রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করতে পারেন, খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী

“মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যিনি ক্ষমা চান তাকে কিন্তু দোষ স্বীকার করে দরখাস্ত করতে হয়। যিনি ক্ষমা চাইবেন এটা তার সিদ্ধান্ত,” বলেন আনিসুল হক।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Oct 2023, 08:06 PM
Updated : 5 Oct 2023, 08:06 PM

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তুলেছেন রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রসঙ্গ। অনুমতির বিষয়টি আদালতের জানিয়ে পরে তিনি এই প্রসঙ্গটিও টানেন।

সচিবালয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

অবশ্য বিএনপি নেত্রীকে সরাসরি রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেননি মন্ত্রী। তিনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রসঙ্গটি তোলেন। আর এটাও জানান, যদি ক্ষমা চাইতে হয়, তাহলে দোষ স্বীকার করে নিতে হয়।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে যান বিএনপি নেত্রী। ওই বছরের অক্টোবরের শেষে হাই কোর্ট সাজা বাড়িয়ে করে ১০ বছর। তার আগের দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাত বছরের সাজা হয় তার।

উচ্চ আদালতে জামিনের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন নিয়ে যান। করোনা ভাইরাস মহামারী শনাক্তের মাসে সরকারপ্রধানের নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগে ছয় মাসের জন্য সাময়িক মুক্তি মেলে বিএনপি নেত্রীর।

২০২০ সালের ২৫ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া বাড়ি ফেরেন। এরপর আরও আট দফা ছয় মাস করে বাড়ানো হয় মুক্তির মেয়াদ।

ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা প্রয়োগ করে এই মুক্তির শর্ত ছিল দুটি। এর একটি হলো বিএনপি নেত্রী দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এখন দেশের বাইরে যাওয়ার দাবি করা হচ্ছে। একাধিকবার সরকারের তরফে সে আবেদন নাকচ হয়েছে।

সবশেষ আবেদন প্রত্যাখ্যানের দিন আইনমন্ত্রী জানান, যে শর্তে ৪০১ ধারা প্রয়োগ করা হয়, সেটি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। এখন বিএনপি নেত্রী সাময়িক মুক্তির আদেশ বাতিল করে কারাগারে গিয়ে নতুন করে আবেদন করতে পারেন। তখন আদালত তা বিবেচনা করতে পারে।

বিএনপির পক্ষ থেকে সরকারের এই অবস্থান রাজনৈতিক উদ্দেশপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়েছে মঙ্গলবার। এর জবাব দিতেই সাংবাদিকদের সামনে আসেন আইনমন্ত্রী।

আগের সেই কথার পুনরাবৃত্তি করে ৪০১ ধারার পুনরুল্লেখ করে তিনি বলেন, “আইনে আছে শর্তযুক্ত অথবা শর্তমুক্ত। শর্ত যদি দেওয়া হয় তা মানতে হবে। …আমার মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর যে ক্ষমতা তিনি তা প্রয়োগ করেছেন, এটা পুনরায় প্রয়োগ করার সুযোগ নেই।”

এরপরেই আইনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার যে সুযোগ আছে, সেটি স্মরণ করান। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যিনি ক্ষমা চান তাকে কিন্তু দোষ স্বীকার করে দরখাস্ত করতে হয়। যিনি ক্ষমা চাইবেন এটা তার সিদ্ধান্ত।”

তাহলে দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া কি খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার কোনো পথ নেই? এ প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, “এখন খালেদা জিয়াকেই ক্ষমা চাইতে হবে। এটা হচ্ছে সাংবিধানিক অধিকার, যে কেউ রাষ্ট্রপতির কাছে মাফ চেয়ে তার সাজা মওকুফ করার জন্য আবেদন করতে পারে।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য’ উপস্থাপন করেছেন দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘এটা আইনি ব্যাপার, এখানে রাজনীতির কোনো প্রশ্ন নেই। তার (খালেদা জিয়া) পরিবার দরখাস্ত করেছিল, সেটা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

“আইনে কোথাও নাই তাকে এই দরখাস্তে তাকে বিদেশে যাওয়ার পারমিশন দেওয়া যায়। বিদেশ যেতে পারবেন না বলে আগেই শর্ত দেওয়া ছিল, এখন সেটিকে পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ নেই।”

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে শেখ হাসিনার জামিন এবং বিদেশে চিকিৎসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০০৮ সালে কোনো শর্ত সাপেক্ষে শেখ হাসিনাকে জামিন দেওয়া হয়নি। আইন মেনেই তিনি বিদেশ গিয়েছিলেন এবং দেশে ফিরে এসেছেন। মির্জা ফখরুলের ভালো করে জেনেশুনে, বুঝে জনগণকে তথ্য দেওয়া উচিত।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশের মেয়র ফজলে নুর তাপস এবং আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছিল ৪ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে:

https://www.facebook.com/bdnews24/posts/pfbid028ydHGwSLuHWcnaaQyU7Xhn6cJ9T2o7NwZcMpu32zRUfghCKgKm29tNWejkxGAFfxl