এফবিসিসিআইয়ের ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট’ মার্চে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন দিনের এই সামিটের উদ্বোধন করবেন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 Jan 2023, 03:50 PM
Updated : 19 Jan 2023, 03:50 PM

বাংলাদেশে শত বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা ক্ষেত্রগুলো বিশ্বের সম্ভাবনাময় বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরতে আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘বাংলাদেশ বিজনেস সামিট’। 

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের আয়োজনে আগামী ১১ থেকে ১৩ মার্চ তিনদিনের এই সম্মেলন আয়োজন করা হবে। সংগঠনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি-বিডার সহযোগিতায় এই আয়োজন করছে এফবিসিসিআই। 

বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, একাধিক সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাই কমিশনার ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই সামিটের উদ্বোধন করবেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন)-এর বিজনেস এডিটর এট লার্জ রিচার্ড কোয়েস্টের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবেন। 

দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে বৈশ্বিক ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, উদ্ভাবক, নীতিনির্ধারক, বাজার বিশ্লেষক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তুলে ধরতে এই আয়োজন অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করছে এফবিসিসিআই। 

বাংলাদেশে উৎপাদিত সেরা পণ্যগুলোকে সামিটে উপস্থাপন করা হবে। দেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা, বাধা এবং করণীয় নির্ধারণে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী, বিশ্লেষক এবং নীতিনির্ধারকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে তিনটি প্ল্যানারি সেশন, ১৩টি কারিগরি সেশন, উন্মুক্ত আলোচনা, বিজনেস-টু-বিজনেস (বি-টু-বি) ও নেটওয়ার্কিং সেশন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ বিজনেস সামিট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়ে এফবিসিসিআই একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ এখন যোগাযোগ ও উৎপাদনের হাব। বৈশ্বিক সংকটেও দেশের জিডিপির ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে যে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে। টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকার খাদ্য নিরাপত্তা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারসহ সৃজনশীলতায় জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ।”

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণকারী দেশ সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, জাপান, ভারত, চীন, রাশিয়া এবং আমেরিকার বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতি এখন রপ্তানির্ভর শিল্পকারখানায় রূপান্তরিত হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে।” 

সামিটে অংশ নিয়ে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে নিজেদের দেশে ব্র্যান্ডিং করতে কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। 

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ জানান, বিদেশি ক্রেতাদের পরামর্শে তিনি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও অনেক দেশে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছিলেন। কিন্তু ওইসব দেশের শ্রমিকের উচ্চ বেতনের কারণে তাকে আবার বাংলাদেশেই ফিরে আসতে হয়েছে। 

“এখানে বর্তমানে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা শুরু হয়েছে। এখানে পণ্য উৎপাদনে শ্রমিকের বেতন বাবদ মাত্র ২০ শতাংশ খরচ করতে হয়। তাই সবকিছুর বিচারে এখনও বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ ক্ষেত্র।” 

এফবিসিসিআইর সভাপতি বলেন, “উন্নত ব্যবসা পরিবেশ ও প্রযুক্তির সহায়তায় সৃজনশীল অর্থনীতি তৈরিতে কাজ করছে বেসরকারি খাত। তিন দিন ব্যাপী বাংলাদেশ বিজেনেস সামিটে বিশ্ব ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থান, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য, বিনিয়োগ প্রতিযোগিতাসহ অংশীদারিত্বের বিশেষ সুযোগ সুবিধা তুলে ধরা হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক