পারস্পরিক আস্থা দিতে পারে সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ার সুযোগ: রেহমান সোবহান

তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল শুল্ক ও অশুল্ক বাধা।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 4 Nov 2023, 10:33 AM
Updated : 4 Nov 2023, 10:33 AM

পরস্পর ‘আস্থাহীনতা’ থেকে বেরিয়ে এসে অবাধ আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ার সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান।

শনিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত দুদিন ব্যাপী ‘১৪তম দক্ষিণ এশিয়া অর্থনৈতিক সম্মেলন’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে এই আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ছিলেন বিশেষ অতিথি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া এই সম্মেলনে শ্রীলঙ্কার গভর্নর পি নন্দলাল বিরাসিংহ, নেপালের সাবেক গভর্নর ও অর্থমন্ত্রী যুবরাজ খাতিবাদা, পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর ইশরাত হোসাইন এবং ভারতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘আরআইএস’ এর মহা পরিচালক সচিন চক্রভেদিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে রেহমান সোবহান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অবাধ আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিশাল সুযোগ রয়েছে।

“কিন্তু এই অঞ্চলের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য প্রবাহে পারস্পরিক আস্থাহীনতার কারণে সেই সুযোগ কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।”

তার মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল শুল্ক ও অশুল্ক বাধা।

এসব বাধা দূর করে এক দেশ অন্য দেশে বিনিয়োগ এবং সীমান্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করতে পারলে ‘আসিয়ান’ এর মত এ অঞ্চলও শক্তিশালী একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে রেহমান সোবহানের বিশ্বাস।

প্রবীণ এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, মুক্তবাণিজ্যের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সমৃদ্ধির জন্য সকল দেশকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সকল দেশের সুবিধা হয়, তেমন নীতি গ্রহণ করতে হবে।

“প্রত্যেকটি দেশের অর্থনীতির একটা নিজস্ব দিক থাকে। সংশ্লিষ্ট দেশটির জন্য সেই সুবিধা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় সেজন্য এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক বৈঠক করতে হবে। সকল দেশের রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে ধারাবাহিক বৈঠক করে সবার সুবিধা নিশ্চিত হয় এই রকম কৌশল বের করতে হবে।”

তিনি বলেন, এক দেশের পরিবহণ যাতে অবাধে অন্য দেশে যেতে পারে, এক দেশের শ্রমিক যাতে অন্য দেশে কাজ করার সুযোগ পায় এবং অবাধ সীমান্ত নিশ্চিত হয়, সেজন্য সব ব্যবস্থা করতে হবে।

“এভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আসিয়ান বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট গড়ে তোলা যায়,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশের প্রথম সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা এই অর্থনীতিবিদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য নিশ্চিত করতে ভারতকেই এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি টেকসই উন্নয়নের (এসডিজি) লক্ষ্য অর্জনে কাজ করছে।

২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি পূরণ করতে হলে পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়নে ব্যাপক বিনিয়োগ দরকার বলেও মত দেন তিনি।

স্পিকার বলেন, এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অবাধ বিনিয়োগ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে একটি ‘ডায়ানামিক সাউথ এশিয়া’ গড়া সম্ভব।

গত দেড় দশকে বাংলাদেশের অগ্রগতির গল্প তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা দারিদ্র্য বিমোচনকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। দারিদ্র্যের হার এখন ৪০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বানানোই বাংলাদেশের পরবর্তী টার্গেট।”

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি যে বিশ্বের মোট অর্থনীতির ৮ শতাংশ, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, “আমাদের প্রতিটি সীমান্তে অশেষ সুযোগ থাকলেও আমরা সেই সুযোগ নিতে পারছি না। অবিশ্বাসের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে পারলে এ অঞ্চলে অশেষ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি।”

আঞ্চলিক উন্নয়ন কীভাবে কাজ করে, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত বিষয় হচ্ছে পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন। আমাদের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। অথচ নেপালে পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর বিশাল সুযোগ আছে।”

দক্ষিণ এশিয়াকে অর্থনৈতিক জোট করা সম্ভব হলে নেপালে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সকল দেশই লাভবান হতে পারে বলে তিনি মত দেন।