২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিমের উৎপাদন খরচ ও মুনাফা পর্যালোচনা করবে সরকার

দামের মৌসুমি ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় এক থেকে দেড় মাস ডিম সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 08:59 PM

Updated : 27 Sep 2026, 09:00 PM

ডিমের উৎপাদন খরচ এবং উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে কতটা মূল্য সংযোজন ও মুনাফা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করবে সরকার।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ডিমের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা নিয়ে ডিম ও পোলট্রি খাতের ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন।

উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত ডিমের দামের ব্যবধান পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “সরবরাহ ব্যবস্থার কোন পর্যায়ে অস্বাভাবিক ব্যয় বা অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করতে হবে।”

বাজার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে উৎপাদক, পাইকার, আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, “সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করাও সরকারের দায়িত্ব।

“এ ক্ষেত্রে সরকার ও ব্যবসায়ীদের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।”

সভায় ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভুট্টা, সয়াবিনসহ পোলট্রি খাদ্যের বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় প্রতি ডিমের উৎপাদন খরচ প্রায় ১১ টাকায় পৌঁছেছে।

তাদের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদক পর্যায়ে প্রতি ডিমের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৭ টাকা ৯১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে প্রায় ১১ টাকা ৩০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গত এক সপ্তাহে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ডিমের দাম ডজনে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ১৫৫-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর আগে দীর্ঘদিন ধরে এক ডজন ডিমের দাম ১৫০ টাকা ছিল।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডিম দেশের সাধারণ মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্যপণ্য। এ পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর সরাসরি চাপ পড়ে।

“তাই এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না, যাতে সাধারণ ভোক্তাকে অযৌক্তিকভাবে বেশি দাম দিতে হয়।”

তিনি বলেন, “ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন এবং যৌক্তিক মুনাফা করবেন—এটি স্বাভাবিক। তবে ব্যবসার নামে অস্বাভাবিক মুনাফা করা, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থায় অযৌক্তিক বাধা তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার সুযোগ নেই।”

সারা বছর ডিমের দাম স্থিতিশীল রাখতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়ার কথাও বলেন মন্ত্রী।

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বলেন, বছরের একটি বড় সময় উৎপাদন খরচের নিচে ডিম বিক্রি করতে হলেও দাম বাড়ার সময়টিই বেশি আলোচনায় আসে। উৎপাদক থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে সাধারণত দেড় থেকে দুই টাকা পর্যন্ত মূল্য সংযোজন হয়।

দামের মৌসুমি ওঠানামা কমাতে অতিরিক্ত উৎপাদনের সময় এক থেকে দেড় মাস ডিম সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা।

পাশাপাশি টার্নওভার কর ও আয়করের চাপ যৌক্তিক করা, পোলট্রি খাদ্যের উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণের প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং প্রতিদিনের উৎপাদন, সরবরাহ ও বাজারদরের তথ্য প্রকাশের সুপারিশ করেন তারা।

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডিমের দাম কমে আসতে পারে বলেও আশা দেন ব্যবসায়ীরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, কাজী ফার্মস লিমিটেডের পরিচালক কাজী জিসান হাসান, ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের মশিউর রহমান, অ্যানিমেল হেলথ কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ইসি মেম্বার আফতাব আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর অর্গানাইজিং সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, বিপিআইসিসি ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের মো. নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাফির রহমান সভায় উপস্থিত ছিলেন।