পাওনা ২৫০০ কোটি টাকা তিন অপারেটরকে দিতেই হবে: বিটিআরসি

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ‘প্রাপ্য আদায়ে’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Jan 2023, 03:05 PM
Updated : 15 Jan 2023, 03:05 PM

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী‌ পাওনা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা অবশ্যই তিন মোবাইল ফোন অপারেটরকে পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

এ বিষয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের সিদ্ধান্ত না মানলে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও রোববার সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

আপিল বিভাগে গত মঙ্গলবার তিন মোবাইল অপারেটরকে বিভিন্ন ফি ও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পরিশোধের আদেশ বিষয়ে কমিশনের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এরপর সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে বিটিআরসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এই অর্থ সরকারের অর্থ। মানে সাধারণ মানুষের টাকা। সে টাকা মোবাইল অপারেটরদের অবশ্যই দিতে হবে। বিটিআরসি জনগণের অর্থ আদায়ে বদ্ধপরিকর।”

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের কাছ থেকে ‘প্রাপ্য আদায়ে’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কমিশনের লিগ্যাল এন্ড লাইসেন্সিং বিভাগের কমিশনার আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন।

গত মঙ্গলবার স্পেকট্রাম ফি ও লাইসেন্স ফি বাবদ বিটিআরসিকে ২ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা পরিশোধ করতে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংককে নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

Also Read: ২৩৫৫ কোটি টাকা শোধ করতে হবে তিন টেলিকম অপারেটরকে: আপিল বিভাগ

রোববার সংবাদ সম্মেলনে এ তিন অপারেটরসহ এয়ারটেলের কাছ থেকে ৫৯ কোটি টাকা পাওনা থাকার কথা জানানো হয়। অধিগ্রহণের পর এয়ারটেল এখন রবির মালিকানায় চলে গিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের মহাপরিচালক আশীষ কুমার কুন্ডুর দেওয়া তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর পর্যন্ত গ্রামীণফোনের কাছে ১১৬৩.৮৫ কোটি, বাংলালিংকের কাছে ৬২৫.২৭ কোটি, রবির কাছে ৫৬৫.৫৮ কোটি এবং এয়ারটেলের কাছে ৫৯.০৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে।

বিটিআরসি অপারেটরগুলো থেকে শতভাগ টাকা পাবে, এক্ষেত্রে এর মধ্যে ১৫ ভাগ ভ্যাট যুক্ত করা যাবে না, বলে জানান তিনি।

মামলার তথ্য তুলে ধরে লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের কমিশনার দিলজার বলেন, “মোবাইল অপারেটররা বিটিআরসির পাওনা বাবদ প্রকৃত টাকা প্রদান না করে ১৫% ভ্যাট আকারে অন্তর্ভূক্ত করে (যেমন- ১০০ টাকা মূল টাকা হলে বিটিআরসিকে দিয়েছিল ৮৫ টাকা অর্থাৎ বাকি ১৫ টাকা ভ্যাট হিসেবে প্রদর্শন করেছিল) প্রদান করেছিল।”

বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা- ই-রাকিব বলেন, “অপারেটরদের নিকট অন্যায়ভাবে কোনো অর্থ দাবি করা হয়নি এবং বিটিআরসি তার প্রাপ্য অর্থ পাবে। রিবেট পাওয়ার জন্য যেসব বিষয় দরকার তা এখানে বিদ্যমান নেই। ভ্যাট প্রদানে রিবেট সুবিধা সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।”

বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের পরিচালক তারেক হাসান সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন বিভাগের মহাপরিচালক মো. দেলোয়ার হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এহসানুল কবীর, স্পেকক্ট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক