Published : 17 Jun 2026, 09:34 PM
অর্থনীতির সংকট কাটাতে ‘নতুন মডেল’ প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সেই ‘নতুন মডেল’ সম্পর্কে নিজের অভিমত তুলে ধরতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘‘সবার আগে বিনিয়োগ, সবার জন্য বিনিয়োগ ও সবার জন্য অর্থনীতি—আমাদের এখন এই মডেলে যেতে হবে।’’
বুধবার ঢাকার গুলশানে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের এক আলোচনা সভায় তিনি এ মতামত তুলে ধরেন।
মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা (এমসিসিআই), বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও স্টান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ মিলে এ সভা আয়োজন করে।
তিতুমীর বলেন, ‘‘বিশেষ গোষ্ঠী বা শ্রেণির জন্য অর্থনীতির কোনো নীতি হবে না। এজন্য প্রথমবারের মতো ৫ বছরের জন্য কর কাঠামো দেওয়া হয়েছে বাজেটে।
‘‘নীতির ধারাবাহিকতা বিনিয়োগ টেনে আনবে। বিনিয়োগকারীরা দেখতে চান নীতির ধারাবাহিকতা আছে কি না। এটি প্রস্তাবিত বাজেটে আছে।’’
সরকারের কাজের সমালোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা আমাদের সমালোচনা করেন। আমরা অতীতের মতো প্রশংসা বাক্য শুনতে চাই না। তারা প্রশংসা শুনে শুনে দেশ ডুবিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেছে।’’
সরকারের তিন ধাপে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিতুমীর বলেন, ‘রিকভারি’, ‘রেস্টোরেশন’ ও ‘রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন’— এই কৌশলে তিন ধাপে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি রহমান বলেন, সার্বিক দিক থেকে ব্যবসাবান্ধব বাজেট দেওয়া হয়েছে। বাজেটে ব্যবসা সহজীকরণে সংস্কারের কথা বলা হয়েছে।
“কিন্তু উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আদায়, মূল্যষ্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। সময়োপযোগী হলেও বাজেট বাস্তবায়ন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।’’
প্রস্তাবিত বাজেটকে মানবিক বাজেট বলা গেলেও মূল চ্যালেঞ্জ বাস্তবায়নে বলে মনে করেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী নাসের এজাজ বিজয়।
তিনি বলেন, “মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন ছিল। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন এবং ব্যাংকিং খাত সংস্কারের বিষয়ে বিস্তারিত পদক্ষেপ থাকা উচিত ছিল।”
পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার বলেন, ‘‘গত পাঁচ বছরে অর্থনীতি এক ধরনের ধাক্কা বা ‘ট্রমার’ মধ্য দিয়ে গেছে। ব্যাংক খাতের সংকট সমাধান না হলে অর্থনীতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা কঠিন হবে।’’