“ঠিক করতে হবে, আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত হব, না আমরা ভালো মানুষ হব।”
Published : 23 Mar 2025, 06:01 PM
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী আর্থিক খাতে এমন নিয়ন্ত্রক সংস্থা দেখতে চান, যারা অপরাধীকে শাস্তি দিতে পারবে।
তার ভাষায়, “মানুষ কাজ করে দুই কারণে। একটা হল ইনসেনটিভ, আর একটা হচ্ছে শাস্তি।”
রোববার রাজধানীর পল্টনে পুঁজিবাজারভিত্তিক সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ এ অতিথি হয়ে এসেছিলেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী।
তিনি বলেন, “নিয়ন্ত্রক সংস্থার আর্শীবাদ ছাড়া দুর্নীতি সম্ভব না।”
যে নিরীক্ষক অনিয়মে জর্জরিত কোম্পানির নিরীক্ষা করেছে, কিন্তু তাদের অনিয়মের বিষয়গুলো প্রতিবেদনে তুলে আনেনি, তাদের (নিরীক্ষক) লাইসেন্স বাতিল করার দাবি জানান রূপালী চৌধুরী।
তিনি বলেন, “আমি নিজে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। কয় পয়সা বেতন দিয়েছি? তাহলে এখন আমাদের দায়িত্ব কী? দেশকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং সেই কাজটি আমাদের সবাইকে করতে হবে। যে কারবে না, তাকে শাস্তি পেতে হবে।”
এক সময় শিক্ষকরা শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন, একজন ভালো ডাক্তারও শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন, সেই সমাজে ফিরে যেতে হবে মন্তব্য করে বার্জার এমডি বলেন, “যদি দরকার হয় সারা বাংলাদেশের বাঙালিদের রক্ত ট্রান্সমিশন করে ফেলতে হবে। ...ঠিক করতে হবে, আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত হব, না আমরা ভালো মানুষ হব।”
ব্যবসাবান্ধব হতে বন্দরের সেবা ফি বা মাশুল বাড়ানো উচিত হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই মুহূর্তে শুল্ক বাড়ানো হলে ব্যবসা-বাণিজ্য কোনো ধরনের মূল্যষ্ফীতির চাপ নিতে পারবে না।”
বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বিশ্বের অন্যান্য দেশে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলেও বাংলাদেশে তারা কেন তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হয় না, সেই প্রশ্ন তোলেন বিএপিএলসি সভাপতি।
তিনি বলেন, “অনেক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি তো ফিকি’র (দেশে ব্যবসারত বিদেশি কোম্পানিগুলোর সংগঠন) সদস্য। তারা এখনো লিস্টেড না। তাদের কাছে আমাদের প্রস্তাব দিতে হবে। বাজারে আসার পথ বা বিনিয়োগ করার পথটা আকর্ষণীয় হতে হবে।”
বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দিতে পারলে তারাও তালিকাভুক্ত হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এজন্য কর কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে কোম্পানি আইন নতুন করে পর্যালোচনা করতে হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আর্থিক ও রাজস্ব নীতির একটি আগাম ধারণা দেওয়ার কথা বলেন রূপালী চৌধুরী।
অবকাঠামো খাতে উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “অন্যান্য দেশের সাথে যদি আমরা মিলাই, তাহলে দেখব তাদের লিড টাইম অনেক কম। কিন্তু আমাদের এখানে রাস্তাঘাটের যে অবস্থা, তা বলার বাইরে। কাচপুর ব্রিজের যানজট সমস্যা এখনো পুরোটা কাটেনি। সার্বিক অবকাঠামো ভালো, কিন্তু জায়গায়- জায়গায় যে জটিলতা আছে সেখানে দক্ষতা আনতে হবে।”
রংয়ের ওপর সম্পূরক শুল্ক আরোপের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “রংতো এখন বিলাস পণ্য না। এটা পণ্যকে নিরাপদ করে। ফলে এটা হল অত্যাবশ্যকীয়। পলিসিগুলো সমঝোতামূলক হতে হবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিএমজেএফ সভাপতি গোলাম সামদানি ভুইয়া, সঞ্চালনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবু আলী।