Published : 16 May 2026, 06:39 PM
কর ফাঁকি কমাতে তামাক খাত দিয়ে ‘কঠোর নজরদারি’ শুরু করার কথা বলেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
তিনি বলেছেন, “তামাক শিল্পকে আরও কঠোর ব্যবস্থার মধ্যে আনা হবে। উৎপাদন পর্যায়ে কাউন্টিং মেশিন, কাউন্টিং ক্যামেরা, কিউআর কোড ও উন্নত রাজস্ব স্টিকার ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
“যদি আমরা তামাক খাতে সফল হই, এরপর সব পণ্যে যাব।”
শনিবার ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা ভবনের সেমিনার কক্ষে প্রাক বাজেট সংলাপে তিনি এ উদ্যোগের কথা জানান।
‘রেভিনিউ মোবিলাইজেশন: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিজ’ শিরোনামে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’ (পিপিআরসি) এ সংলাপ আয়োজন করে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
সেই তথ্য তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, “যেহেতু ১১ জুনে আমাদের বাজেট পার্লামেন্টে চলে আসবে, সুতরাং আমরা জানি, সরকার কোথায় কত টাকা বরাদ্দ করেছে।”
তিনি বলেন, আগামী বাজেটে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য সহজীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দ্রব্যমূল্যের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের স্বস্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
“আপনারা যখন বাজেট দেখতে পাবেন, সেখানে অবশ্যই কিছু কিছু নতুন ক্ষেত্র থাকবে, যেহেতু আমাদের কালেকশন বাড়াতে হবে।”
করদাতার হয়রানি কমাতে রাজস্ব প্রশাসনকে ‘ফেসলেস’ করার ওপর জোর দিয়ে আবদুর রহমান খান বলেন, করদাতারা যেন ঘরে বসে নাগরিক দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
তার ভাষায়, “আজ সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো হয়রানি। হয়রানি দূর করার একটাই উপায়, আমরা যদি ‘ফেসলেস’ করতে পারি।”
আগামী ১ জুলাই থেকে আয়কর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থাও চালুর আশা প্রকাশ করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।
সংলাপে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান।
পিপিআরসি বলছে, টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সংলাপে কর জিডিপি অনুপাত কম থাকার কারণ, করনীতি সংস্কার, রাজস্ব আহরণ ও প্রবৃদ্ধির সম্পর্ক, সামাজিক উন্নয়নে রাজস্ব নীতির প্রভাব এবং বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়।