Published : 10 Jan 2026, 07:06 PM
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বস্ত্রের যতটুকু সূতা ও কাঁচামাল আমদানি করে পোশাক রপ্তানি করা হবে, মার্কিন শুল্কে ততটুকু ছাড়ের আশা করছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা মার্কিন শুল্কের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রে এমন একটি স্কিম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শেষে এমন আশার কথা বলেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।
শনিবার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য আলোচনায় এ অগ্রগতিকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে।
ওয়াশিংটন সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দূত জ্যামিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি শুল্ক আরোপের বিষয় নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের ওপর আরোপিত বর্তমান ২০ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কহার কমানোর সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উত্থাপন করতে সম্মত হয়েছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি। এর ফলে বাংলাদেশের শুল্কহার আঞ্চলিক প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে পারস্পরিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বাংলাদেশের ঘাড়ে পড়ে ৩৫ শতাংশ। পরে দুই দেশের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনার পর তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়।
এতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, আর দেশটিতে মোট রপ্তানির ৮৭ শতাংশই তৈরি পোশাক।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, বাংলাদেশের রপ্তানি অগ্রাধিকারকে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘উদ্ভাবনী ও দূরদর্শী’ স্কিমের ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। বাংলাদেশের এ প্রস্তাবের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বস্ত্র খাতের জন্য আমদানি করা সুতা ও কৃত্রিম তন্তু (ম্যানমেইড ফাইবার) ও কাঁচামালের সমপরিমাণ পোশাক ও বস্ত্র পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বাংলাদেশি পণ্য। এই সুবিধার পরিমাণ নির্ধারিত হবে সুতা বা বস্ত্রের কাঁচামালের বর্গমিটারভিত্তিক পরিমাণের সমান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সৃজনশীল ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক উদ্যোগ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ও শ্রমিকদের সহায়তা দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করবে।
“এটি যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গতি ও সদিচ্ছার প্রতিফলন এবং বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাণিজ্য সম্ভাবনার ক্ষেত্রে একটি আশাব্যঞ্জক নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে।”