Published : 06 Mar 2026, 07:18 PM
পাটপণ্য বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিতে এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদার সুযোগ কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘জাতীয় পাট দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “স্বল্পমূল্যে পাটের ব্যাগ তৈরি ও বিপণন করুন। বিশ্ব এখন টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এই সম্ভাবনার সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।”
বাসস জানায়, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ পরিহারের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “পাটপণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দিন। সাশ্রয়ী মূল্যের পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার করুন।”
পাটখাতে আধুনিক বিজ্ঞান ও উপযোগী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, পাটজাত পণ্যে নতুন উদ্ভাবন ও বৈচিত্র্য আনতে হবে। সেই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন, আধুনিক, মানসম্মত, নান্দনিক ও ব্যবহারোপযোগী পণ্য উদ্ভাবনে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
রাষ্ট্রপতি পাটচাষিদের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চফলনশীল চাষপদ্ধতি অনুসরণ এবং মানসম্মত আঁশ উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেন।
তিনি বলেন, “পণ্যের টেকসই মান সংরক্ষণ, নিত্যনতুন ডিজাইন ও ব্যবহার উপযোগিতাকে অগ্রাধিকার নিতে হবে। এই খাতে দক্ষ জনবল সৃষ্টি ও পাটপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে।”
পাট ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, উদ্ভাবন, বৈচিত্র্য সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগে উৎসাহ, উচ্চ মূল্য সংযোজন, শিল্পের আধুনিকায়ন, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং দেশ-বিদেশে বাজার সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি সব অংশীজনকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পাটখাতকে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ও আধুনিক করতে, গবেষণা সম্প্রসারণে এবং উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ উদ্ভাবনে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এসব উদ্যোগে পাটখাতের সুদিন ফিরবে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
অনুষ্ঠানে তিনি ভার্চুয়ালি শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে নয় দিনব্যাপী ‘পাট ও বহুমুখী পাটপণ্যের মেলা’র উদ্বোধন করেন।
পাটখাতে অবদানের জন্য ১৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, সচিব বিলকিস জাহান রিমি, পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. নূরুল বাসির এবং বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল হোসেন বক্তব্য দেন।