২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বোয়িংয়ের কোন মডেলের কতটি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান

২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে গুনতে হবে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 24 Sep 2026, 11:45 PM

Updated : 25 Sep 2026, 12:31 AM

বিএনপি সরকারের সময়ে পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই ক্রয়াদেশে যে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, তাতে দুটি মডেলের তিনটি সংস্করণ থাকছে বলে জানিয়েছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা কোম্পানিটি।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি করার কথা জানিয়েছে বিমান বাংলাদেশ।

বোয়িং ইন্ডিয়া অ্যান্ড সাউথ এশিয়া কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, বিমান বাংলাদেশ যে আরও ১১টি উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার ও ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

এর আগে গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ঢাকায় বোয়িংয়ের সঙ্গে আরেকটি চুক্তি করেছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ওই ক্রয়াদেশের মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

তখন বিমানের তরফে বলা হয়েছিল, ৭৮৭-১০ মডেলের উড়োজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা সম্পন্ন রুটগুলোতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। আর ৭৮৭-৯ মডেলের উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা রুটে চালানোর পরিকল্পনা আছে এয়ারলাইন্সটির। আর ৭৩৭-৮ ম্যাক্স দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য, ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে পরিচালনার ভাবনা রয়েছে।

Image

বোয়িংয়ের ১১টি উড়োজাহাজ কিনতে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে বুধবার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ।

২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে আগের চুক্তির ১৪টি উড়োজাহাজ বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে) ।

নতুন চুক্তির ১১টি উড়োজাহাজের দাম ও সরবরাহের সময় জানা যায়নি। পুরোনো তালিকামূল্য অনুযায়ী নতুন ক্রয়াদেশের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৯,৪০০ কোটি টাকা হতে পারে।

বোয়িং বলছে, ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ও ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ যোগ হয়ে বিমানের বিদ্যমান বোয়িং বহর আরও শক্তিশালী হবে এবং পরিচালনার ক্ষেত্রে উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।

নতুন যানগুলো আগের চাইতে ২০-২৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ী বলে ভাষ্য নির্মাতা কোম্পানির।

এর মধ্যে সরু কাঠামোর ম্যাক্স স্বল্প ও মাঝারি দূরত্বের রুটে যাত্রী পরিষেবার উপযোগী। আর প্রশস্ত কাঠামোর ড্রিমলাইনারে বেশি যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা তৈরি করবে বিমান বাংলাদেশকে।

বিমানের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি এয়ারক্রাফট রযেছে। এর মধ্যে ১৪টি বোয়িংয়ের আর পাঁচটি স্বল্পপাল্লার ড্যাশ এইট কিউ৪০০ মডেলের এয়ারক্রাফট।

২০০৮ সালে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১০টি এয়ারক্রাফট কেনার চুক্তি স্বাক্ষর হয়। পরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এসব উড়োজাহাজ বিমানকে সরবরাহ করে বোয়িং।

Image

বোয়িংয়ের ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে গত ৩০ এপ্রিল ঢাকায় বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

বর্তমানে বিমানের ১৪টি বোয়িংয়ের মধ্যে চারটি প্রশস্ত কাঠামোর বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি ৭৮৭-৮ ও দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি সরু কাঠামোর বোয়িং ৭৩৭ এয়ারক্রাফট রয়েছে। নতুন ২৫টি যুক্ত হলে বিমানের বহরে মোট ৪৪টি উড়োজাহাজ হবে, যার মধ্যে ৩৯টিই হবে বোয়িংয়ের।

গত ৩১ অগাস্ট বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনছে এবং আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এপ্রিলের পর নতুন করে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কিনতে রাজি হওয়ায় গত ৩১ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে চিঠি লেখেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চিঠিতে শিগগিরই তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

নতুন চুক্তির পর ট্রাম্প ট্রুথ সোশাল পোস্টে ‘বোয়িং ও আমেরিকান উৎপাদন খাতের জন্য বড় দিন!’ শিরোনামে একটি পোস্ট দিয়েছেন। এতে তিনি বোয়িং ও এর কর্মীদের অভিবাদন জানিয়েছেন।

বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি বিমানের

বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করল বিমান