০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট

বুধবার সকাল ৮টা থেকে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে, যা ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Nov 2026, 01:30 PM

Updated : 04 Nov 2026, 01:30 PM

রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য মহেশখালীতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দেশে গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৪৯১ মিলিয়ন ঘনফুট।

বুধবার সকাল ৮টা থেকে এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে, যা ৭ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে এর আগে জানিয়েছিল পেট্রোবাংলা।

দেশে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে দেশীয় ক্ষেত্র থেকে তোলা গ্যাস ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল এতদিন।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছিল, সামিট এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ২ হাজার ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামতে পারে।

এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে কমে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট হতে পারে বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।

কিন্তু বুধবার সকাল ৮টায় রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শুরুর পর সকাল ১০টায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৭৯ মিলিয়ন ঘনফুট।

এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে ১ হাজার ৫৬৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি থেকে ৫১৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল।

অর্থাৎ, ওই সময় মোট সরবরাহ করা গ্যাসের পরিমাণ ছিল পেট্রোবাংলার পূর্বাভাসের চেয়েও ১৭১ মিলিয়ন ঘনফুট কম।

চার দিন সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে মঙ্গলবার গুজব আখ্যা দেয় পেট্রোবাংলা।

সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমের ফটোকার্ড ব্যবহার করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

পেট্রোবাংলা ওই বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করে, রক্ষণাবেক্ষণ চলাকালে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে কোনো কোনো এলাকায় সাময়িকভাবে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানায় সংস্থাটি।

দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করে সামিট গ্রুপ, অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি।

সামিটের টার্মিনালের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এর আগেও মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে।

পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেও সামিটের টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়েছিল।