Published : 31 Aug 2026, 06:51 PM
বেসরকারি সাবমেরিন কেবল নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে বাংলাদেশ বড় রকমের অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করছেন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম।
তার হিসাবে, বেসরকারি সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হলে দেশে ইন্টারনেটের দাম ৫০ শতাংশ কমে যাবে।
সোমবার দেশের টেলিকম ও প্রযুক্তি বিটের সাংবাদিকদের সংগঠন টিআরএনবির এক কর্মশালায় তিনি এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
ঢাকায় একটি রিসোর্টে ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ভবিষ্যৎ ব্যান্ডউইথ চাহিদা পূরণে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের প্রয়োজনীয়তা’ শিরোনামে এ কর্মশালা হয়।
পরে টিআরএনবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মশালার বিস্তারিত জানানো হয়।
বেসরকারি খাতের সাবমেরিন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে দেশীয় উদ্যোক্তাদের একটি কনসোর্টিয়াম।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হওয়া বেসরকারি সাবমেরিন প্রকল্পটিতে বিপুল বিনিয়োগ করেছে তারা। ৫ অগাস্টে রাজনৈতিক হাওয়া বদলের পর সরকারি অনুমোদনের জটিলতায় ‘চুড়ান্ত পর্যায়ে’ এসে আটকে যায় বেসরকারি সাবমেরিন প্রকল্প।
'বাংলাদেশ প্রাইভেট কেবল সিস্টেম কনসোর্টিয়াম’ নামে বেসরকারি সাবমেরিন খাতের বিনিয়োগকারীদের এই মোর্চায় রয়েছে সামিট কমিউনিকেশনস, সিডিনেট কমিউনিকেশনস এবং মেটাকোর সাবকম লিমিটেড।
কর্মশালায় সংগঠনের সভাপতি মাসুদুজ্জামান রবিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
সেখানে সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেডের সিইও মশিউর রহমান ও মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের প্রজেক্ট লিড মাহমুদ শাহেদ দুটি উপস্থাপনায় সাবমেরিন ক্যাবলের ইতিহাস, বাংলাদেশে আরও সাবমেরিন কেবলের প্রয়োজনীয়তা, বিনিয়োগ, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষা ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরেন।
কর্মশালায় দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা সংস্থাগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, “দেশে প্রাইভেট সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হলে দেশের ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত হবে।”
মেটাকোর সাবকম লিমিটেডের এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, “বেসরকারি সাবমেরিনে দেশে ইন্টারনেটের দাম ৫০ শতাংশ কমে যাবে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বাড়বে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ।”
কর্মশালায় সামনের দিনগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের পূর্বাভাসে তুলে ধরে বলা হয়, গত ১৩ বছরে দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ। বর্তমানে দেশে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের চাহিদা প্রায় ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিট।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিট, ২০৩৫ সালে ৩০৫ টেরাবিট এবং ২০৩৬ সালে ৪৩২ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে।
তবে বর্তমানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সংযোগের মূল ভরসা দুটি সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল— ‘সি মি উই ৪’ এবং ‘সি মি উই ৫’।
এগুলোর সক্ষমতা যথাক্রমে ৪ দশমিক ৬ ও ২ দশমিক ৫ টেরাবিট। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ আইটিসির মাধ্যমে আমদানি করা হয়।
কর্মশালায় বলা হয়, ভারত যেখানে ১৯টি, মালয়েশিয়া ২৩টি, থাইল্যান্ড ১২টি এবং ফিলিপাইন ১৯টি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে যুক্ত, সেখানে বাংলাদেশের রয়েছে মাত্র দুটি। কোনো একটি ক্যাবলে ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যা হলে জাতীয় পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবায় বড় চাপ তৈরি হয়।
আলোচকদের মতে, সরকারের তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ‘সি মি উই ৬’ চালু হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা যথেষ্ট হবে না। কারণ ‘সি মি উই ৪’ এর কার্যকাল ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালে ব্যান্ডউইথ ঘাটতি প্রায় ২০ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে। এ অবস্থায় বেসরকারি খাতে নতুন সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনের অনুমোদনকে গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হিসেবে দেখাচ্ছেন তারা।