Published : 12 Dec 2022, 11:09 PM
বিভিন্ন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধার কারণে দেশে নির্যাতনের শিকার নারী ও মেয়েশিশুদের ন্যায়বিচার পাওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে কম বলে ব্র্যাকের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।
লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ৩৮৫টি মামলা বিশ্লেষণ করে ওই গবেষণার ফলে বলা হচ্ছে, এসব মামলার ৫০৫ আসামির মধ্যে মাত্র ৩৬ জনকে (৩.৬%) দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে এক অ্যাডভোকেসি সংলাপে ওই গবেষণার ফল ও সুপারিশমালার তুলে ধরা তথ্য পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গবেষণাটি করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারী ও মেয়েশিশুদের অধিকাংশই তাদের সাথে সংঘটিত অপরাধের বিচার চাইতে অক্ষম। এমনকি তারা মামলা দায়ের করতে পারলেও তদন্ত বিলম্বিত হয়, বিচার দীর্ঘায়িত হয় এবং শেষ পর্যন্ত খুব কম মামালায়ই দায়ী ব্যক্তিরা দোষী সাব্যস্ত হয়।”
পাবলিক প্রসিকিউটরদের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং তাদের কর্মক্ষমতা ও জবাবদিহিতা নিরীক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেন তিনি।
বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) শেখ আশফাকুর রহমান বলেন, “আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সাথে সংবেদনশীল আচরণ নিশ্চিত করতে বিচার কাজের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য জেন্ডার সংবেদনশীলতা প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।”
অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র জেলা জজ তানজিনা ইসমাইল বলেন, “নারী নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটরদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।”
সংলাপে ডিএমপির সহকারী কমিশনার মোছা. মোফেলা খাতুন মেমী নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করতে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের আইনি ও বিভাগীয় জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ফরেনসিক পরীক্ষা ব্যবস্থা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিনের বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ।
আদালতে নারী ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং বিচার সংশ্লিষ্টদের জেন্ডার সংবেদনশীলতা অনুশীলন নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচির পরিচালক নবনীতা চৌধুরী।