আলোকচিত্রী আফতাব হত্যার ফাঁসির আসামি রাজু গ্রেপ্তার
সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করে তিনি দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছে এটিইউ।
নয় বছর আগে রাজধানীর রামপুরায় ডাকাতি করতে গিয়ে আলোকচিত্র সাংবাদিক আফতাব আহমেদ হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি রাজু মুন্সীকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।
বুধবার গভীর রাতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়।
রাজু দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন জানিয়ে সম্মেলনে এটিইউর পুলিশ সুপার হাসানুল জাহিদ বলেন, “তার বাড়ি পটুয়াখালী হলেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ী থানার সীমান্তবর্তী শালগ্রামে অবস্থান করছিলেন।”
ওই এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম জানিয়ে তিনি বলেন, “হত্যার ঘটনার পর থেকে রাজু সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে আত্মগোপন করে থাকতেন।“
একুশে পদক পাওয়া আফতাব আহমেদ রাজধানীর পশ্চিম রামপুরার ওয়াপদা রোডে নিজ বাসায় একাকী থাকতেন। ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি ওই বাসায় খুন হন।
হাসানুল জাহিদ বলেন, “বাসায় একা থাকার সুযোগে তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক হুমায়ুন কবির, হুমায়ুনের ভাগ্নে রাজু মুন্সীসহ অন্যরা টাকা লুট করার সময় আফতাব আহমেদ চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।”
তদন্ত শেষে পরের বছর ২৫ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র দেন র্যাব-৩ এর উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশিক ইকবাল।
২০১৭ সালের ২৮ মার্চ এ মামলায় ওই পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। পরে গত বছরের ১২ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদন করে এবং আসামিদের আপিল খারিজ করে পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে হাই কোর্ট।
প্রবীণ আলোকচিত্রী আফতাব আহমেদ খুন
আলোকচিত্রী আফতাব হত্যায় ৫ আসামির ফাঁসির রায় বহাল
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজু মুন্সী ২০১৩ সালে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
“দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থাকার পর সর্বশেষ সে সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থান করে দেশের বাইরে পালানোর পরিকল্পনা করছিলেন,”বলেন হাসানুল জাহিদ।
