১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দেশে ব্যান্ডউইথের ঘাটতি নেই, আগামীতেও হবে না: বিএসসিপিএলসি

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি মনে করে, ব্যান্ডউইথের সংকট হওয়ার যে প্রচার চালানো হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Sep 2026, 07:58 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সরবরাহে ঘাটতি নেই এবং ভবিষ্যতেও ঘাটতির আশঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)।

বুধবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটি, যারা দুটি সাবমেরিন কেবল দিয়ে সারা দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের বেশির ভাগ সরবরাহ করে আসছে।

সোমবার টেলিকম ও প্রযুক্তি বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবির কর্মশালায় দেশে ভবিষ্যতে ব্যান্ডউইথের ঘাটতির আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। 

বেসরকারি সাবমেরিন খাতের উদ্যোক্তাদের একটি অংশ এই শঙ্কা প্রকাশ করেন। তাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়।

এর মধ্যে বুধবার ব্যান্ডউইথের সংকট হওয়ার প্রচারণাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করল বিএসসিপিএলসি।

তারা বলেছে, সরকারি এই কোম্পানি দুটো কেবল দিয়ে যে পরিমাণ ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে পারে, তার পুরোটা এখনও ব্যবহার হচ্ছে না। ভবিষ্যতের জন্য আরো সাবমেরিন কেবল যুক্ত করার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সম্প্রতি কিছু সংবাদমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে ‘ব্যান্ডউইথ সংকটের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ, ইন্টারনেট খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা’ ও ‘ব্যান্ডউইথ সংকটে বাড়তে পারে ইন্টারনেটের দাম, কমতে পারে গতি’ শিরোনামে দেশের ব্যান্ডইডথ ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির বিষয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে , যা বাস্তবতা বিবর্জিত।

“দেশের ভবিষ্যৎ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান দুটি সাবমেরিন কেবল ‘সি মি উই ৪’ এবং ‘সি মি উই ৫’ এর পাশাপাশি আরও একটি সাবমেরিন কেবল সিস্টেম ‘সি মি উই ৬’ বাস্তবায়ন করছে বিএসসিপিএলসি। বর্তমানে কার্যকর দুটি সাবমেরিন কেবলের সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ৭২০০ জিবিপিএস, যার মধ্যে প্রায় ৪০০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ইতোমধ্যে দেশে সরবরাহ করা হচ্ছে এবং আরও প্রায় ৩২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহের সক্ষমতা বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানির রয়েছে। ২০২৭ সালে ‘সি মি উই ৬’ কেবল চালু হলে এর মাধ্যমে মোট ৩৪০০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জিত হবে।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়, “বিটিআরসির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০৩০ সালে দেশের মোট ব্যান্ডউইথ চাহিদা হবে ৩০০০০ জিবিপিএস। ২০২৭ সাল নাগাদ রাষ্ট্রায়ত্ত সাবমেরিন কেবলগুলোর মোট ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা হবে ৪১০০০ জিবিপিএস, যার মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধমান ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। এছাড়া দেশের ৬টি আইটিসি অপারেটরের মাধ্যমে চাহিদা অনুযায়ী ব্যান্ডউইথ আমদানি করা হচ্ছে। এরপরেও বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ইতোমধ্যে চতুর্থ সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে।”

মূলত বেসরকারি খাতের সাবমেরিন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের একটি কনসোর্টিয়াম।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া বেসরকারি সাবমেরিন প্রকল্পটিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে তারা। ৫ অগাস্টে রাজনৈতিক হাওয়া বদলের পর সরকারি অনুমোদনের জটিলতায় ‘চুড়ান্ত পর্যায়ে’ এসে আটকে যায় বেসরকারি সাবমেরিন প্রকল্প।

'বাংলাদেশ প্রাইভেট কেবল সিস্টেম কনসোর্টিয়াম’ নামে বেসরকারি সাবমেরিন খাতের বিনিয়োগকারীদের এই মোর্চায় রয়েছে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেড।

এখন তারা প্রকল্পটির অনুমোদনের জন্য সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেন-দরবারসহ সংবাদ মাধ্যমেও বক্তব্য দিচ্ছেন। 

আরও পড়ুন

টিআরএনবির কর্মশালা: 'বেসরকারি সাবমেরিনে ইন্টারনেটের দাম কমবে ৫০%'