১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বেড়েছে শীতের সবজির সরবরাহ, কমছে দাম

“বৃষ্টির জন্য এ সপ্তাহে সবজি একটু কম ঢুকেছে। আগামী সপ্তাহে আরও বেশি ঢুকবে, দাম আরও কমবে,” বলেন বিক্রেতা জাহাঙ্গীর।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Oct 2025, 11:02 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:34 PM

শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় ঢাকার কাঁচাবাজারগুলোয় কয়েক মাসের চড়া দাম কমতে শুরু করেছে।

শুক্রবার মহাখালী ও সাততলা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেক সবজির দাম গেল সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। কিছু সবজির দাম কমেছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। 

বাজারে শীতকালীন সবজির মধ্যে শিম, মুলা, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপির মতো সবজির সরবরাহ বেড়েছে। 

ফলে, কয়েক সপ্তাহ আগে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া শিমের দাম শুক্রবার ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। গেল সপ্তাহে সবজিটির কেজি ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

এছাড়া অন্যান্য মৌসুমি সবজির মধ্যে মুলা কেজিতে ১০ টাকা কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ছোট আকারের একেকটি ফুলকপি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও লাউয়ের দাম কমে প্রতিটি আকৃতিভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মহাখালী কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা মো. ওসমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমে গেছে। গরমের (গ্রীষ্মকালীন) সবজির দামও কমতেছে। এক-দুই সপ্তাহ পর আরও কমবে।”

বাজারে গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমে ঝিঙা ৫০ টাকা, করলা ২০ টাকা কমে ৬০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বেগুন মান ভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া কচুর লতি ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা ও ধুন্দল ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বাজারে কাঁচামরিচ কেজিতে ২০ টাকা কমে মানভেদে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ২০ থেকে ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া কেজিতে ১০ টাকা কমে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, দেশি শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকা ও হাইব্রিড শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

সাততলা কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা জাহাঙ্গীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বৃষ্টির জন্য এই সপ্তাহে সবজি একটু কম ঢুকেছে। আগামী সপ্তাহে আরও বেশি করে ঢুকবে। দাম আরও কমবে।”

বাজার দুটিতে শুক্রবার লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছিল ২০ থেকে ৪০ টাকায়। ধনেপাতা কেজিতে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কমে ২৫০ টাকা টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। 

এছাড়া কাঁচা কলা হালি বিক্রি হচ্ছে আগের মতোই ৪০ টাকায়, চাল কুমড়া প্রতিটি আকৃতিভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

বাজারগুলোতে শাকেরও পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এর মধ্যে লাল শাক প্রতি আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, লাউ ও কুমড়ার শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং কলমি শাক ১০ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছিল।

এছাড়া পুঁই শাক ৪০ টাকা, ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা, নাপা শাক আঁটি ২০ টাকা, ঢেঁকি শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক ২০ থেকে ৩০ টাকা, মুলাশাক ১৫ থেকে ২০ টাকা আঁটিতে বিক্রি হচ্ছিল। 

সাততলা কাঁচাবাজারে সবজি কিনতে আসা সবুজ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শীতের এই সময়টার অপেক্ষায় থাকি কম দামে সবজি খাওয়ার জন্য। সবজির দাম অলরেডি কমতে শুরু করেছে। আশা করছি আরও কমবে।” 

মশলাজাতীয় পণ্য আগের দামেই

শাকসবজির দাম কমলেও বাজারে মশলাজাতীয় পণ্য বিক্রি হচ্ছে আগের দামেই। সাততলা কাঁচাবাজারের রিপা জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা ফারুক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই সপ্তাহে মশালজাতীয় পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি।”

তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বাজারে আলু ২০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৭৫ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে দেশি আদা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, দেশি রসুন ১০০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৬০ টাকা, দেশি মশুর ডাল ১৫০ টাকা, আমদানি করা (মোটা দানা) ১২০ টাকা, মুগ ডাল ১৮০ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা ও খেসারির ডাল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।

আর, এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছিল ১৪০ টাকায়, হাঁসের ডিম ২১০ টাকা ও সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এছাড়া বাজারে গরুর মাংস আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছিল ১ হাজার ২০০ টাকায়।