Published : 04 Jan 2026, 11:36 PM
ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বিদ্যমান 'পর্বতসম' সমস্যাগুলোর পাশাপাশি নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যবসায়ীদের পর্যবেক্ষণ আমলে নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাদের দল ক্ষমতায় যেতে পারলে স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে কাজ করবে।
প্রায় দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে আসা তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ৗরা রোববার রাতে এ বৈঠক করেন।
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টা এ বৈঠকে তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, বেকারত্ব, বিনিয়োগ পরিবেশসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ড্রাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, “হ্যাঁ উনিও (তারেক রহমান) মনে করেন, যে উনারা যদি আসতে পারে তাহলে ব্যবসায়ীদেরকে সাথে নিয়ে পলিসিগুলি যেখানে যেখানে যাওয়া দরকার এবং কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে। কিছু কিছু জায়গায় হয়তো পারা যাবে না। কিন্তু একটা স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করবেন এবং ব্যবসায় সহায়ক একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।”
বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‘আড়াই ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য বিনিয়োগে যে পর্বতসম সমস্যা সেগুলো তারেক রহমান শুনেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের কাছ থেকে।

“ব্যবসায়ীরা যে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে- বিনিয়োগ হচ্ছে না, কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে, পুঁজিবাজারের সমস্যা এগুলো তুলে ধরেছেন।”
তিনি বলেন, “সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যাশা পূরণে আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্যের কস্ট কমাতে পারে, আমলাতিন্ত্রক জটিলতা দূর করা, চাঁদাবাজির সমস্যা, ব্যাংক সুদের সমস্যা, দুর্নীতির কারণে ব্যবসার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এগুলোতে জনগণ সমস্যায় পড়ছে। আর ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারছে? তাহলে বিদেশিরা বিনিয়োগ করবে কীভাবে? আগামীতে উনাদের প্রত্যাশা বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এসব সমস্যার সমাধান করবে৷”
তিনি বলেন, ‘‘আমরা নীতিমালা প্রণয়ন করেছি, এগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সেগুলো তুলে ধরা হয়েছে ব্যবয়ায়ায়ীদের কাছে৷ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে যত সংস্কার সব বিএনপির আমলে হয়েছে।
“বিএনপি বিজনেস ফ্রেন্ডলি রাজনৈতিক দল। যে বড় ধরনের সংস্কার দরকার সেগুলো করতে নীতিমালায় প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের নীতিমালায় তার সন্তুষ্ট। বিএনপির উপর আস্থা আছে ব্যবসায়ীদের বলে আমরা মনে করি।”
বৈঠকের পরে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, ‘‘আমরা আজকে আলোচনা করেছি ব্যবসা ক্ষেত্রে চলমান যে সমস্যা রয়েছে (সেগুলো নিয়ে)। আমরা ইন্ডাস্ট্রিকে চালিয়ে রাখা, কর্মসংস্থানকে ঠিক রাখা এবং বর্ধিত করা সেটাই নিয়ে আমরা আমাদের কথাগুলো বলেছি। আমরা চেয়েছি যে, যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে যেকোন সরকার যেই আসুক ব্যবসায়ীদের আস্থায় আনতে হবে।
“কারণ আমাদের সাফল্যই কিন্তু সরকারের সাফল্য। আমরা আমাদের আলোচনাগুলো করেছি। আমরা আমাদের সমস্যাগুলো বলেছি। ওনারা ভালোভাবে নোট নিয়েছেন। ওনারা আসলে হয়ত সব জায়গায় ওনারা পারবেন না বা কিছু জায়গায় পারবেন। কিন্তু আন্তরিকভাবে তারা করতে চান।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বডি ল্যাংগুয়েজে আমাদের ইতিবাচক মনে হয়েছে। উনি (তারেক রহমান) আন্তরিকতার সাথে শুনেছেন এবং উনি আশ্বাস দিয়েছেন যে যদি ক্ষমতায় আসতে পারেন আমাদের নিয়ে কাজ করবেন যাতে দেশের উন্নয়ন হয় অর্থনৈতিকভাবে আমরা এগিয়ে যাই।”
বর্তমান সমস্যা তুলে ধরে বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘‘অর্থনীতি যদি ঠিক করতে হয় ব্যবসায়ীদেরকে কিন্তু সাথে নিয়ে করা উচিত। এবং সেটাই কিন্তু আমরা ওনাকে (তারেক রহমান) বলেছি। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এখন কিন্তু আস্তে আস্তে অনেক বেকারত্ব বেড়ে যাচ্ছে। শিল্পগুলো বসে যাচ্ছে।
“আমরা বলেছি যে, এগুলো আসলে কীভাবে পুনরুদ্ধার করা যায় সেটা নিয়ে আমরা ওনার সাথে বিস্তারিত একটা আলাপ আলোচনা করেছি।”
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কথা হলো যে সরকারে আসুক না কেন তারা যাতে সেই দায়িত্ববোধ নিয়ে (কাজ করে)। কিন্তু অর্থনীতি হতে হবে এক নম্বর। যদি সেটাকে দাঁড়া করাতে হয় তাহলে ব্যবসায়ীকে সাথে নিয়েই উনাদের একসাথে কাজ করা উচিত।“

এক প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ীদের এই নেতা বলেন, ‘‘তারা (বিএনপি) যেসব জিনিসগুলো বলেছেন সেগুলো ইতিবাচক। আমি মনে করি যে ব্যবসায়ীদের জন্য এটা সহায়ক।
‘‘সবচেয়ে সবার উপরে যে জিনিসটা দ্রুত বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নতি করা উচিত। মব কালচার থেকে আমাদের বের হওয়া উচিত এবং জিনিসটা আমরা ওনাদেরকে বারবার বলেছি এবং এটা না হলে ব্যবসা কেন আমরা স্বাভাবিক মানুষই তো আর নড়তে চড়তে পারি না।”
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আইসিসির সভাপতি মাহবুবুর রহমান, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি একে আজাদ, বিজেএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী, এমসিসিআইয়ের সভাপতি কামরান টি রহমান, ডিসিসিআইয়ের সভাপতি তাসকিন আহমেদ, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, বিকেএমএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিএসএমএর সভাপতি মইনুল ইসলাম স্বপন, বিএবির সভাপতি আবদুল হাই সরকার, বিজিএপিএমইএর সভাপতি মো. শাহরিয়ার, স্টিল মিল মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, বিএপিআইয়ের আব্দুল মুক্তাদির, বিএসআরএমের সভাপতি আলী হুসাইন আকবর আলী, এমপ্লয়ারস ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান ছিলেন।
বৈঠকে আরও ছিলেন স্কয়ার গ্রুপের তপন চৌধুরী, উত্তরা মোটরসের মতিউর রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান, মেঘনা গ্রুপের মোস্তফা কামাল, প্রাণ গ্রুপের আহসান খান চৌধুরী, সিকম গ্রুপের আমিরুল হক, পারটেক্স গ্রুপের আজিজ আল কায়সার টিটো, ইউসিবিএলের চেয়ারম্যান শরীফ জহির।
এছাড়া বিজেএমইএর সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও ফজলুল হক, বিটিএমএর সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন চৌধুরী, এমসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি নাহিদ কবির, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাক্ষাৎ
এর আগে সন্ধ্যায় তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটি।
কমিটির সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া, সদস্য আবদুল হাই শিকদার, কাদের গণি চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, কে এম মহসিন এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে তারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মত্যুতে শোক বইতে স্বাক্ষর করেন।