১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাংক খাতে এমনভাবে কাজ করতে হবে যাতে ‘ভুল সংকেত’ না যায়: সৈয়দ মাহবুবুর রহমান

সুশাসনের ভিতের ওপর এগিয়ে যাচ্ছে এমটিবি, রয়েছে গ্রাহক আস্থায়। কারণ হিসেবে এমডি বলেন, “আপনার মাথা ভালো থাকলে সবকিছু ভালো হবে।”

বিডিনিউজ২৪

আরশী ফাতিহা কাজী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Jun 2026, 01:50 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:56 PM

ব্যাংক খাতের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিটি পদক্ষেপ এমনভাবে নিতে হবে যাতে কোথায় কোনো ভুল সংকেত না যায় বলে সতর্ক করে দিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসির এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ব্যাংকিং খাতের বড় ঝুঁকি হিসেবে ‘গতানুগতিক বিনিয়োগ চিন্তার’ কথাও তুলে ধরেন।

পাশাপাশি তারল্য বা মূলধনের পরিমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি কাঠামোর মধ্যে না থাকার বিষয়টি ‘সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির’ কারণ হতে যাচ্ছে কিছু ব্যাংকের জন্য বলে যোগ করেন তিনি।

তার মতে, ভালো ব্যাংক বলতে গেলে ‘খুব বেশি নাই’।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ এ এসব কথা বলেন অভিজ্ঞ ব্যাংকার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেইসবুক পেইজইউটিউব চ্যানেলে অনুষ্ঠানটি প্রচার করা হচ্ছে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘আমাদের এই সময় প্রত্যেকটা কাজ এমনভাবে করা উচিত যাতে কোনো ‘রং সিগন্যাল’ কোথাও না যায়। কারণ গত ১৮, ১৭-১৮ বছরের যে জঞ্জালটা হয়েছে, এটা পরিষ্কার করতে হবে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসির এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসির এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

বর্তমানে ব্যাংক খাতের মূল সমস্যা হিসেবে ৭ লাখ কোটি টাকার ‘নন পারফর্মিং লোন’ (খেলাপি ঋণ) এর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এটা কেন হয়েছে? সুনিশ্চিতভাবে সুশাসনের অভাবের কারণে। সেটা নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যায়েই বলেন, সেটা ব্যাংকিং পর্যায়েই বলেন, পর্ষদ বলেন, সবখানেই ঘটনাটা ঘটেছে। এইটার জন্যই কিন্তু আসল সমস্যাগুলো হয়েছে।’’

পুরো খাতের এমন দুরবস্থার মধ্যে ‘সুশাসনের’ কারণেই তার ব্যাংক এমটিবি তুলনামূলক স্বস্তিতে আছে বলেও তুলে ধরেন তিনি।

১৯৯৯ সালে অনুমোদন পাওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে যে কয়টি ব্যাংক দেশের ব্যাংকিং খাতে এখন গ্রাহক আস্থা ধরে রাখতে পেরেছে সেগুলোর মধ্যে এমটিবি অন্যতম।

আন্তর্জাতিক মানের মধ্যে ঋণ খেলাপির হার ধরে রাখা ও খেলাপি আদায়ে মামলার কার্যক্রমে গতি আনা, গ্রাহক আকর্ষণে নিত্য নতুন ব্যাংকিং সুবিধা আনায় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এমটিবি সামনের দিকে এগিয়ে চলছে বলে তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন মাহবুবুর রহমান।

২০১৯ সাল থেকে এমটিবির এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই ব্যাংকার বলেন, গত দেড় দশকে কয়েকটি ব্যাংকে বড় ধরনের কেলেঙ্কারির ঘটনায় সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে তারল্য চাপ দেখা দিলেও এমটিবিতে তার প্রভাব পড়েনি খুব একটা। এর পেছনে সুশাসন, ব্যাংকের পর্ষদের নীতি কাঠামো ও কাজের স্বাধীন কাজের পরিবেশ মূল ভূমিকা পালন করেছে।

২০১০ সালে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপির পরিমাণ ছিল ২২-২৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে তা প্রায় ৩৫ গুণ বেড়ে ৭ লাখ কোটি টাকা হয়েছে। এমটিবিতে এর প্রভাব খুবই কম মন্তব্য করে তিনি বলেন, এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে এমটিবিতে সুশাসন। ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের সুশাসনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়িক খাতে নেতৃত্ব দেওয়া গ্রুপের নীতি নির্ধারকরা এমটিবির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন।

স্কয়ার ও এপেক্স এর মত বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ব্যাংকের পরিচালক হওয়ায় প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ২৬ বছরে এখনকার এ অবস্থানে আসতে পেরেছে এমটিবি বলে মনে  করেন তিনি।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘এই সময়ে ব্যাংক খাতে অনেকগুলো সমস্যা হয়েছে। একটা কঠিন সময়, কঠিন বাস্তবতাকে ফেইস করে এই জায়গাটায় আসতে পেরেছি। আজকে এমটিবিকে ভালো বলছে, একটা ব্র্যান্ড বলছে। মানুষ বিশ্বাস করেছে ব্যাংকটা এত কিছুর মাঝখান দিয়ে এসেও ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসির এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসির এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

‘‘দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বদলেছে, আমরা মানি লন্ডারিংয়ের কথা বলি, এত টাকা চলে গেছে, এত বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার চলে গেছে, অনেক ব্যাংক আজকে ভঙুর অবস্থায় আছে, মূলধন পর্যাপ্ততা এত নিচে নেমেছে- সেখানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক কীভাবে এত ভালো অবস্থায় আছে? বিকজ অব দ্যাট গভর্নেন্স।’’

আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখাকে ব্যাংক পরিচালনার নীতিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এমটিবির পর্ষদ বলে তুলে ধরেন তিনি।

দেশের অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের একজন মাহবুবুর মনে করেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতে প্রথম ধাক্কা লাগে ২০১৭ সালে বেসরকারি একটি ব্যাংক দখল হওয়ার মত ঘটনার মাধ্যমে। এরপর করোনাভাইরাস মহামারী, রাশিয়া- ইউক্রেইন যুদ্ধ ও সবশেষ ইরান যুদ্ধের প্রভাব চাপে পড়েছে এ দুই খাত।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘আমি প্রথম একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হই তখন ২০১০ সালে, তখন থেকে দেখতে পেয়েছি পরিবর্তনটা। ওই সময় সম্ভবত ২২-২৪ হাজার কোটি টাকা ছিল খেলাপি ঋণ। আর এখন ওইটা কমবেশি ৭ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। চিন্তা করতে পারেন যে কত প্রায় ৩৫ গুণ বেড়েছে এটা। এটা আসলে এক্সেপ্টেবল না, এটা হতে পারে না। ব্যাংকের ৩৫ শতাংশ পোর্টফোলিও নাই হয়ে গেছে।

‘‘একটা সময় পর্যন্ত আমরা ব্যাংকিং খাতে দেখতে পেয়েছি যে ভালো হচ্ছিল। তারপরে শুরু হল- ২০১৭ সালে দেখতে পেলাম কীভাবে একটা ব্যাংক রাতের অন্ধকারে তার মালিকানা বদল হয়ে গেল। ওইটা ছিল মানে একদম মানে ‘ফাইনাল ইন এ কফিন’ বলে যে শুরু হল- পতনটা। তখন থেকে আরও সেটা আরও এক্সপেডাইট করল আরকি, এক্সেলারেট করল। আমরা যেখানে এক্সপেডাইট করতে চাই, যেখানে এক্সিলেন্স চাই, সেখানে না হয়ে একটা রঙ জায়গায় এটা হল।’’

তিনি বলেন, ‘‘আমার ১৬ বছরের পথ চলায় (প্রধান নির্বাহী হিসেবে) দেখতে পেলাম কীভাবে আসলে সুশাসনটা ব্যর্থ হয়ে যায়। কীভাবে ব্যাংকগুলো আস্তে আস্তে মানে আমাদের রেগুলেটর, কীভাবে আসলে তার সুপারভাইজরি যে ল্যাপসগুলো হয়, সুপারভাইজরি ফেইলিওরগুলো হয়, এই যে কীভাবে গভর্নমেন্ট কীভাবে এটাকে আরও এটাকে ত্বরান্বিত করে। এই জিনিসগুলো আমি বলব দেখতে পেয়েছি।’’

এর বিপরীতে সুশাসনের চর্চা থাকায় এমটিবি মানুষের আস্থা অর্জন করে ভালো অবস্থানে এসেছে তুলে ধরে মাহবুবুর রহমান বলেন, “এটা হচ্ছে মূল জিনিস। এটা হচ্ছে লাইক ইওর হেড। আপনার মাথা ভালো থাকলে সবকিছু ভালো হবে।”

স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগ নীতি ও বছর শেষে লভ্যাংশ তুলে নেওয়ার প্রবণতা সুশাসনের মূল অন্তরায় হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘প্রত্যেকটা পর্ষদ  বলে ডিভিডেন্ড বেশি দিতে হবে। তো ডিভিডেন্ড বেশি দিতে গেলে কী হতে পারে? আপনি নিশ্চিতভাবে তখন শর্ট টার্মে চলে গেলেন, আপনি লং টার্মে খেললেন না যে, আমার স্ট্রাটেজিক একটা ভিউ থাকতে হবে যে, আমি ব্যাংকটাকে একটা ভালো জায়গায় নিতে চাই, তার নন পারফর্মিং লোন এমন হতে হবে, তার একটা ডিভিডেন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পলিসি সুন্দর থাকতে হবে।’’

মে মাসে বড় ঋণগ্রহীতাদের আরও বেশি ঋণ পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। খুড়িয়ে চলা ব্যাংক খাত এই বিশাল ঋণের চাপ সামাল দিতে পারবে কি না এমন প্রশ্নে এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘মিক্সড একটা রেসপন্স এসেছে মার্কেট থেকে। যে ৫টা ব্যাংক মার্জ হওয়ার পরে ৫৭ টা ব্যাংক হয়ে গেছে। কিন্ত ৫৭ টা ব্যাংকের ক্যাপাসিটি কিন্তু এখন আর ওইভাবে নাই। আমাদের ক্যাপিটাল এডিকুয়েসি রেশিও মাইনাস থ্রি পার্সেন্ট, ইফ আই রিকল কারেক্টলি লাস্ট যে স্ট্যাটিস্টিকস যেটা বেরিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে। তার মানে কী ব্যাংকের যে ঋণ দেওয়ার যে ক্ষমতা সেটা কমে গেছে কেন? সব তো মূলধনের ওপর নির্ভরশীল।’’

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসির এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’ অনুষ্ঠানে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসির এই ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ মাহবুবুর রহমান।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ার বড় কারণ হচ্ছে বড় গ্রহীতাদের বেশি ঋণ দেওয়া মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‘যেসব ব্যাংকে ক্যাপিটাল পড়ে গেছে, তাদের ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কিন্তু সাথে সাথে পড়ে গেছে। মূলত আজকে খেলাপি ঋণের এত বিশাল পরিমাণটা হয়েছে তা মূলত এই বৃহৎ ঋণ থেকেই হয়েছে। এখন আমি কি এটাকে আরও বাড়াব?

‘‘যদি সুশাসন ঠিকমতো না থাকে ব্যাংক যদি প্রভাবিত হয়, তাহলে কিন্তু আবার ব্যাংকের ‘নন পারফর্মিং অ্যাসেট’ আরও বাড়তে পারে।’’

বড় ঋণ দেওয়ার ছাড় সব খাতে না দিয়ে বিশেষ কয়েকটি খাতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে এমটিবির এমডি বলেন, ‘‘যেকোনো পলিসি যখন নেয় তখন হয়তো একটা ভালো উদ্দেশ্য থাকে। কিন্তু এটার মুশকিল হয়ে যায় যারা ব্যবহার করতে যান প্রয়োগিক ক্ষেত্রে গিয়েই কিন্তু সমস্যাটা হয়। ডিনামাইট আবিষ্কার করা হয়েছিল ফর ইনোভেশন, ফর ডিসকভারিজ। কিন্তু ওটা আমরা ইউজ করলাম ফর ব্যাড ইনটেনশন। তো এখানেও তাই। এখন অনেক চাপ থাকবে ব্যাংকগুলোর উপরে।“

এরকম নীতি বাংলাদেশের বহুজাতিক অংশীদারদের অর্থাৎ আইএমএফ, এডিবি, আইএফসি ও বিশ্ব ব্যাংকের মত অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বাজে বার্তা যাবে বলে মনে করেন তিনি।

দ্রুততম সময়ে ২৪ ঘণ্টা ব্যাংকিং সেবা দিতে এমটিবির পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যদি জেন জি অ্যান্ড আদারস যারা আছে, তারা এখন কোন দিকে (যাবে) তারাই বেসিক্যালি ফিউচার অব দ্য কান্ট্রি। আমরা এমটিবি থেকে যে কাজটা করছি সেটা হচ্ছে যে কীভাবে আমাদের কাস্টমার কনভিনিয়েন্সে আনা যায়।

“এসব বিষয়ে বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংক চেক থেকে শুরু করে গ্রাহককে কার্ড দেওয়া ও নবায়ন, পাসপোর্টে ডলার এন্ডোর্সমেন্টসহ সব ধরনের কাজ করতে এমটিবি একটি সফটওয়্যার টিম তৈরি করেছে। সেই বিভাগ প্রতিনিয়ত গ্রাহক চাহিদা মেটাতে কাজ করছে।”

‘ট্রেড এক্স’ নামের সফটওয্যার তৈরির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে গ্রাহকরা এলসি, এক্সপোর্ট, ইমপোর্ট সবকিছু এই প্ল্যাটফর্ম দিয়ে করতে পারবেন। ব্যাংকে  আসার কোনো প্রয়োজন পড়বে না। 

মোবাইল ব্যাংকিং আরো জনপ্রিয় করতেও তার ব্যাংক কাজ করছে তুলে ধরে মাহবুবুর রহমান বলেন, “এখন আমরা ভয়েস কলের পাশাপাশি ভিডিও কলে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার পথে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে কণ্ঠ ও তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি গ্রাহককে শনাক্ত করা হবে।

“এগুলো যদি চালু করতে পারি, আই ক্যান টেল দ্যাট ইনশাআল্লাহ বেশ কয়েকদিনের মধ্যে এমটিবি উইল বি দেয়ার অ্যাবসোলিউটলি ফ্রন্ট রানার ইন দা ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সাইট।”

খেলাপিদের বারবার সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ গ্রাহক বা ছোট উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে হিমশিম খান। সেখানে বড় করপোরেটরা চাইলেই ঋণ পুনর্তফসিল বা মওকুফের সুবিধা পান। ব্যাংকাররা অনেকটা প্রভাবশালীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে। অনেকেই ইচেছকৃত খেলাপি হচ্ছেন। এমন অবস্থায় ব্যাংকারদের কী করণীয়?

এমন প্রশ্নে এবিবির সাবেক চেয়ারম্যানে বলেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ঋণ সঠিক জায়গায় যাচ্ছে কি না তা গ্রাহকের কারখানা পর্যায়ে পরিদর্শন করার পরামর্শ দেন তিনি। 

তার মতে, কিছু ভালো গ্রাহককে এই সুবিধা দেওয়া যায়। যদি নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে তিনি খেলাপি হন। কিন্তু এক খাতের টাকা আরেক খাতে নিয়ে যাওয়াদের ছাড় দেওয়া ঠিক হবে না।