বিপণন এলাকা অর্ধেক কমিয়েছে হাংরিনাকি

গ্রাহক যেখানে কম মিলছে, সেখানে সেবা বন্ধ করেছে ফুড ডেলিভারি স্টার্টআপটি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 July 2022, 04:10 PM
Updated : 24 July 2022, 04:10 PM

দেশের ৩০টি বিপণন অঞ্চল থেকে ১৫টি আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি স্টার্টআপ হাংরিনাকি।

২০১৩ সালে বাজারে আসা এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাইয়ের শুরু থেকে সব বিভাগীয় শহর, সিটি করপোরেশন, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জসহ বেশ কিছু বড় জেলা শহরে কার্যক্রম স্থগিত করেছে তারা।

হাংরিনাকির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অপারেশনটা আমরা ছোট করে ফেলেছি। আগে ৩০টা অঞ্চলে আমাদের অপারেশন চলছিল, এখন সেটা ১৫টায় নিয়ে এসেছি। এখন ঢাকায় ১৩টা আর চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও প্রবর্তক মোড় এলাকায় সার্ভিস চলবে।”

এই সিদ্ধান্তের কারণ জানিয়ে তিনি বলেন, “কিছু কিছু এলাকায় বিজনেস প্রসপেক্ট বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অলাভজনক জোনগুলো বন্ধ করেছি। যেসব জোনে কাস্টমার বেইজ ভালো সেগুলো চলছে।”

২০২০ সালে কোভিড মহামারীর বিধিনিষেধ শুরু হলে রেস্তোরাঁও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময় কয়েক মাসের জন্য বন্ধ ছিল ফুড ডেলিভারিও।

পরে মহামারীর বিধিনিষেধের মধ্যেও রেস্তোরাঁ ব্যবসা চালু করায় ফুড ডেলিভারি ব্যবসায় প্রসার দেখা দেয়।

অনলাইন ফুড ডেলিভারি সার্ভিসে চ্যালেঞ্জ

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ব্যবসার নতুন এই ধারার এখনও শক্তিশালী ভিত গড়ে ওঠেনি। প্রণোদনানির্ভর হয়েই টিকে থাকতে হচ্ছে কোম্পানিগুলোকে। ফলে নতুন করে কেউ বাজারে এসে সুবিধা করতে পারছেন না।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহর ও শহরাঞ্চলে ফুডপ্যান্ডা, পাঠাও ফুড, সহজ ফুড, উবার ইট, হাংরিনাকি- এসব ব্র্যান্ড ফুড ডেলিভারি সেবায় বেশ পরিচিতি অর্জন করে। তবে উবার ইট, সহজ ফুড তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে।

বাজারের পরিস্থিতি মন্দার দিকে যাচ্ছে কি না- জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাংরিনাকির ওই কর্মকর্তা বলেন, “এই বাজারটি এখনও মূল্যহ্রাস ও ক্যাশব্যাক অফারের মাধ্যমে চলছে। মার্কেট এখনও সাসটেইনেবল হয়ে ওঠেনি। এই ব্যবসাটা এখনও ঢাকা-চট্টগ্রাম কেন্দ্রিকই আছে। এর বাইরে মার্কেট ততোটা ভালো হয়নি।”

তিনি বলেন, “রাইডার শর্টেজ এই ব্যবসার অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক এরিয়াতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যায়, কিন্তু সেই তুলনায় রাইডার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক এলাকায় রাইডারদের বসে থাকা লাগছে। এটা একটা ডাইনামিক বিজনেস। চাহিদার সঙ্গে মিল রেখে চলাটা কঠিন।

“তবে এটা ফুড ডেলিভারি মার্কেট সম্পর্কে কোনো আশঙ্কার বার্তা দিচ্ছে না। মার্কেট ঠিক পথেই আছে। ডিমান্ড আছে, কিন্তু সার্ভিসের প্রতিযোগিতা বেড়ে গেছে। এখানে এখনও প্রণোদনামূলক টাকা খরচ করতে হচ্ছে।”

পাঠাও ফুড’র সিইও ফাহিম আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশ্বব্যাপী ফুড ডেলিভারি ব্যবসা ধীরে ধীরে টেকসই অবস্থার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ক্যাশ বার্ন বা কাস্টমারের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণ করে আগ্রাসী বাজার ধরার পথ থেকে কোম্পানিগুলো সরে আসছে।”

গত বছর বাংলাদেশে পাঠাও ফুডের ব্যবসা দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানান তিনি।

ফুডপ্যান্ডার হেড অব পাবলিক রিলেশন সৌরভ দে বলেন, “কোভিডের শুরুর দিকেও ফুড ডেলিভারি বিজনেস কিছুদিন বন্ধ ছিল। পরে রেস্টুরেন্টগুলো চালু হওয়ার পর চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। কোভিডের পরবর্তী সময়ে সেটা ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। এই পরিস্থিতি গ্রোথ পর্যায়ে রয়েছে।

“ঢাকার বাইরে সবগুলো জেলা শহরেই সার্ভিস চালু আছে। এর পাশাপাশি মুদিপণ্য সেবা চালু আছে। স্থানীয় গ্রোসারি দোকানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা গ্রাহক পর্যায়ে মুদিপণ্য সরবরাহ করছি। এর পাশাপাশি ঢাকা ও ঢাকার বাইরের কয়েকটি জেলায় নিজস্ব ইনভেন্টরি থেকেও পণ্য সরবরাহ করছি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক