ফটো স্টোরি: পৌরসভা ভোটের দিন রাজশাহীর আড়ানী

আব্দুল কাদের নাহিদ
Published : 16 Jan 2021, 07:44 PM
Updated : 16 Jan 2021, 07:44 PM

শনিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হলো পৌর নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপ; ৬০টি পৌরসভায় মেয়র, সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকলেও কোনো কোনো প্রবীণ ভোটারকে ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

কানে ঠিক মত শুনতে পান না শাহারা বেগম। তাকে কথা বোঝাতে হয় হাতের ইশারায়। ৭০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধার হাতের ছাপ শনাক্ত না হয়নি ভোটকক্ষে।

শীতের মধ্যেও ভোট দিতে এসেছেন ৮০ বছর বয়সী জয়নব। তারও হাতের ছাপ মেলেনি। পুনরায় চেষ্টা করা হবে বলে তাকে ভোটকক্ষের বাইরে অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

সাবান দিয়ে হাত দুইবার করে হাত ধোয়ার পরও নাকি আঙ্গুলের ছাপ শনাক্ত করা যায়নি এই তিন নারীর।  জাবেদা বেগমের বয়স  ৯০, বিলকিস জাহানের ৬১ এবং আয়েশার ৬০ বছর। ভোট দিতে না পারায় তারা হতাশ। অপেক্ষা করছেন কখন পুনরায় ডাক আসবে।  "ভোট দিতে না পারলে ছবি তুলে লাভ কি..", বললেন আয়েশা।

কুশাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন বিলকিস জাহান। বয়সের কারণে হাতের ছাপ শনাক্ত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিরাশ হয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাকে।

ভোট চলাকালীন সময় আইনশৃংখ্যলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে।

কাছাকাছি কোনো বিদ্যালয় না থাকায় অস্থায়ী ভোট কেন্দ্র গড়ে তোলা হয় আড়ানী পৌর এলাকার শাহাপুর গ্রামের মৃত জফির উদ্দিনের আম বাগানে।

চার বছরের  তমা মাঠে বসে বসে বাদাম খেয়ে সময় পার করছে। পাশেই মা দাঁড়িয়ে আছে মহিলাে ভোটারের লাইনে।

শারীরিক সমস্যার কারণে  গত দশ বছর ধরে হাঁটতে পারেন না নবাব আলী। তবুও অন্যের সহযোগিতা নিয়ে এসেছেন নিজের ভোট দিতে।

জীবনের প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিতে পেরে আনন্দিত এই ভোটার জানালেন, এই যন্ত্রে ভোট দিতে তেমন কোনো অসুবিধা হয়নি তার।

ঠিক মত হাঁটতে পারেন না ৮৩ বছর বয়সী মহসিন আলী। ভোটকেন্দ্রে এসেছেন ভ্যানে চড়ে।

কেউ কেউ মাস্ক পরে এসেছেন। আর কেউ কেউ গায়ের কাপড় নাকে-মুখে জড়িয়ে নিচ্ছেন মাস্কের বিকল্প হিসেবে। এতে শীতের বাতাস থেকে কিছুটা রেহাই মিলছে।

ভোট কেন্দ্রের বাইরে বসেছেন এই তরুণরা। ভোটার তালিকা থেকে নম্বর খুঁজে বার করে ভোটারদের স্লিপ বিলি করেন তারা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক