০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

আগামী বছর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি

মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

আগামী বছর একুশে বইমেলা শুরু ৭ জানুয়ারি

বাংলা একাডেমি। ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 18 Oct 2026, 07:00 PM

Updated : 19 Oct 2026, 12:29 AM

ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে প্রায় তিন সপ্তাহ এগিয়ে আগামী বছর অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি। মাসব্যাপী এ মেলা চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

রোজার কারণে মেলা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা বলছেন প্রকাশকরা। আগামী বছর ৮ বা ৯ ফেব্রুয়ারি রোজা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

রোজার সময় ক্রেতা ও দর্শনার্থী কম থাকার যুক্তি তুলে ধরে তারা এর আগেই মেলা শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

রোববার বাংলা একাডেমি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মেলা এগিয়ে আনার তারিখ ঘোষণা করেছে। তবে কী কারণে মেলা এগিয়ে আনা হচ্ছে তা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি।

চলতি বছর মেলা শুরু হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মেলা পেছানো হয়েছিল।

আর আগামী বছর জানুয়ারিতে মেলা এগিয়ে আনার এ সিদ্ধান্ত হয়েছে গত ১৩ অক্টোবর। বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী সভা সভাকক্ষে একুশে বইমেলা আয়োজন বিষয়ক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

এতে প্রকাশক ও তাদের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান উপস্থিত ছিলেন বলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

মেলা শুরুর সময় এগিয়ে নিয়ে আসার কারণ জানতে চাইলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক আজম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করে লেখা আছে, প্রকাশক-প্রতিনিধিদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা মেলার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের কথা বলেছি।”

রোজার কারণে বইমেলা এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা তুলে ধরে ‘অনন্যা’ প্রকাশনীর প্রকাশক মনিরুল হক বলেন, “বাংলা একাডেমির ওই মতবিনিময় সভায় আমি নিজে উপস্থিত ছিলাম। প্রকাশকরা একজোট হয়ে দাবি করেছিলাম যেন বইমেলা এগিয়ে আনা হয়। কারণ হিসেবে আমরা বলেছি যে সামনে রোজা রয়েছে–ফেব্রুয়ারির আনুমানিক ৯ তারিখ থেকে রোজা শুরু হতে পারে। রোজার মধ্যে সাধারণত মেলায় দর্শনার্থী ও পাঠকের সমাগম হয় না।

“রোজা এড়াতেই আমরা প্রস্তাব করেছিলাম মেলা যেন জানুয়ারির প্রথম দিকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শেষ হয়। আমাদের সেই দাবির প্রেক্ষিতেই ৭ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলার সময়সীমা চূড়ান্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা একাডেমি।"

তিনি বলেন, সভায় বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে প্রায় ২০ জন প্রকাশক উপস্থিত ছিলেন। এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কারও কোনো দ্বিমত ছিল না, সবাই একমত ছিলেন।

তবে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা চত্বরে বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে- এমন ঘোষণা আসবে বলে তুলে ধরেন তিনি।

মেলা চত্বরের অনুষ্ঠানগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে একাডেমি ঘোষণা দেবে বলে জানান তিনি।

একই কারণ জানিয়েছেন ঐতিহ্য প্রকাশনীর আরিফুর রহমান নাঈম। তিনি বলেন, “প্রকাশকদের দাবি ছিল বইমেলা এগিয়ে নিয়ে আসার। রোজার কারণেই এগিয়ে নিয়ে আসা।”

অন্যপ্রকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কারণটা একটাই, যে রোজার মধ্যে মানুষ মেলায় যায় না।”

তিনি বলেন, এবার রোজার মধ্যে মেলা হওয়ায় পাঠক-ক্রেতার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এতে প্রকাশকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারও প্রকাশকরা মেলা এগিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলা একাডেমি সেই দাবি মানেনি। পরে একাডেমির অনুরোধে রোজার মধ্যেই মেলায় অংশ নেন প্রকাশকরা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার মেলা এগিয়ে আনার দাবি জানানো হয়।

মেলার সময়সূচির এই পরিবর্তন সাময়িক বলে তুলে ধরে মাজহারুল ইসলাম বলেন, “হয়তো আরও দুই-এক বছর এরকম যাবে, তারপর থেকে রোজা চলে গেলে আবার নিয়মিত মেলা তার আগের সময়েই হবে, ফেব্রুয়ারির ১ তারিখ থেকে।”