Published : 12 Jul 2025, 02:01 AM
মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে এক ব্যবসায়ীকে নৃশংসভাবে হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা।
শুক্রবার রাত ১০টার দিকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিল শুরু করে তারা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রোকেয়া হলের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ সভাপতি আনিসুর রহমান সেখানে বলেন, “মিটফোর্ডের সামনে ব্যবসায়ী সোহাগকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, এটা দেখে আমরা আসলে মর্মাহত, লজ্জিত এবং শঙ্কিতও বটে। আমরা বারবার বলে এসেছি, বাংলাদেশে যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে, সে যদি দলের হয়, তাহলে সে দলীয় সন্ত্রাসী, সে যদি কোনো ব্যক্তিগত অন্যায় করে তাহলে ব্যক্তিগত অন্যায়।”
তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিভিন্নভাবে কঠোর হয়েছি এসব বিষয়ে। তারপরেও যারা এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে এবং একজন মানুষকে তার মৃত্যু নিশ্চিত করার আগ পর্যন্ত যেভাবে নৃশংসভাবে তার ওপর পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, এর তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাচ্ছি।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার বিকালে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে প্রকাশ্যে কংক্রিট বোল্ডার দিয়ে শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয় ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী মো. সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে।
নৃশংস ওই হত্যাকাণ্ড এবং তার পরের ঘটনাপ্রবাহের বেশ কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে। সেসব দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছে মানুষ, তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে, এবং নেপথ্যে যাদের নাম আসছে, তারা অনেকেই বিএনপি বা এর অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতিতে জড়িত।
এ ঘটনায় পুলিশ ও র্যাব চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বিএনপি দুজন, যুবদল দুজন এবং স্বেচ্ছাসেবক দল একজনকে আজীবন বহিষ্কার করেছে।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনও শুক্রবার সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করে মিটফোর্ড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।