১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটের সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী

“ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এ ধরনের অবকাঠামো তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। ফলে জ্বালানি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2026, 08:12 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

দেশে জ্বালানি সংকট যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, অল্প সময়ে তার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন না অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, “গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা ছয় মাস কিংবা এক বছরে সমাধান হবে না। এরজন্য ন্যূনতম দুই বছর লাগবে।”

এর কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এ ধরনের অবকাঠামো তৈরি করতেও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। ফলে জ্বালানি সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়।”

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত এক সভায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।

এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরে তার সমাধানে দীর্ঘ সময় লাগার কথা বলে আসছিলেন। 

জুনে তিনি বলেছিলেন, বিদেশ থেকে গ্যাস এনে সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগতে পারে।

অ্যামচেমের সভায় ব্যবসার ক্ষেত্রে ‘রেগুলেটরি বাধা’ কমানো এবং ব্যবসা পরিচালনা সহজ করার মাধ্যমে আরও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন আমির খসরু।

বিদ্যমান নিয়ম শিথিল করার উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরা যাতে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরতে পারেন, সেজন্য নেওয়া ব্যবস্থার কথাও তিনি বলেন।

মন্ত্রীর ভাষ্য, “দক্ষতা বৃদ্ধি ও অটোমেশনের মাধ্যমে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে সংস্কার কার্যক্রম চলছে।”

একই সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করতে বন্দর ও কাস্টমসের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগের কথা বলেন তিনি।

বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং টেকসই বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে নীতির ধারাবাহিকতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

নিয়ম মেনে পরিচালিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ, কর পরিশোধ নিশ্চিত করা এবং করব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এর মাধ্যমে দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি করব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

বিশেষ করে উদীয়মান ও প্রযুক্তিনির্ভর খাতে এ সম্ভাবনা রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা যেসব মৌলিক বিষয় বিবেচনা করেন, তার অনেকগুলোই বাংলাদেশে রয়েছে।

“তবে এই সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রকৃত বিনিয়োগে রূপ দিতে নীতিগত সংস্কারের ধারাবাহিক ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।”

সংস্কারের উদ্যোগকে দৃশ্যমান ও পূর্বানুমানযোগ্য ফলাফলে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মত দেন।