১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ধামাকার ‘৬২ কোটি টাকার’ সম্পত্তি জব্দ

আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ পাচার হয়েছে এবং আসামিদের প্রায় সবাই দেশের বাইরে, বলছে সিআইডি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jun 2025, 09:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:16 PM

ই-কমার্স কোম্পানি ‘ধামাকা শপিংয়ের’ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা প্রায় ৬২ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দের কথা বলেছে সিআইডি।

বৃহস্পতিবার সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলে, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জুন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ এসব সম্পত্তি জব্দের আদেশ দেন।

গ্রাহকের প্রায় ১১৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে এ আদেশ দেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জসীম উদ্দিন চিস্তীর নামে বনানী মডেল টাউনে ৫ কাঠা জমিতে নির্মিত প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের বহুতল ভবন রয়েছে। 

মাইক্রো ট্রেড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের নামে গাজীপুরের কাশিমপুর পূর্ব বাগাবাড়ী এলাকার ১২ কোটি টাকা মূল্যের ৪১ শতাংশ জমিও আছে জব্দের তালিকায়।

সিআইডি বলছে, "ধামাকা শপিং নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর এবং সিটি করপোরেশন থেকে কোনো বৈধ নিবন্ধন না নিয়েই ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের ছত্রছায়ায় পরিচালিত হচ্ছিল। 

“প্রতিষ্ঠানটি স্বল্প মূল্যে পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার গ্রাহক ও বিক্রেতার কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।"

ধামাকা শপিং'র নিজস্ব কোনো ব্যাংক হিসাব না থাকার কথা জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারা ওই টেলিকমের সাউথইস্ট ব্যাংক, সিটি ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করত।

"সাউথইস্ট ব্যাংকের একটি হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, সেখানে ধামাকা শপিংয়ের ব্যবসাসংক্রান্ত প্রায় ৫৮৮ কোটি ৯১ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, অথচ ২০২১ সালের ২৭ জুন হিসাবটিতে মাত্র ৯৩ হাজার ৭৩১ টাকা স্থিতি ছিল, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং আর্থিক জালিয়াতির প্রমাণ বহন করে।"

মানিলন্ডারিং অপরাধ উল্লেখ করে সিআইডি বলছে, ধামাকা শপিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ প্রতিষ্ঠানের এমডি তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করে।

"এমনকি মিকো ট্রেড ফুড অ্যান্ড বেভারেজ' নামের একটি অ্যাকাউন্টে এসব অর্থ অবৈধভাবে স্থানান্তর করা হয়, যা মানি লন্ডারিংয়ের শামিল।"

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বনানী থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন মামলা হয়, যা পরবর্তী সময়ে সিআইডি তদন্ত করে।

সিআইডি তদন্তে জানতে পারে, আত্মসাৎ করা অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং আসামিদের প্রায় সবাই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন।