর থাকবে (যেমন ভিপি পদে ব্যলট (A 11))। তার ডানপাশের ঘরে থাকবে প্রার্থীর পূর্ণ নাম ও শেষ ঘরে প্রার্থীরা ভোট দিবেন। 

প্রত্যেক পদে পছন্দের প্রার্থীর নামের ডান পাশে ছোট চতুর্ভুজাকার ঘরে ক্রস (X) চিহ্ন দিয়ে ভোট দিতে হবে। 

ব্যালটের প্রথম পাতায় শিক্ষার্থীরা ভিপি, জিএস, এজিএস, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রপ্যুক্তি সম্পাদক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ভোট দিতে পারবেন। 

দ্বিতীয় পাতায় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক,আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক, ক্রীড়া সম্পাদক, পরিবহন সম্পাদক, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক ও পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে প্রার্থীরা ভোট দিতে পারবেন। 

শেষ পাতায় সাতটি নির্বাহী পদে একজন ভোটার মোট সাতজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। 

রাতে নির্বাচন কমিশনের সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মোস্তফা হাসান বলেন, ছয়টি ওএমআর মেশিনে ভোট গণণা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে কারা?

নির্বাচনে সহ সভাপতি (ভিপি) পদে লড়ছেন মোট ১২ প্রার্থী। 

তার মধ্যে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের প্রার্থী একেএম রাকিব; অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম; ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেলের কিশোয়ার আনজুম সাম্য; মাওলানা ভাষানী ব্রিগেড প্যানেলের ভিপি প্রার্থী গৌরব ভৌমিক। বাকি ৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯জন। তাদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা; অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল আলিম আরিফ; ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেলের ফয়সাল মুরাদ ও মওলানা ভাষানী ব্রিগেড প্যানেলের জিএস প্রার্থী ইভান তাহসীভ। বাকি ৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

আর এজিএস পদে লড়ছেন আটজন। তাদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের প্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল; অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী মাসুদ রানা; ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান প্যানেলের মো. শাহীন মিয়া ও মাওলানা ভাষানী ব্রিগেড প্যানেলের এজিএস প্রার্থী মো. শামসুল আলম মারুফ। বাকি ৪ জন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোট দিতে হবে যেভাবে

পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগের নির্দিষ্ট বুথে কেন্দ্রীয় সংসদে ভোট দিতে পারবেন। আর হল সংসদের ভোট অনুষ্ঠিত হবে শিহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় নির্ধারিত ভোট কেন্দ্রে। 

কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের ভোট দুটি আলাদা ব্যালটে নেওয়া হবে। আবাসিক হলের ছাত্রীরা দুটি ব্যালটে হল সংসদের ১৩ পদের ভোটসহ মোট ৩৪টি ভোট দিতে পারবে। আর অনাবাসিক ভোটাররা শুধু কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদে ভোট দিতে পারবেন। 

ভোটাররা প্রার্থীর ডানপাশের ছোট বক্সে ক্রস(X) চিহ্নের মাধ্যমে ভোট দেবেন।

এক নজরে জকসু ভোট

৮ দিন পিছিয়ে জকসু ভোট ৩০ ডিসেম্বর

জকসু নির্বাচন: 'ভুয়া' অভিযোগকারীর কথায় ৬ প্রার্থী বাদ

জবি শিক্ষার্থী সংসদের প্রথম নির্বাচন ২২ ডিসেম্বর

২৭ নভেম্বর ভোটের তারিখ রেখে জকসু নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা