২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘অন্যের কোম্পানির নামে’ আমদানি: চালানে মিলল তামাক, সন্দেহজনক গুঁড়ো

‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’ বলছে, এই আমদানির বিষয়ে তারা কিছুই জানে না এবং চালানটির সঙ্গে তাদের কোনো ‘সম্পৃক্ততা নেই’।

‘অন্যের কোম্পানির নামে’ আমদানি: চালানে মিলল তামাক, সন্দেহজনক গুঁড়ো

ছবি: এনবিআর

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 11:13 AM

Updated : 28 Sep 2026, 11:59 AM

চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য একটি কোম্পানির ‘নাম ও তথ্য ব্যবহার করে’ আমদানি করা একটি পণ্যচালান শনাক্ত করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

চালানটির কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার বিপরীতে বিপুল পরিমাণ তামাক ও তামাকজাতীয় পণ্য, ‘মাদকসদৃশ’ বিভিন্ন রঙের গুঁড়ো উপাদান এবং এবং প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ ঘোষণার বিপরীতে স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে।

সোমবার এক বিবৃতিতে এনবিআর জানায়, কাগজপত্রে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’কে আমদানিকারক হিসেবে দেখানো হলেও ওই কোম্পানির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বা তার কোম্পানি এ আমদানির বিষয়ে ‘সম্পূর্ণ অনবহিত’ এবং চালানটির সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ‘সম্পৃক্ততা নেই’।

Image

ছবি: এনবিআর

তার আশঙ্কা, কোনো অসাধু চক্র তার কোম্পানির নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি এনেছে।

কাস্টমস নথি অনুযায়ী, ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে করে কলকাতা থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

দুটি বিল অব লেডিংয়ের মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়। প্রথম বিল অব লেডিংয়ে পণ্যের ঘোষণা ছিল ‘পান মাশালা এবং জর্দা (চুইং টোব্যাকো পণ্য)’। নথিতে ৪৭৩ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্যের উল্লেখ ছিল।

Image

ছবি: এনবিআর

২৭ সেপ্টেম্বর কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ কেজি তামাক বা তামাকজাতীয় পণ্য পাওয়া যায়।

উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারও ছিল। এনবিআরের ভাষ্য, এসব পদার্থ বাহ্যিকভাবে ‘মাদকদ্রব্য’ বলে সন্দেহ হয়।

তবে এগুলোতে মাদক বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত উপাদান রয়েছে কি না, তা রাসায়নিক পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে এনবিআর।

Image

ছবি: এনবিআর

অন্য বিল অব লেডিংয়ে পণ্যের ঘোষণা ছিল ‘প্রিন্টেড পেপার ক্যাটালগ’। নথিতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজে মোট ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি পণ্য দেখানো হলেও কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি বা প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়।

এনবিআর বলছে, ঘোষিত পণ্যের সঙ্গে বাস্তবে পাওয়া পণ্যের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিন্যাসে ‘গুরুতর অসামঞ্জস্যের’ বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

Image

ছবি: এনবিআর

চালানটির আমদানিকারক হিসেবে ‘অথৈ এন্টারপ্রাইজ’-এর নাম ব্যবহার করা হলেও কোম্পানির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে বলেছেন, চালানটি তার নয় এবং এ আমদানির বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

কোনো ‘অসাধু চক্র’ তার কোম্পানির পরিচয় ও ব্যবসায়িক নিবন্ধন-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।