বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) আয়োজনে ‘টেকসই আগামীর জন্য ডাল’ প্রতিপাদ্যে শুক্রবার প্রথমবারের মত ‘বিশ্ব ডাল দিবস’ পালিত হয়েছে।
Published : 10 Feb 2023, 09:24 PM
বছরজুড়ে প্রায় ২৬ লাখ টনের চাহিদা থাকলেও দেশে মাত্র ১০ লাখ টন ডাল উৎপাদন হচ্ছে, যা চাহিদার মাত্র ৩৮ শতাংশ।
ফলে ঘাটতি পূরণে প্রতিবছর অর্ধেকেরও বেশি বিদেশ থেকে আনতে হচ্ছে; এই আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সচিব ওয়াহিদা আক্তার।
শুক্রবার ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে প্রথমবারের মত ঢাকায় বিশ্ব ডাল দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, এ বছর ধানের উৎপাদন না কমিয়েই আড়াই লাখ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। তেমনি ডালের উৎপাদন বাড়াতেও সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি নেওয়া হবে, যাতে বছরে ১৩-১৪ লাখ টন ডাল উৎপাদন করা যায়।
ডাল উৎপাদনে গুরুত্বারোপের কারণ হিসেবে তিনি বলেন, “আমরা ধানের উৎপাদন না কমিয়ে ডালের উৎপাদন বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছি। কারণ প্রাণিজ প্রোটিনের উত্তম উৎস হল ডাল। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা প্রাণিজ প্রোটিন খায় না। সেক্ষেত্রে এই ডাল দেহের সমস্ত প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।”
সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির কারণে ১৪ বছরে ডালের উৎপাদন প্রায় চারগুণ বেড়েছে বলে জানান ওয়াহিদা আক্তার।
এদিন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) আয়োজনে ‘টেকসই আগামীর জন্য ডাল’ প্রতিপাদ্যে প্রথমবারের মত ‘বিশ্ব ডাল দিবস’ পালিত হয়।
সেখানে কৃষিসচিবের মত এসিআইএআর এর ডেপুটি কোঅর্ডিনেটর এমজি নিয়োগীও ডাল উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে বলে জানালেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমি শুষ্ক পড়ে থাকে, যেখানে ডাল চাষ হতে পারে।
“ওখানের সব জমি লবণাক্ত না, নভেম্বর মাসে আমরা ডাল বুনতে পারি। যেমন দক্ষিণাঞ্চলের কলাপাড়ায় ধান ছাড়া কিছু হয় না। সেখানে আমরা গম এবং ডাল চাষ করে দেখাতে চাচ্ছি যে সেখানে দিনাজপুরের চেয়ে কোনো অংশে কম মানের গম বা ডাল হবে না।”
বিজ্ঞানীদের নিরলস প্রচেষ্টায় আধুনিক উচ্চফলনশীল ডালের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে বলে জানান বারি'র মহাপরিচালক দেবাশীষ সরকার।
তিনি বলেন, উচ্চফলনশীল জাতের চাষ ও সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে হেক্টর প্রতি ফলন আড়াই টনে উন্নীত করা সম্ভব হয়। ফলে কম জমিতে বেশি ডাল উৎপাদন হবে।
বারির ডাল গবেষণা কেন্দ্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বরাতে জানায়, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে গড়ে ৪৫ গ্রাম ডালজাতীয় খাবার প্রয়োজন। দেশে মাথাপিছু প্রাপ্যতা ২৮ গ্রাম হলেও মাত্র ১৭ গ্রাম ডাল খেয়ে থাকে, যা খুবই কম।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ মো. বখতিয়ার, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ সাজ্জাদ, পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, ডাল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন, সাবেক পরিচালক তপন কুমার দে, এসিআই অ্যাগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফএইচ আনসারী বক্তব্য দেন।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আশুতোষ সরকার।
এর আগে শোভাযাত্রা ও ডালের তৈরি বিভিন্ন খাবারের প্রদর্শনী হয়।