Published : 11 Jun 2026, 10:37 PM
‘অন্তভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও বিনিয়োগবান্ধব’ অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে তুলে ধরে তাকে স্বাগত জানিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)।
তবে ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিবেশের কিছু বিষয়ে তাদের উদ্বেগও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় আসা বিএনপির নতুন সরকার বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দিয়েছে। জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বাংলাদেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠন ফিকির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা বাজেট ও অর্থ বিল পর্যালোচনা করেছে।
‘অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও বিনিয়োগ-বান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের কৌশলগত থ্রি আর (রিকভারি, রিস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন)’ কাঠামোকে স্বাগত জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস ব্যবস্থায় অধিকতর স্পষ্টতা, সরলীকরণ, পূর্বাভাসযোগ্যতা ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নে সরকারের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে অর্থ বিল একটি ‘ইতিবাচক, প্রগতিশীল এবং ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ’।
সংগঠনটি আশা করছে, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং প্রযুক্তি-ভিত্তিক সংস্কারের উপর এই গুরুত্ব আরোপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা সুদৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।
সংগঠনটির মতে, উৎসে কর কর্তনকে (টিডিএস) ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত ব্যবসার কার্যকরী মূলধনের ওপর চাপ কমাবে। পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ও ‘ফেসলেস’ কর ফেরত ব্যবস্থার প্রস্তাব নগদ প্রবাহ বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
ভ্যাট ব্যবস্থায় মাসিকের পরিবর্তে ত্রৈমাসিক রিটার্ন দাখিলের সুযোগ ব্যবসার প্রশাসনিক ব্যয় কমাবে বলেও মনে করছে সংগঠনটি।
তারা বলেছে, কাঁচামাল আমদানি, বৈদেশিক ঋণের সুদ ও যন্ত্রপাতি ভাড়ার ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে।
করপোরেট কর হার অপরিবর্তিত রাখলেও দীর্ঘমেয়াদি কর কমানোর ‘রোডম্যাপ’ না থাকায় আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের তুলনায় বাংলাদেশ এফডিআই আকর্ষণে পিছিয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ফিকি।
পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া বৃহৎ ও বহুজাতিক করদাতাদের জন্য ই-ভ্যাট বাধ্যতামূলক করাও মারাত্মক ব্যবহারিক জটিলতা তৈরি করতে পারে মনে করছে তারা।
ফিকির মতে, ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলে দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের নিয়োগ ব্যয় বাড়বে। একই সঙ্গে খুচরা পর্যায়ে প্রস্তাবিত শূন্য দশমিক ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আদায়ের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।
বাজেটের সামষ্টিক দিক নিয়ে দেশে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর শীর্ষ এ সংগঠনটি বলেছে, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয় লক্ষ্যমাত্রা এবং ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। এই লক্ষ্য অর্জনে করের আওতা বাড়ানো এবং নতুন করদাতাদের রাজস্ব ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন হবে।