রুশ দূতাবাসের বক্তব্য ‘অযৌক্তিক, আত্মঘাতী’: টিআইবি

টিআইবি বলেছে, তাদের উদ্বেগকে রুশ দূতাবাস যে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ নিয়েছে, সেটা ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছে তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 Sept 2022, 04:38 PM
Updated : 22 Sept 2022, 04:38 PM

বাংলাদেশের গ্যাস অনুসন্ধান ও গম কেনার চুক্তির বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বিবৃতির প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকায় রুশ দূতাবাস যে বক্তব্য দিয়েছে, তারও সমালোচনা করেছে দুর্নীতি নিয়ে কাজ করা সংস্থাটি।

 বৃহস্পতিবার পাল্টা বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, তাদের উদ্বেগকে ‘পশ্চিমা শক্তি ও রাশিয়ার বৈরিতার সঙ্গে যুক্ত করার’ এই প্রচেষ্টা পুরোপুরি ‘অযৌক্তিক এবং আত্মঘাতী’।

 তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গম আমদানি বা গ্যাস অনুসন্ধানসহ কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি বা পণ্য সরবরাহকারী কোনো দেশ সম্পর্কে টিআইবির কোনো আপত্তি নেই।

 “টিআইবির জন্য একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল যথাযথ প্রক্রিয়া; দেশের অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার বা ভ্যালু ফর মানি এবং সর্বোপরি এই ধরনের চুক্তিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করা।”

 এর প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে রুশ দূতাবাস টিআইবিকে ‘পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত’ এবং টিআই-রাশিয়াকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করে।

 সে প্রসঙ্গ টেনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, রাশিয়ান দূতাবাস যে বিষয়টি বুঝতে পারেনি, তাতে টিআইবি হতাশ হলেও, অবাক হয়নি।

 “রাশিয়ায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য কাজের জন্যই যে টিআই-রাশিয়াকে ক্লেপ্টোক্রেটিক রাশিয়ান সরকারের নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছে, তা সর্বজনবিদিত। তাছাড়া টিআই-ই একমাত্র এনজিও বা সিএসও নয়, যা রাশিয়ান শাসনব্যবস্থার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং নিপীড়িত হতে হয়েছে।”

বিবৃতিতে টিআইবি বলছে, “উল্লিখিত দুটি চুক্তির বিষয়ে টিআইবির উদ্বেগের পেছনের যুক্তি পরপর দুটি বিবৃতিতে পর্যাপ্তভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে, যা গণমাধ্যমের সূত্রে ব্যাপকভাবে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তা টিআইবির ওয়েবসাইটেও উন্মুক্ত রয়েছে।”

 রুশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চুক্তি দুটিকে ঘিরে আরও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে মন্তব্য করে টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, “ন্যাশনাল ইলেকট্রিক এলএলসি রাশিয়ান রপ্তানিকারকের এজেন্ট হিসেবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল না বলে দূতাবাসের দাবি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

 “ওই সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, তথাকথিত স্থানীয় এজেন্ট চূড়ান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে চুক্তি সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন।”

 নিজেদের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় টিআইবি বলছে, “টনপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের ল্যান্ডিং খরচ এবং এই উচ্চ হারে ৫ লাখ টন পণ্যের চুক্তিতে কীভাবে ভ্যালু ফর মানি নিশ্চিত করা হয়েছে- এই বিষয়ে রাশিয়ান দূতাবাসের বিবৃতিতে কোনো গ্রহণযোগ্য যুক্তি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 “অধিকন্তু, ‘জিটুজি ভিত্তিতে গম আমদানির খরচ উন্মুক্ত টেন্ডারিং পদ্ধতির চেয়ে কম’- এই দাবিটিও গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ জিটুজি পদ্ধতির ক্ষেত্রে ও নির্ধারিত দর বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক দরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই দর বিশ্ববাজারে তূলনামূলক কম ছিল এবং আরও কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।”

 টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, গ্যাস অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করার চেষ্টাও প্রাসঙ্গিক নয়। গ্যাজপ্রমের তুলনায় বাপেক্সের গ্যাস অনুসন্ধানের অনুমিত ব্যয় বিবেচনা করে টিআইবি তার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

 “এই চুক্তির অধীনে গ্যাজপ্রমের ব্যয় বাপেক্সের চেয়ে তিন গুণ বেশি ছিল কেন- তা রাশিয়ান দূতাবাস ব্যাখ্যা করলে দূতাবাসের প্রয়াস অর্থবহ হত।”

 বিবৃতিতে বলা হয়, টিআইবির উদ্বেগকে রুশ দূতাবাস যে ‘গুরুত্বের সঙ্গে’ নিয়েছে, সেটা ‘ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছে সংস্থাটি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক