০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

তাহসিফের মৃত্যু: তৃতীয় দফায় দীপের ৩ দিনের রিমান্ড

রিমান্ড আবেদনে পাঁচ কারণ বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

তাহসিফের মৃত্যু: তৃতীয় দফায় দীপের ৩ দিনের রিমান্ড

আদালতে আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 05 Nov 2026, 06:36 PM

Updated : 05 Nov 2026, 06:36 PM

বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তার ‘বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃতীয় দফায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম রিমান্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন এ তথ্য দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গাজীপুরের টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন পাঁচ কারণ দেখিয়ে দীপের ফের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

পাঁচ কারণে বলা হয়েছে-

>> কেন এবং কী কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়েছে (যেমন: পূর্ব শত্রুতা, আর্থিক লেনদেন, নাকি রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত কোন্দল) তা নিশ্চিত হওয়া।

>> হত্যায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা।

>> মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা, এই হত্যার পেছনে অন্য কোনো মূল পরিকল্পনাকারী, ভাড়াটে খুনি বা সাহায্যকারী জড়িত আছে কি-না তা জানা এবং তাদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করা।

>> ঘটনার চাক্ষুষ সাক্ষী বা সিসিটিভি ফুটেজের তথ্যের সাথে আসামির জবানবন্দি মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা।

>> অপরাধের ধরণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা।

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামির পক্ষে তার আইনজীবী মনিরুল ইসলাম রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

শুনানি নিয়ে আদালত দীপের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ‘ভিডিও ধারণকারী’ হিসেবে আলোচনায় থাকা তাহসিফ সাউরির ভাসমান লাশ গেল ২৮ অক্টোবর বিকালে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

Image

তাহসিফ (বাঁয়ে) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দীপ (ডানে) নামের একজনের সঙ্গে বাসা থেকে বের হন।

তিনি ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় ‘দীপের ডাকে’ বাসার নিচে নামেন এবং নিজের বাইক নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

দীপ ২৯ অক্টোবর বলেছিলেন, রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকা থেকে তাহসিফের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান।

তিন দিনেও মামলা না হওয়ায় তাকে নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে, সেই আলোচনার মধ্যে ৩০ অক্টোবর রাতে তাকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ওই দিন রাতে তাহসিফের বাবা মামলা করার পর দীপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন দীপকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় তার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ হয়।

এছাড়া দীপের দেওয়া তথ্যেই ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের বাইকটি উদ্ধার করা হয়।

‘মাদকস্পট’ হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকারও করেন দীপ। একপর্যায়ে তাকে নিয়ে গেল শুক্রবার টঙ্গীর ওই এলাকা পরিদর্শনেও গিয়েছিলেন পিবিআই কর্মকর্তারা।

এ মামলায় গেল রোববার তাহসিফ সাউরির ‘বান্ধবী’ জেরিকা তাসনিম দিশাকে চার দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।

চার দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার দ্বিতীয় দফায় দিশার তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ হয়। ঘটনার দিন রাতে তাহসিফের সাথে দিশাকে উত্তরার একটি বারে দেখা গিয়েছিল।