১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নগদে অস্থিরতা: ‘শতকোটি বেহাতের’ অভিযোগ নিয়ে যে জবাব এল

নগদের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সমালোচনা চলছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 May 2025, 02:46 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:49 PM

মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার কোম্পানি নগদের অনিয়ম-দুর্নীতি আর নেতৃত্ব নিয়ে যে অস্থিরতা, তা ঘটনা পরম্পরায় এখনও অব্যাহত আছে। 

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের যে তালিকা, তাতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালীদের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা ব্যক্তিদের নামও।

সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ এসেছে, প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদও দুর্নীতি আর লুটপাটে যুক্ত।

শুক্রবার ‘যেভাবে বেহাত নগদের শতকোটি টাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন  প্রকাশ করে মানবজমিন, যেখানে দেড়শ কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ তোলা হয়।

১০ দিন আগে আতিক মোর্শেদ নিজের স্ত্রীকে নগদে চাকরি দিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি। 

নগদের লুটপাট ও নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সমালোচনা চলছে। 

সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে শুক্রবার ফেইসবুকে পরপর দুটি পোস্ট দিয়েছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। মানবজমিনের কাছে দেড়শ কোটি টাকা লুটপাটের হিসাবও চেয়েছেন। 

ফেইসবুকে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন আতিক মোর্শেদও, যেখানে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এর আগে নগদের বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি আসে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে। 

নতুন আলোচনার সূত্রপাত যেভাবে

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর গত বছরের ২১ অগাস্ট নগদের আগের পর্ষদ ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক বদিউজ্জামানকে দিদারকে প্রশাসক করা হয়। 

পরদিন নগদের সাবেক (বর্তমানে পলাতক) সিইও তানভীর এ মিশুক এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। 

ওই সময় নগদে ছয় সদস্যের একটি ব্যবস্থাপনা পর্ষদ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক, যার চেয়ারম্যান করা হয় সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস’র সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদকে। কে এ এস মুরশিদ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদের ভাই।

নগদে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদন করেন কোম্পানির সাবেক পরিচালক সাফায়েত আলম। সেই রিট মামলার রায়ে নগদে প্রশাসক ও নতুন বোর্ডের নিয়োগকে আদালত ‘বেআইনি’ ঘোষণা করেছে বলে গত ১৩ মে কোম্পানির তরফে বলা হয়। 

এর একদিন পরেই নগদের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেন সাফায়েত আলম। নগদের সাবেক সিইও তানভীর এ মিশুকের লোক হিসেবে পরিচিতি আছে সাফায়েতের।

এর পাঁচ দিন পরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর অভিযোগ তোলেন, আদালতের রায়ে নগদের সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া সাফায়েত আলম ‘জালিয়াতি করেছেন’। তার ওই পদে থাকার ‘অধিকার নেই’।

মাঝের এই অস্থির সময়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আতিক মোর্শেদ নগদের কার্যক্রমে খবরদারি করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে শুক্রবার মানবজমিনে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। 

সেই প্রতিবেদনে ২ মাসে নগদের অন্তত দেড়শ কোটি টাকা সরানোর অভিযোগ করা হয়। শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের এপিএস আতিক মোর্শেদ বর্তমানে নগদে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন। 

নগদ নিয়ে মানবজমিনের সংবাদের প্রতিক্রিয়ায় ফেইসবুক পোস্ট দেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এরপর বিকালে মানবজমিনের প্রতিবেদন সংশোধন করে বলা হয়, “আতিক মোর্শেদ বর্তমানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের সঙ্গে কাজ করেন। ডেপুটি সিইও (মুয়ীজ নাসনিম ত্বকি) এবং আতিক মিলে নগদের সবকিছু সামলাচ্ছেন। নগদ ভবনের ৬ তলার একই রুমে নিয়মিত অফিস করছেন আতিক। সম্প্রতি তিনি  তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা জুঁইকে নগদের ম্যানেজার কমপ্লায়েন্স পদে বসিয়েছেন। চাকরি দিয়েছেন নিকট আত্মীয়দেরও।”

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ছবি: ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

ফয়েজ তৈয়্যবের প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার দুপুরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ফেইসবুকে লেখেন, “সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসকের ওপর স্থগিতাদেশ এলে নগদে অস্থিরতা শুরু হয়। এটা ব্যবহার করে সাফায়েত গং ‘হায়ারিং-ফায়ারিং’ শুরু করে। তখন ডাক বিভাগ থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করা হয়, যেন সাফায়েতের সম্ভাব্য সহযোগী হিসেবে মুইজ নামের লোককে (মানবজমিনের রিপোর্টে এসেছে) আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তার মাধ্যমে তারা নগদের অপকর্ম সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করে। 

“ডাক বিভাগ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে নিজেকে নগদের সিইও দাবি করা সাফায়েতকে (বাংলাদেশ ব্যাংকের মামলার আসামি) গ্রেপ্তার করার উদ্যোগ নেয়। পরে জানা যায়, তার একাধিক পাসপোর্ট আছে। নগদে দেখানো তার পাসপোর্ট ৮ জানুয়ারি থেকে দেশের বাইরে এবং মালয়েশিয়ায় দেখাচ্ছে। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে সে ক্যান্টনমেন্টে অবস্থান করছিল। সিআইডির অভিযানের প্রস্তুতির সময় সে পালিয়ে যায়।”

তৈয়্যব বলেন, “সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিযুক্ত প্রশাসকের ওপর স্টে অর্ডার এলে তানভির মিশুক নিজেকে সিইও দাবি করে মেইল দেয় এবং একই মেইলে বর্তমান পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানায়। পরে সাফায়েত নিজেকে সিইও দাবি করে, মুইজকে হেড অব এইচআর নিয়োগ দেয় এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা বরখাস্ত ও বদলি শুরু করে প্রতিষ্ঠানকে অস্থিতিশীল করে তোলে। শুরু হয় প্যানিক। এমতাবস্থায় ডাক বিভাগ নিজের লাইসেন্সিংয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়।”

তিনি লিখেছেন, “মুইজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটকের পরে অনুরোধ করা হয়েছে যেন তাকে ছেড়ে দেওয়ার আগে মুচলেকা নেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নাই। সে নগদের সাবেক লোকদের কোনো হেল্প করবে না এই মর্মে মুচলেকা দেয়। সিআইডি তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছে। নতুন কোনো অনিয়ম প্রমাণ হলে তাকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ করা হয়। 

“সাফায়েত পালানোর পর শ্যামল দাস অ্যাক্টিং সিইও হয়। আরেক দফা অস্থিরতা শুরু হয়। এমতাবস্থায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ডাক বিভাগে নগদের স্বঘোষিত সিইও, ডেপুটি সিইওকে ডেকে এনে গত দশকের সকল অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। ১৪ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা, ৫ জনকে বদলি করা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ডাক বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অনিয়ম (ভুয়া এজেন্ট, ভুয়া ই-কেওয়াসি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, জুয়ার সংশ্লিষ্টতা) নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এক পর্যায়ে তাদের ভারপ্রাপ্ত সিইও শ্যামল দাস ও ডেপুটি সিইও মুইজ ডাক বিভাগের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে রাজি হন।” 

তৈয়্যব লিখেছেন, “এর আগে নগদ থেকে মার্চ মাসে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য একটি চিঠি লিখেছিল। এটিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে ডাক বিভাগ দায়িত্ব বুঝে নেয়। ডাক বিভাগ নতুন ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসেবে ডাক বিভাগের পরিচালক জনাব তালেবকে সাময়িক দায়িত্ব দেয়।  নতুন সিইও গত ৩ মাসের সমস্ত খরচের হিসাব পত্র তৈরি করবে, অনিয়মের উপর বিশদ রিপোর্ট করবে, সেটা মিডিয়ায় প্রকাশ করবে- এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

তার ভাষ্য, “মূল লাইসেন্সধারী হিসেবে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করেছে বলে আমি মনে করি। চলমান ফরেন্সিক তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নগদের সকল অনিয়ম তদন্তে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে এবং সিআইডিকেও বিষয়াদি সার্বিকভাবে অবহিত করা হয়েছে। 

এরপর বিকাল ৫টা ৫৬ মিনিটে আরেকটি পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “টাকা সরানোর অভিযোগ পাওয়ার পর আমি নগদের কাছে পরিচালনা ব্যয় ও যাবতীয় বিলসহ দুই মাসের হিসাব জানতে চেয়েছি। তখন জানতে পারি, সব মিলিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে ওঠানো হয়েছে আনুমানিক ৪৩ কোটি টাকা। 

“এর মধ্যে কোম্পানির পরিচালনা ব্যয়, বেতন-ভাতা, ভাড়া, ভেন্ডর বিল সবই রয়েছে। তাই অভিযোগ ওঠা দেড়শ কোটির অঙ্ক আমি বুঝতে পারছি না। মানবজমিনকে অনুরোধ করব, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করতে, অর্থ সারানোর খাত গুলো উল্লেখ করতে। কোনো একক সংস্থা নয়; নতুন সিইওকে ত্রিপাক্ষিক একটা ফরেন্সিক করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। উল্লেখ্য, ১১ থেকে ২৭ মে সময়কাল ছাড়া বাকি সময় নগদের পরিচালনা বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনেই ছিল।”

আতিক মোর্শেদের প্রতিক্রিয়া

শুক্রবার রাতে ফেইসবুকে পোস্টে আতিক মোর্শেদ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “বর্তমানে তিনি ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। 'নগদ' ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়েরই একটি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজ সার্ভিসের দায়িত্ব ' থার্ড ওয়েভ টেকনোলজি ' নামে একটি প্রতিষ্ঠানের।”

তার ভাষ্য, “আমি নগদে গিয়েছি মাত্র দুইবার; ১৮ মে এবং ২০ মে। তাও অফিসিয়াল কাজে। সেখানে ডাক বিভাগের কর্মকর্তারাও ছিলেন। নগদের সিসিটিভি ক্যামেরা চেক করলেই তা প্রমাণিত হবে। সেই মিটিংয়ে নগদকে কীভাবে স্টেবল করা যায়, কার্যক্রম সচল রাখা যায়, এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলাম মাত্র।

“আমার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ, আমি আমার ওয়াইফকে নগদের একটি পদে বসিয়েছি। আমার বক্তব্য হল, আমার ওয়াইফ নিজের মেধা এবং যোগ্যতায় নগদে আবেদন করেছেন। নগদ কর্তৃপক্ষ তার পূর্বের অভিজ্ঞতা, মেধা এবং যোগ্যতার মানদণ্ড অনুসরণ করে তাকে সেখানে শর্ত সাপেক্ষে অস্থায়ী চাকরি দিয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ আমি নাকি নগদ থেকে ১৫০ কোটি টাকা সরিয়েছি। টাকা সরানোর অভিযোগ পাওয়ার পর ডাক বিভাগ থেকে নগদের কাছে পরিচালনা ব্যয় ও যাবতীয় বিলসহ ২ মাসের হিসাব জানতে চেয়েছিলাম। সেখানে জানতে পারি সব মিলিয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে ওঠানো হয়েছে আনুমানিক ৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে কোম্পানির পরিচালনা ব্যয়, বেতন-ভাতা, ভাড়া, ভেন্ডর বিল সবই রয়েছে।” 

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

এর আগে বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নগদ লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মধ্যে ২৭ মে একটি আনুষ্ঠানিক সভা হয়। সভায় নগদের ব্যবস্থাপনা বিষয়ক অস্থিতিশীলতা এবং বাজার প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।

“যেহেতু বাংলাদেশের আনুমানিক নয় কোটি মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক সেবা প্রদানের সাথে নগদ জড়িত, তাই তাদের ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অস্থিতিশীলতা সমাধানে উপস্থিত সবাই দায়িত্ব ভাগাভাগির বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন।”

মন্ত্রণালয় বলছে, “তার‌ই পরিপ্রেক্ষিতে নগদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামল বি দাস ডাক বিভাগের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করে নিজ দায়িত্ব, নগদের মালিকানা ও পরিচালনা পদ্ধতি এবং অভ্যন্তরীণ বর্তমান সব শেয়ারসহ অপারেশনাল কার্যক্রমের দায়দায়িত্ব ডাক অধিদপ্তরে হস্তান্তর করেন। 

“সভায় শ্যামল দাসের আবেদন গ্রহণ করে ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক আবু তালেবকে নগদের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার দায়িত্ব দেয় ডাক বিভাগ। নগদের ডেপুটি সিইও মুয়িজ তাৎক্ষণিক নতুন সিইও আবু তালেবকে স্বাগত জানিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তারা নগদে কর্মরত কাউকে চাকরিচ্যুত করবেন না এবং ঈদের আগেই সবার বেতন বোনাস পরিশোধ করার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নগদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। প্রশাসক বসানোর পর নিরীক্ষায় উঠে আসে, নগদ লিমিটেডে বড় ধরনের জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে। অনলাইন জুয়া, মানি লন্ডারিং, সাবেক মালিকদের অনুকূলে অর্থপাচার, ভুয়া পরিবেশক ও এজেন্ট দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানটিতে আর্থিক জালিয়াতি এবং অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক অর্থ বা ই-মানি তৈরি করা হয়েছে। 

“এসব কারণে ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার হিসাব মিলছে না। প্রতিষ্ঠানটিতে যখন এসব অনিয়ম হয়, তখন এর পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ ঘটনায় ২৪ জনকে আসামি করে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।”