Published : 03 Jan 2026, 05:51 PM
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) চালুর পর নকল বা ‘ক্লোন ফোন’ নিয়ে ‘ভয়াবহ তথ্য’ দিল সরকার।
দেশের নেটওয়ার্কে বর্তমানে কোটি কোটি নকল আইএমইআই নম্বরে মোবাইল হ্যান্ডসেট চালু রয়েছে, তবে সেসব এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না বলে শনিবার সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে তুলে ধরা হয়েছে।
গত ১০ বছরের হিসেবের তথ্য দিয়ে সেখানে বলা হয়, শুধু একটি আইএমইআই নম্বরে (99999999999999) পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি মোবাইল ফোন।
আরও কিছু আইএমইআই নম্বরের একটা তালিকা দিয়ে বলা হয়েছে, সাড়ে ১৯ লাখ ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর 440015202000, যেগুলো ‘ডুপ্লিকেট’ হিসেবে আনা হয়েছে।
এ ছাড়া 35227301738634 নম্বরে সাড়ে ১৭ লাখ, 35275101952326 নম্বরে সোয়া ১৫ লাখ, আরেকটি নম্বরে আছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস।
সরকার বলছে, চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে ব্যাপকভাবে সচল এসব ফোন সারা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ফোন সেটগুলো বন্ধ না করে আপাতত ‘গ্রে’ হিসেবে ট্যাগ করা হবে।
কারণ হিসেবে তথ্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, জনজীবনে অসুবিধা তৈরি হয় এমন কোনো পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকার নেবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনের বরাতে বিবরণীতে বলা হয়, ৭৩ শতাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে।
‘আন-অফিসিয়াল’ নতুন ফোনের নামে নকল ফোন বিক্রি করার এমন প্রতারণাকে ‘অভাবনীয় ও নজিরবিহীন’ বর্ণনা করে ‘জনস্বার্থে’ এ চক্রের লাগাম টানা জরুরি বলে মনে করছে সরকার।
কর ফাঁকি বন্ধের পাশাপাশি নিম্নমানের ফোন দেশে ঢোকা বন্ধ করতে সরকার হ্যান্ডসেট নিবন্ধনে এনইআইআর পদ্ধতি কার্যকরের উদ্যোগ নেয়। এই বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার পর কেবল সরকার অনুমোদিত বৈধ হ্যান্ডসেটই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকতে পারবে। তবে এনইআইআর চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত নেটওয়ার্কে ব্যবহার হওয়া কোনো ফোনই বন্ধ হবে না।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন থেকে এনইআইআর চালুর ঘোষণা ছিল, যার প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। গত ৭ ডিসেম্বর বিটিআরসি কার্যালয় ঘেরাও করেন ব্যবসায়ীরা। দিনভর সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করেন। পরে এনইআইআর চালুর দিনক্ষণ ১৫ দিন পিছিয়ে ১ জানুয়ারি করার ঘোষণা দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।
বৃহস্পতিবার থেকে এই সিস্টেম চালুর দিনই বিটিআরসি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন একদল মোবাইল ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৪৫ ব্যবসায়ীকে পরদিন কারাগারে পাঠায় আদালত।
এনইআইআর চালুর দিন থেকে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের এনআইডি দিয়ে বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন থাকার অভিযোগ করেন।
শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে দিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, এ সমস্যা সমাধানে কিছুটা সময় লাগবে।
তিনি বলেন, এনইআইআর কার্যক্রম চালু হলেও আগামী ৯০ দিন কারও অবৈধ কিংবা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ হবে না।
এক এনআইডিতে অনেক মোবাইল ফোন রেজিস্ট্রেশন দেখানোর কারণের ব্যখ্যায় তিনি বলেন, “আমরা অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় ৩ বিলিয়নের বেশি ডেটা সেট পেয়েছি। অর্থাৎ অপারেটররা ‘হিস্টোরিক ডেটা’সহ সবকিছুই সিস্টেমে তুলেছে। তবে মাইগ্রেশনের তারিখটা এখনকার দেখানো হয়েছে বলে, অনেকের এনআইডিতে সচল সিম বা হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে।”
বিটিআরসি এবং মোবাইল অপারেটররা যৌথভাবে এই নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, “ধীরে ধীরে হিস্টোরিক ডেটা ব্যাকগ্রাউন্ডে আর্কাইভ করে শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের সংখ্যা দেখানো হবে। এজন্য আমাদের কিছুটা সময় লাগবে।”