প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরাধ দমনে প্রস্তুত হন: পুলিশকে প্রধানমন্ত্রী

“প্রযুক্তির উৎকর্ষ যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন নতুন মাত্রার অপরাধও দেখা দিচ্ছে”, বলেন শেখ হাসিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Feb 2024, 02:26 PM
Updated : 29 Feb 2024, 02:26 PM

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে নতুন নতুন অপরাধ দেখা দিচ্ছে বলে সতর্ক করে সেগুলো দমনে পুলিশকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “প্রযুক্তির উৎকর্ষ যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, নতুন নতুন মাত্রার অপরাধও দেখা দিচ্ছে। সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য আমাদের পুলিশ বাহিনী যেন প্রস্তুত থাকে।

“ক্রাইমের সাথে সাথে সেটাকে মোকাবিলা করার সিস্টেমটা যদি না চলে, তাহলে কিন্তু যথাযথভাবে সেটা করা যায় না।”

পুলিশকে ‘জনগণের বন্ধু’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকাল মানুষ আগের মত ভয় না, তারা আস্থা ফিরে পেয়েছে। পুলিশকে নিজের বন্ধু এবং আস্থার জায়গা হিসেবে সাধারণ মানুষ বিবেচনা করে।”

গাড়িতে আগুন দেওয়া, পুলিশকে আগুনের মধ্যে ফেলে দেওয়াও যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো মামলাগুলো ‘দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গেছে’ মন্তব্য করে দ্রুত বিচারের তাগিদও দেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি সাজাটা যদি দ্রুত হয়ে যায় তাহলে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন করার আর সাহস পাবে না। আগামীতে যেন কেউ পুলিশের উপর আক্রমণ করতে না পারে।

“ওই রাজনীতির নামে হোক, সন্ত্রাসের নামে হোক, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবে না, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারবে না, মানুষের জান মালের ক্ষতি করতে পারবে না, জাতীয় সম্পদের ক্ষতি করতে পারবে না। এ ব্যাপারে পুলিশকে অবিচল থাকতে হবে। যখনই যেটা দরকার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

দেশের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে কেউ তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের চোখে দেখে না। বাংলাদেশ সারা বিশ্বে নিজের একটা স্থান করে নিতে পেরেছে। এখন সবাই বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে দেখে। এটাকে ধরে রেখে আমাদের সামনে এগোতে হবে।”

আওয়ামী লীগ জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে দাবি করে শেখ হাসিনা বলেন, “জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলা, জনগণের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন- এটাই আমাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাই।

“সে লক্ষ্য নিয়ে আমরা নির্বাচনে ইশতেহার ঘোষণা দেই এবং প্রতি মেয়াদে নির্বাচনে ইশতেহার বাস্তবায়নে যথাযথ ব্যবস্থা নেই।”

২০০৯ সাল থেকে সরকারে থাকার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “একটা স্থিতিশীল পরিবেশ গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই আজকের বাংলাদেশ বদলে যাওয়া বাংলাদেশ। আজকের বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে।”

ফিলিস্তিনের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “আমি প্রতিটি জায়গায় এর প্রতিবাদ করেছি। ফিলিস্তিনি শিশু নারীদের ওপর অকথ্য অত্যাচার এবং গণহত্যা… শুধু তাই না, তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, হাসপাতাল সবকিছুর উপর আক্রমণ করে, এমনকি যেখানে ত্রাণ বিতরণ করা হয় সেখানেও আক্রমণ করা হচ্ছে। এর থেকে জঘন্য মানবতাবিরোধী কাজ আর হতে পারে না।

“এর প্রভাবটা সারা বিশ্বের অর্থনীতিতে পড়ছে। আমাদের ওপরেও সেই ধাক্কাটা আসছে। যদিও আমাদের চেষ্টা হচ্ছে কীভাবে আমরা এটা মোকাবেলা করব।”