Published : 04 Aug 2026, 04:06 PM
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষরের পর দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হওয়ার কথা বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “দক্ষিণ কোরিয়া এই চুক্তিতে এসেছে আগামী দিনে তাদের রপ্তানি বৃদ্ধির প্রত্যাশা নিয়ে। একই প্রত্যাশা বাংলাদেশেরও রয়েছে, যেখানে কোরিয়ার বাজারে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সুবিধা বাড়বে এবং বাংলাদেশে আরও বেশি কোরিয়ান বিনিয়োগ আসবে।”
বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী থাকার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বিশ্বজুড়ে যেখানে বেশিরভাগ দেশেই বয়স্ক মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, সেখানে বাংলাদেশের এই বিশাল তরুণ জনসংখ্যা অর্থনৈতিক অগ্রগতির বড় একটি সুবিধা বা নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে।”
খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা বা বিনিয়োগ করা সরকারের কাজ নয়।
“বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে বেসরকারি খাতের জন্য একটি সুন্দর ও সহায়ক পথ তৈরি করে দেওয়া সরকারের কাজ। সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই চুক্তির মাধ্যমে সেই সুযোগের পথ তৈরি করেছে।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাট, চামড়া, তথ্যপ্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, ওষুধ শিল্প, জাহাজ নির্মাণ, শিপ রিসাইক্লিং এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে।
বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্যিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার অন্যান্য দেশের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “শিগগিরই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট—আরসিইপি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও ফ্রি ট্রেড নেগোসিয়েশন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে।”
চুক্তি সম্পাদনে তাড়াহুড়া করা হয়েছে—এমন সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাণিজ্যমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, “এতে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া বা অবহেলা করা হয়নি, বরং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যে আলোচনা শেষ করতে সাধারণত দুই বছরের বেশি সময় লাগে, তা দিনরাত পরিশ্রম করে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সফলভাবে শেষ করা হয়েছে।”
বাণিজ্য মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, “এই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি সম্পর্কিত কোনো তথ্যই গোপন থাকবে না। চুক্তির নথি সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হবে এবং দেশের নাগরিক ও বিশেষজ্ঞরা এর প্রতিটি লাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পড়তে পারবেন।”
দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়ো হান-কু এবং বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি কার্যকর হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ১ হাজার ৫৪টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য—বিশেষ করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যারসহ বিভিন্ন পণ্য চুক্তি কার্যকরের দিন থেকেই দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
সেবা বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও উভয় দেশ উল্লেখযোগ্য অঙ্গীকার করেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোরিয়ার জন্য ৯৫টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশের জন্য ১১১টি উপখাতে চারটি মোডে সেবা বাণিজ্যের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।