পুঁজিবাজার উন্নত হলে লাভ ব্যাংকেরই: গভর্নর

এবার ৩ থেকে ১৩ অক্টোবর বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২২ উদযাপন করবে বিএসইসি

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Oct 2022, 04:00 PM
Updated : 3 Oct 2022, 04:00 PM

ব্যাংকের উপর তারল্যের চাপ কমাতে পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করার উপর জোর দিচ্ছেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

তিনি বলেছেন, “পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমে আসবে, এতে ব্যাংকেরই লাভ হবে।”

বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২২ উদযাপনে ৩ অক্টোবর থেকে সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন গভর্নর।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এই আয়োজন করেছে।

অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, “স্বল্প মেয়াদে আমানত গ্রহণ করে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করে থাকে ব্যাংক। এতে ব্যাংকের উপর তারল্যের চাপ তৈরি হয়। কিন্তু পুঁজিবাজার থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ নিলে তখন ব্যাংকের উপর থেকে চাপ কমে আসবে। এতে ব্যাংকেরই লাভ।

“আমাদের দেশে ব্যাংকগুলোর ব্যবসা আরও উন্নয়নের মুখ দেখবে যদি ভালো পুঁজিবাজার তৈরি করা যায়। এখন উদ্যোক্তারা স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদী সব ধরনের পুঁজি সংগ্রহ করে থাকেন ব্যাংক লোনের (ঋণ) মাধ্যমে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন হলে উদ্যোক্তারা দীর্ঘমেয়াদী পুঁজির জন্য পুঁজিবাজারের সহায়তা নিতে পারবেন।”

দেশে শেয়ার মার্কেট বেড়ে উঠলেও বন্ড মার্কেট বেড়ে ওঠেনি বলে হতাশা প্রকাশ করেন রউফ তালুকদার।

তিনি বলেন, “পুঁজিবাজার ও বন্ড মার্কেট উন্নয়নে আগ্রহী করতে সঞ্চয়পত্রে সুদহার কমানো হয়েছে। বন্ড মার্কেট উন্নত হলে পুঁজিবাজার আরও সম্প্রসারণ হবে। ব্যাংকগুলোর ছাড়া বন্ড আরেক ব্যাংক কিনে নিত পুরোটাই। অথচ ব্যাংকে বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ।”

এজন্য এখন থেকে ব্যাংকের বন্ডের পুরো অর্থের অর্ধেক পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান গভর্নর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিন রোববার থেকেই ট্রেজারি বিল ও বন্ডের পরীক্ষামূলক লেনদেন শুরু হবে দুই পুঁজিবাজারে।

বর্তমানে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ৫ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের লেনদেন শুরু হলে বাজার মূলধনে আরও ১ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা যোগ হবে বলে আশা করছে বিএসইসি।

গভর্নর রউফ বলেন, “আমরা বাংলাদেশের মুদ্রা বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দেশের পুঁজিবাজারের কল্যাণে যা কিছু সহযোগিতা প্রয়োজন আমরা সেটা করব।”

আগারগাঁওয়ে বিএসইসির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শেখ মোহাম্মদ সলীম উল্লাহ বলেন, “উন্নত দেশগুলোতে বন্ড মার্কেটই বড়, কিন্তু আমাদের এখানে বন্ড মার্কেটের আকার তেমনটি নয়।”

বিএসইসি কার্যালয়ে এই প্রথম বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো গভর্নরের আগমনের দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, “পুঁজিবাজার তথা অর্থনীতির জন্য কোনো কিছু করা মানেই হলো দেশের উন্নয়ন। আমরা দেশের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাব। আর যারা পুঁজিবাজারে ভেজাল করার চেষ্টা করবেন, তারা সাবধান।”

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “আজকের আয়োজনটি আমাদের ৬ষ্ঠ বিনিয়োগকারী সপ্তাহ আয়োজন। বিনিয়োগ শিক্ষাকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে বিনিয়োগ শিক্ষাকে আমরা সবার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছি।”

‘ফেয়ার কানাডা’ নামের প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক জে পল বারউড অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন কমিশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট মো. ছায়েদুর রহমান, ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)-এর প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ডি রোজারিও এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি)-এর সেক্রেটারি জেনারেল মো. আমজাদ হোসেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রকদের বৈশ্বিক সংগঠন হচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইওএসসিও)। বৈশ্বিক এ সংস্থা প্রতিবছর বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উদযাপন করে।

বাংলাদেশও সদস্য পদ লাভের পর ২০১৭ সাল থেকে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ পালন করে আসছে।

এবার ৩ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সাত কার্যদিবসে এই সপ্তাহ উদযাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৩, ৬, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ অক্টোবর সেমিনার ও আলোচনার সভা আয়োজন করা হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিএসইসি। ‘টেকসই উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারের মধ্য দিয়ে ১৩ অক্টোবর শেষ হবে অনুষ্ঠান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক