দুই বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য প্রাণ-আরএফএলের

১৯৯৭ সালে ফ্রান্সে পণ্য পাঠানোর মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে প্রাণ-আরএফএল।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 July 2022, 01:44 PM
Updated : 24 July 2022, 01:44 PM

২০২৫ সালের মধ্যে এক বিলিয়ন ডলার এবং পরের পাঁচ বছরে দুই বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্য রপ্তানি করতে চায় দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ প্রাণ-আরএফএল।

দেশে উৎপাদিত ও বাজারজাত করা সব পণ্যই রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে কোম্পানিটি। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ২০ লাখ ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে শিল্পগ্রুপটি।

রোববার রাজধানীর গুলশানের সিক্স সিজনস হোটেলে মিট দ্য প্রেসে এসব কথা জানান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরী।

গ্রুপের পণ্য রপ্তানির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

১৯৯৭ সালে ফ্রান্সে পণ্য পাঠানোর মাধ্যমে রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করে প্রাণ-আরএফএল। বর্তমানে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, ইতালি, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, আরব-আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, মালয়েশিয়া, বলিভিয়া, ভেনেজুয়েলা, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া ও ইথিওপিয়াসহ ১৪৫টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে গ্রুপটি বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

কোম্পানিটির রপ্তানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে জুস ও ফুট ড্রিংক, বেভারেজ, স্ন্যকস, বিস্কুট ও বেকারি, সস, কেচাপ, নুডলস, জেলি, মশলা, কনফেকশনারি, ফ্রোজেন ফুডস, তৈরি পোশাক, গৃহস্থালী প্লাস্টিক, শপিংব্যাগ, হ্যাঙ্গার, ফার্নিচার, বাইসাইকেল ও জুতা।

আহসান খান জানান, ওয়ালমার্ট, ক্যারিফোর, লবলোজ, আলদি, লিডল, মাইডিন, ডলারামা ও টেসকোর মত খ্যাতনামা চেইনশপে পাওয়া যায় প্রাণ- আরএফএলের পণ্য। নামি-দামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এসব চেইনশপে স্থান করে নিচ্ছে, যা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের।

রপ্তানিতে তৈরি পোশাক খাতের নির্ভরতা কমাতে পণ্য বৈচিত্র্যকরণে প্রধানমন্ত্রীর গুরুতারোপের কথা তুলে ধরে প্রাণ-আরএফএলের চেয়ারম্যান বলেন, "এখনই সময় দেশের রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনা। এ খাতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে চায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।“

দেশের সম্ভাবনাময় ১০টি রপ্তানি খাতের মধ্যে সাত খাতের পণ্য প্রাণ-আরএফএল রপ্তানি করে। বর্তমানে কৃষি, প্লাস্টিক, তৈরি পোশাক, ফুটওয়্যার, হালকা প্রকৌশল, কেমিক্যাল ও ফার্নিচারসহ নানা খাতে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত রপ্তানি করছে বলে জানান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রধান।

তিনি বলেন, “যখন কোন পণ্য রপ্তানি করি, তখন নিজেদের সামর্থ্য ভালো করে বোঝা যায়। বিশ্বের প্রতিটা দেশেই প্রাণ এর পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা রয়েছে। যদি বাংলাদেশে বসে সম্ভব হয়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করব।

“দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে, সেক্ষেত্রে আগামী দিনে সরকারের অনুমতি সাপেক্ষে বিশ্বের কমপক্ষে ৪-৫ জায়গায় পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।“

করোনাভাইরাস মহামারী রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যেও দেশের রপ্তানি খাত ভালো করেছে উল্লেখ করে আহসান খান বলেন, "আমাদের আরও ভালো করার সুযোগ ছিল। কিন্তু পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রুটে লাইনার পরিষেবার সুযোগ না থাকা, ফ্রেইটের খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি, পর্যান্ত কনটেইনার না থাকাসহ নানাবিধ কারণে আমরা সে সুযোগ পরিপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে পারিনি। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এসব সমস্যা সমাধান করতে পারলে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে।“

“রপ্তানি বাড়াতে দেশের ব্র্যান্ডিং এবং পণ্য ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য তহবিল গঠন, বিভিন্ন দেশের ট্রেড শোতে অংশগ্রহণের জন্য তহবিল সহায়তা, আন্তর্জাতিক মানের টেস্টিং ল্যাব, রপ্তানি বীমা, গুড এগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিস প্রবর্তন কার্যকর ভূমিকা রাখবে,” যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক (বিপণন) কামরুজ্জামান কামাল এবং জনসংযোগ বিভাগের প্রধান তৌহিদুজ্জামানসহ গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক