‘উন্মুক্ত লাইব্রেরি'র দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

“যাদের জন্য কিংবা যাদের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা, তারা সবাই বিষয়টিকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে,” বলেন প্রতিষ্ঠাতা সৈকত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Feb 2024, 06:09 PM
Updated : 9 Feb 2024, 06:09 PM

দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে অবস্থিত ‘উন্মুক্ত লাইব্রেরি'র দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার সকাল ১০ টায় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে প্রদীপ প্রজ্বালন ও সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা করা হয়।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মঙ্গলগীত ও মঙ্গল নৃত্য পরিবেশিত হয়। সকাল ১১

উন্মুক্ত লাইব্রেরি থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় ঘুরে পুনরায় সেখানে এসে শেষ হয়।

উন্মুক্ত লাইব্রেরির নিয়মিত পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন৷

বিকাল ৪টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে উন্মুক্ত লাইব্রেরির সাংস্কৃতিক দল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কবিতা আবৃত্তি, একক ও দলীয় নৃত্য, একক ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি দলের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সন্ধ্যা ৬টায় উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে কনসার্টের আয়োজন হয় । এতে ব্যান্ড অবান্তর, লেমনেড, শিল্পী রাশেদ, ফ্রেস্কো, সোহান আলী, রানা, জলফিকার রহমান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি দল গান পরিবেশন করে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকতের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ‘উন্মুক্ত লাইব্রেরি’।

বই পড়া, জ্ঞান চর্চাকে উন্মুক্ত পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে বই চর্চার আবহ তৈরির পাশাপাশি সাংস্কৃতিকভাবে মানুষকে উদার, চিন্তাশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে উন্মুক্ত লাইব্রেরি যাত্রা শুরু করে।

উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার এই দিনটিকে ‘উন্মুক্ত লাইব্রেরি দিবস' হিসেবে উদযাপন করা হয়ে আসছে। এবার স্লোগান ছিল ‘বই হোক মুক্তির হাতিয়ার’।

এ বিষয়ে উন্মুক্ত লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা তানভীর হাসান সৈকত বলেন, “আজ থেকে দুবছর আগে উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার ভাবনা যখন আসে, কখনো ভাবিনি যে উন্মুক্ত লাইব্রেরি আজ যে জায়গাটিতে দাঁড়িয়ে আছে, সে জায়গায় যেতে পারবে কিংবা যাওয়ার পথটি এত সহজ হবে।

“সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, যাদের জন্য কিংবা যাদের উদ্দেশ্যে উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা, তারা সবাই বিষয়টিকে ভালোভাবে গ্রহণ করেছে। আরেকটি বড় অর্জন আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বইমেলায় উন্মুক্ত লাইব্রেরির স্টল পরিদর্শনে এসেছেন।”

সৈকত বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিন আমাদের উন্মুক্ত লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হবেন।

“আজ উন্মুক্ত লাইব্রেরি হয়ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফটকে রয়েছে৷ কিন্তু আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন উন্মুক্ত লাইব্রেরি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে ছড়িয়ে পড়বে৷”

উন্মুক্ত লাইব্রেরির দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের সার্বিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উন্মুক্ত লাইব্রেরির সভাপতি সজীব তালুকদার, সঞ্চালনা করেন উন্মুক্ত লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক মোছাদ্দেক বিল্লাহ।