বোয়িং কেনায় কোনো ‘গোপন এজেন্ডা নেই’: প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন
এর আগে বিমান পরিবহনমন্ত্রী মিল্লাত বলেছিলেন, ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধে বাংলাদেশ বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘সন্তুষ্ট করতে’ বিএনপি সরকার মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনছে বলে যে কথা চাউর হয়েছে তা উড়িয়ে দিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তার ভাষ্য, কাউকে সন্তুষ্ট করতে নয়, বরং নিজেদের প্রয়োজনেই বোয়িং থেকে আরও ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “এখন বোয়িং কিনছি। বাংলাদেশের তো বহর আরও অনেক বাড়ানো দরকার। এখন যা আছে, এটা কিছুই না। এটা নিয়ে গোপন কোনো এজেন্ডা নেই। প্রশ্নও আসে না।
“প্রয়োজন অনুযায়ী চুক্তি করা হয়েছে এবং উন্মুক্ত আয়োজন হয়েছে। আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করেছি। হয়ত প্রয়োজন হলে আমরা কিছু কিনব। সুতরাং প্রয়োজন অনুযায়ী আমরা এটা করব, বোয়িং বা অন্য কিছু আমরা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য কিনব না।”
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, খোলামেলা পরিবেশে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সই অনুষ্ঠান হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চারজন মন্ত্রী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
“আমাদের চাহিদামত আমরা বোয়িং কিনব। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের বহরে বোয়িং বেশি। কিন্তু আমাদের মিশ্র বহর লাগবে। এই শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে, এভিয়েশন হাব হলে গেলে, আপনার মিশ্র বহর দরকার,” বলেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর আগে ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ঢাকায় বোয়িংয়ের সঙ্গে আরেকটি চুক্তি করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ালাইন্স। সব মিলিয়ে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে বাংলাদেশকে গুনতে হবে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এর মধ্যে ৩১ অগাস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে এবং আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফ্রান্সের কোম্পানি এয়ারবাসের উড়োজাহাজও কেনা হবে।
এপ্রিলের পর নতুন করে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হওয়ায় সেদিনিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লেখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে শিগগিরই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, যাত্রী সেবা বাড়ানো এবং ‘এভিয়েশন হাব’ গড়ার প্রয়োজনে উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে।
“জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের আরও বেশি বিকল্প দেওয়া। সব মিলিয়ে যদি চিন্তা করি, আমাদের বহরকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।”
ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট পুনরায় চালুর বিষয়ে করা এক প্রশ্নে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফ্লাইট বন্ধ মূলত কারিগরি সমস্যার জন্য। সেই কারিগরি সমস্যা ‘রিঅ্যাসেসমেন্টের কথাবার্তা চলছে’।
ওই পর্যালোচনা সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে ওই রুটে ফ্লাইট পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
‘আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী’
এবার জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং এর ফাঁকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশের আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় যাওয়ার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, “সার্বিক বিবেচনায়, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে। এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
“বিভিন্ন সভায় ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সকল অতিথিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্ম বিশ্বাস, সম্মান এবং আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন এই সফরে।”
হুমায়ুন কবির বলেন, “চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী সব মিলিয়ে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
“এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছেন।”
এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য ‘বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ’ থাকার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, “নতুন সরকারের জন্য এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম অংশগ্রহণ। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
“এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্বের অনন্য ইতিহাস রচিত হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।”
অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরহাদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ও মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম
ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী বোয়িং কিনছি: বিমানমন্ত্রী
বোয়িংয়ের কোন মডেলের কতটি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান
