Published : 21 Apr 2026, 05:43 PM
কারিগরি জটিলতা সারিয়ে মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি আবার চালু করা হয়েছে।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কারিগরি ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির পরিচালিত এমএলএনজি এফএসআরইউ থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
ত্রুটি মেরামত শেষে দুপুর ১২টার দিকে ওই টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
সকালে টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিতাস গ্যাস এক জরুরি নোটিসে জানায়, একটি এফএসআরইউ বন্ধ থাকায় গ্যাসের সরবরাহ প্রায় ৪০০ এমএমসিএফডি কমে গেছে।
এর ফলে গজারিয়া, মেঘনা ঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণাংশসহ সমগ্র তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে জানিয়ে গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।
বিদেশ থেকে তরল অবস্থায় আমদানি করা প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজিকে ফের গ্যাসে রূপান্তর করা হলে তাকে বলা হয় রিগ্যাসিফায়েড লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস বা আরএলএনজি। সেই গ্যাস বা আরএলএনজি পাইপ লাইনের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।
আর জাহাজ থেকে খালাস এবং তরল থেকে গ্যাসে রূপান্তরের এই কাজটি করে ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ, যাকে সাধারণ ভাষায় এলএনজি টার্মিনাল বলা হয়।
সমুদ্রে ভাসমান এই টার্মিনালে জাহাজ থেকে নামানো এলএনজি সংরক্ষণ করা হয়, পরে তা গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়।
মহেশখালীতে দেশের প্রথম এলএনজি আমদানি টার্মিনাল ২০১৮ সালে চালু হয়, যার পুনর্গ্যাসীকরণ সক্ষমতা দৈনিক ৫০০ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট। পরে একই ধরনের আরেকটি টার্মিনালও চালু হয়, যার সক্ষমতাও সমান।
এতদিন দুটি এফএসআরইউ থেকে দৈনিক ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাইপরাইনে সরবরাহ করা হচ্ছিল। টার্মিনাল বন্ধ থাকায় তা অর্ধেকে নেমে আসে। তাতে তিতাসের আওতাভুক্ত এলাকার অনেক গ্রাহক গ্যাসের কম চাপ পান।
তবে দুপুরে এক্সিলারেটের টার্মিনালটি আবার চালু হওয়ায় বিকাল থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হওয়ার কথা জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।