মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধন এবারও হবে না?
গত ১০ মাসে কোনো ফোন বন্ধ করা হয়নি, পাশাপাশি অবৈধ বলে যে ধরনের ফোনগুলোকে তখন চিহ্নিত করেছিল, সেগুলো এখনো অবাধে নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিফিকেশন রেজিস্ট্রার বা এনইআইআর পদ্ধতি চালুর ঘোষণা এসেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির তরফ থেকে। দশ মাস পার করে বিটিআরসি এখন বলছে, তারা সরকারের ‘অনুমোদনের অপেক্ষায়’ আছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘অসাধু’ ব্যবসায়ীরা চোরাই পথে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক-কর না দিয়ে নিম্নমানের, চোরাই ও ব্যবহৃত ফোন দেশের বাজারে ঢোকাচ্ছে। এসবের কোনো তথ্য সরকারের কাছে না থাকায় এগুলো ব্যবহার করে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধসহ নানা ধরনের অপরাধমূরক কর্মকাণ্ড চলছে।
এনইআইআর চালুর ঘোষণার সময় বলা হয়েছিল, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে দেশের নেটওয়ার্কে অনুমোদন ছাড়া অর্থাৎ ‘আনঅফিসিয়াল’ বলে বিক্রি হয়ে আসা ফোনগুলো আর যুক্ত হতে পারবে না।
কেবল বৈধ পথে আমদানি করা এবং দেশে তৈরি বৈধ ফোনগুলোকে নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অবৈধ ফোনগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বন্ধ করে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল।
তবে গত ১০ মাসে কোনো ফোন বন্ধ করা হয়নি, পাশাপাশি অবৈধ বলে যে ধরনের ফোনগুলোকে তখন চিহ্নিত করেছিল, সেগুলো এখনো অবাধে নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তখন অবৈধ ফোন বন্ধ করে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ‘গ্রে মার্কেট’ এর ব্যবসায়ীরা, যাদের বিরুদ্ধে অবৈধ পথে নিম্নমানের ফোন আমদানির অভিযোগ করেছিলেন তৎকালীন সরকারের কর্তা-ব্যক্তিরা।
যদিও তখনই সরকারিভাবে বলা হয়েছিল, দেশে ব্যবহৃত মোট হ্যান্ডসেটের ৬০ শতাংশের বেশি অবৈধভাবে আমদানি করা বা গ্রে মার্কেটের ফোন। আর গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের দাবি, তাদের বাজার হিস্যা ৮০ শতাংশের বেশি।
ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার মুখেও ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর বাস্তবায়ন শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল তখনকার অন্তর্বর্তী সরকার।
গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি অব বাংলাদেশ (এমবিসিবি) তখন রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিটিআরসি কার্যালয়ের সামনে ব্যাপক বিক্ষোভ করে। বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
ওই ঘটনায় ৪৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে এমবিসিবির ব্যাানারে ব্যাবসায়ীরা ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটের সামনে রাস্তা অবরোধ করে ধারাবাহিক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এমনকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে সাক্ষাতও করেন এমবিসিবির নেতারা।
জানুয়ারিতে এনইআইআর কার্যকরের ঘোষণার পর ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এরপর বন্ধ হয়ে যায় হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের প্রক্রিয়া।
এ নিয়ে গত এক যুগে তিনবার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
এর আগে ২০১৪ ও ২০২১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এনইআইআর বাস্তবায়নের যুক্তি হিসেবে দেশীয় মোবাইল নির্মাতাদের শিল্পের সুরক্ষার কথা বলা হয়েছিল।
বিটিআরসি বলেছিল, মোবাইলের মাধ্যমে কোনো অপরাধ হলে সেক্ষেত্রে অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করা যাবে।
সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বলছিলেন, দেশের গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বিদেশের বাজার থেকে নিম্নমানের ও পুরনো (রিফারবিশড) ফোন অবৈধ পথে আমদানি করে একদিকে যেমন গ্রাহকদের ঠকাচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এর বিপরীতে গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছিলেন, দেশীয় মোবাইল ফোন নির্মাতারা হ্যান্ডসেটের বাজারে মনোপলি তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।
তাদের ভাষ্য ছিল, গ্রে মার্কেট ফোন আমদানি বন্ধ করে দিলেই দেশে ফোনের দাম বেড়ে যাবে, যার ফলে সরকারের ঘোষিত সবার জন্য ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির অঙ্গীকারটি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠবে।
তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশীয় মোবাইল ফোন নির্মাতাদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থে এনইআইআর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একরকম অনড় ছিল। গ্রে মার্কেটের ব্যাবসায়ীদের দাবি মেনে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক-করও কমানো হয়েছিল।
তবে তাতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বৈধভাবে ফোন আমদানিতে উৎসাহ দেখাননি ব্যবসায়ীরা।
বিটিআরসির পরিসংখ্যাান বলছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে দেশে সাকুল্যে ৪০টি ফোন বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে। একই মাসে দেশে তৈরি হয়েছে ১৬ লাখ ৪৫ হাজার হ্যান্ডসেট, যার মধ্যে ৭ লাখ ৯২ হাজারটি হচ্ছে ফোর জি সাপোর্টেড ও ৩১ হাজারটি ফাইভ জি স্মার্ট ফোন।
বাকি ৮ লাখ ২২ হাজার শুধু টুজি সাপোর্টেড ফিচার ফোন। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে টুজি প্রযুক্তি বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
একইভাবে অগাস্ট মাসে দেশে তৈরি হয়েছে ২২ লাখ ফোন, তবে এই মাসে একটি ফোনও বৈধভাবে আমদানি হয়নি।
তার আগে জুলাই মাসে বৈধভাবে ২৫ হাজার টুজি ফোন আমদানি হয়েছে। ওই মাসে দেশে তৈরি হয়েছে ১৮ লাখ হ্যান্ড সেট।
কোটি কোটি ক্লোন ফোন
বিশ্বব্যাপী মোবাইল সেবা চালু রাখতে প্রতিটি হ্যান্ডসেটের জন্য একটি আইএমইআই নম্বর (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) ইস্যু করে বৈশ্বিক বাণিজ্য সংস্থা জিএসএমএ। দুই সিম সম্বলিত হ্যান্ডসেটের জন্য দুটি আইএমইআই নম্বর থাকে।
এই আইএমইআই হচ্ছে একটি ইউনিক নম্বর, অর্থাৎ একটি হ্যান্ডসেটের জন্য একটিই নম্বর থাকবে সারা বিশ্বে এবং এর জন্য একটা ফিও পরিশোধ করতে হয় নির্মাতাদের।
তবে বাংলাদেশে একটি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে কোটি কোটি ফোন আমদানির তথ্য দেয় সরকার। এ ধরনের ভুয়া আইএমইআই নম্বর সম্বলিত ফোনকে বলা হচ্ছে নকল বা ক্লোন ফোন।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে গত ১০ বছরের হিসাব দিয়ে বলা হয়, শুধু একটি আইএমইআই নম্বরে (99999999999999) দেশের নেটওয়ার্কে মোট ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে।
ওই তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, দেশের নেটওয়ার্কে বর্তমানে কোটি কোটি নকল আইএমইআই নম্বরে মোবাইল হ্যান্ডসেট চালু রয়েছে। তবে সেসব ফোন ওখনই বন্ধ করা হচ্ছে না বলে সে সময় জানানো হয়েছিল।
সরকার গ্রে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জন্য ১৫ মার্চ পর্যন্ত অবৈধভাবে ফোন আমদানির সুযোগ রাখে। কথা ছিল এর পরে নেটওয়ার্কে আর কোনো অবৈধ ফোন যুক্ত হতে পারবে না।
প্রত্যেকটি ফোন নেটওয়ার্কে ‘রেজিস্ট্রেশন’ করতে হবে। পরবর্তীতে সিমকার্ড বদলাতে বা হ্যান্ডসেট হাত বদল বা বিক্রির ক্ষেত্রে ‘ডিরেজিস্ট্রেশন’ নামে আরেকটি প্রক্রিয়ার কথা আলাচনায় এসেছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত ১০ মাসে এনইআইআর পদ্ধতিটিরই প্রয়োগ ঘটাতে পারেনি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
কমিশনের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “যেদিন আমরা একটি আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে ৯৯ লাখ ফোনের অস্তিত্ব পেলাম সেদিন এনইআইআর বাস্তবায়নের তাগিদ অনুভব করলাম।”
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিআরসিকে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানিয়ে এনইআইআর বাস্তবায়নের অনুমোদনের জন্য গত সপ্তাহে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বিটিআরসি।
বিটিআরসির চেয়ারম্যাান বলছেন, “উই আর রেডি। যেদিন সরকার অনুমোদন দেবে সেদিনই আমরা কার্যক্রম শুরু করে দেব।”
কেন দরকার এনইআইআর
দেশের মোবাইল খাত নিয়ে অন্তত দুই দশক ধরে কাজ করছেন অনলাইন পোর্টাল ‘ভিউজ বাংলাদেশে’র সম্পাদক রাশেদ মেহেদি। তার ভাষ্য, হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের বিষয়ে বরাবরই ‘সিদ্ধান্তহীনতায়’ ভুগেছে বিটিআরসি।
“এনইআইআর বাস্তবায়ন করা সম্পূর্ণ বিটিআরসির এখতিয়ার। যখন তারা এটা কার্যকর করার ঘোষণা দিলেন তখন কী সেখানে সরকারের অনুমোদন ছিল না? এখন এসব বলাটা গ্রহণযোগ্য না।
“দেশে এনইআইআর অবশ্যই দরকার। কম-বেশি সব দেশেই এটা বিভিন্ন ফরম্যাটে আছে। কিন্তু আমাদের এখানে যে ভুলটা তারা করেছে বৈশ্বিক যেই কোম্পানিগুলো এই কাজটায় দক্ষ তাদের সঙ্গে কোন যোগাযোগ করা হয়নি। কিছু লোকাল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়ে এটা করতে গিয়ে তারা গুবলেট পাকিয়ে ফেলেছে।”
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশ থেকে ফোন নিয়ে এলে বা ফরেনাররা এলে কী হবে তা নিয়ে দুই রকমের ব্যাাখ্যা এসেছে। আবার অনলাইনে কীভাবে এ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে, তাও স্পষ্ট নয়। বিটিআরসি তার লিডারশিপের জায়গা থেকে এনইআইআর বাস্তবায়সন যথাযথভাবে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হয়নি।”
রাশেদ মেহেদী বলেন, বাংলাদেশে আইফোন একাধিকবার তাদের ডিলারশিপ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু আইফোন বাংলাদেশে আসেনি শুধুমাত্র এনইআইআর না থাকার কারণে।
“স্যামসাংও এটা নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। অথচ থাইল্যান্ডে এই হ্যান্ডসেট রেজিস্ট্রেশনের কাজটাতে অন্যতম পরামর্শক ছিল অ্যাপল (আইফোন)। অ্যাপলই প্রথম এই ধরনের হ্যান্ডসেট রেজিস্ট্রেশনের কার্যক্রমটা গোটা পৃথিবীতে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করেছে।”
তিনি বলেন, “দ্বিতীয়ত আমাদের এখানে গ্রে মার্কেটের যে বড় প্রভাবশালী গোষ্ঠী আছে, যারা এখানে ফোনগুলো নিয়ে আসে হুন্ডি বা মানি ল্ডনারিংয়ের মাধ্যমে, তাদের পেছনে বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠী আছে। এ কারণে এর আগেও এটা হয়নি, এখনো হচ্ছে না।”
রাশেদ মেহেদী বলেন, “বাংলাদেশে আইফোন, স্যামসাংয়ের মত ফ্ল্যাগশিপ ফোনের সেকেন্ডহ্যান্ড একটা বড় বাজার আছে। এনইআইআর বাস্তবায়ন হলে যারা ফোন বিক্রি করবে তারা ভালো দাম পাবে এবং ক্রেতারাও ঠকবে না। তদুপরী ফোন ছিনতাই অনেক কমে আসবে। কারণ এই ব্যবস্থায় ছিনতাই হওয়া ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে না।”
পুলিশের একজন কর্মকর্তা বললেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে ছিনতাই হওয়া ফোন শনাক্ত করা বা তা নেটওয়ার্কে অকার্যকর করে দেওয়া সহজ হবে।
আর ডিজিটাল ক্ষেত্র ব্যবহার করে দেশে অপরাধ বাড়ছে, কিন্তু অপরাধীদের শনাক্ত করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। বিশেষ করে সারা দেশে লাখো মানুষ মজেছেন অনলাইন জুয়ায়, ব্যাঙের ছাতার মত ছড়িয়েছে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট। এরা ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বেনামি সিমকার্ড কিনে বিকাশ, নগদের মত এমএফএস ব্যবহার করে লেনদেন করছেন।
কিন্তু তাদের শনাক্ত করতে গেলে দেখা যাচ্ছে সবই ভুয়া। হুমকি, গুজব ছড়ানো–এসবেও ব্যবহৃত হচ্ছে ভুয়া সিমের বেনামা অ্যাকাউন্ট।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “সিমকার্ড নিবন্ধনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সিমের দাম কম হওয়ায় বেনামা সিম এখন ডাল-ভাত হয়ে গেছে, বাজারে হাত বাড়ালেই মেলে। সেইসব অপরাধীদের শনাক্ত করার জন্য সিমকার্ডের পাশাপাশি মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলোকেও নিবন্ধনের আওতায় আনার জন্য অনেকদিন ধরেই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।”
