তিন মাসের মধ্যে এ অনুসন্ধান শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।
Published : 21 Aug 2022, 12:38 PM
ঢাকার রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান রোববার হাই কোর্টের শুনানিতে এ তথ্য জানালে আদালত তিন মাসের মধ্যে এ অনুসন্ধান শেষ করতে নির্দেশ দেয়।
এক রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও খিজির হায়াতের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দিয়েছে দুদককে।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, অপরদিকে ওসি মুনিরুল ইসলামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুব শফিক।
ওসি মনিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দুদকে জানাতে হবে: আইনজীবী সুমনকে হাই কোর্ট
এর আগে গত ১১ অগাস্ট আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ‘বিপুল পরিমাণ সম্পদ’ সংক্রান্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের যুক্ত দুদকে ওসি মনিরুলের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ দেন আইনজীবী সুমন।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে হাই কোর্টকে জানান দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ওসি মনিরুল ইসলামের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। কমিশন থেকে এই সিদ্ধান্ত আদালতকে জানানো হয়। এরপর এই অনুসন্ধান কার্যক্রম তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।”
ওসি মনিরুলের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের’ অভিযোগ এসেছে তার বিরুদ্ধে।
কমিশন ওই অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে দুদকের দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেলের পরিচালক উত্তম কুমার মণ্ডলের স্বাক্ষরিত ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে মহাপরিচালকের (বিশেষ তদন্ত) কাছে।
এর আগে গত ১০ অগাস্ট ওসি মনিরুলের অবৈধ সম্পদ ও দখল নিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট করেন আইনজীবী সুমন। ওসি মনিরুলের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয় সেখানে।
রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি দখল, অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে তার অবহেলা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে রুলও চাওয়া হয় রিটে।
পরদিন ১১ অগাস্ট রিটের ওপর শুনানি শেষে অভিযোগকারী আইনজীবী সুমনকে এ বিষয়ে দুদকে অভিযোগ জানাতে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।
এর আগে গত ৫ অগাস্ট পত্রিকায় ‘ঢাকায় ওসির আটতলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদ’ শিরোনামে ওসি মনিরুলের নামে রাজধানীর বছিলায় আটতলা বাড়ি, কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক প্লট রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ওই সংবাদে রাজধানীর মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিতে এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে ওসির বিরুদ্ধে।