মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে নিম্নমানের সামগ্রী, তদন্তে ২ কমিটি

গুলিস্তান কমপ্লেক্স নিয়ে ‘একপেশে’ সংবাদ পরিবেশন করেছে এমন অভিযোগে নাগরিক টেলিভিশনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ সংসদীয় কমিটির।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Sept 2022, 01:51 PM
Updated : 11 Sept 2022, 01:51 PM

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার আর নামফলক মুছে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে।

রোববার সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে লালমনিরহাট জেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাধি প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ভেঙে পড়া ও নামফলক মুছে যাওয়ার একটি ছবি নিয়ে আলোচনা উঠলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

পরে এর কারণ উদঘাটনে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয় বলে বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পরে লালমনিরহারের ওই ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি দেশের অন্য কোথাও এ ধরনের ঘটনা রয়েছে কি না সেটি তদন্ত করার সুপারিশ আসে বৈঠক থেকে।

এদিকে গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের গুলিস্তান কমপ্লেক্স ভবন নিয়ে নাগরিক টেলিভিশন ‘একপেশে’ সংবাদ পরিবেশন করেছে এমন অভিযোগ তুলে ওই টেলিভিশনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে কমিটি।

নাগরিক টিভি গত অগাস্টে ‘মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পদের লাভের টাকা কে খায়?’ এবং ‘নিঃস্ব অনেক ব্যবসায়ী, একই দোকান দুইবার বিক্রির পাঁয়তারা’ শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রচার করে। রোববারের বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বলেন, “সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের কবর বাঁধাই করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানে নিম্নমানের ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যে নামফলক মুছে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বাঁধাই করার পর কবর ভেঙে পড়ছে। আমরা বলেছি এটা চলবে না।

“উন্নতমানের ম্যাটেরিয়াল ও নামফলকে অমোচনীয় কালি ব্যবহার করতে হবে। আমরা এসব কবর সরেজমিনে দেখে প্রতিবেদন দিতে বলেছি। ঘটনার তদন্ত করতে বলেছি। আমি নিজেও কোথাও গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের করব জিয়ারত করছি। কাজের মান যাচাই করি।”

নাগরিক টিভির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, “গুলিস্তানের মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ভবন নিয়ে অতীতে অনেক অনিয়ম ছিল কিন্তু আমি কমিটির সভাপতি হওয়ার পর ঘটনা তদন্ত করে নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছি। নাগরিক টিভি ওই ভবন নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। কিন্তু তারা প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়, কল্যাণ ট্রাস্ট বা সংসদীয় কমিটি কারও বক্তব্য নেয়নি।

“বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় তাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেছে। আমি নিজেও ফোন দিয়ে আমাদের বক্তব্য শুনতে বলেছি। কিন্তু তারা সেটা করেনি। এজন্য কমিটি বৈঠকে উষ্মা প্রকাশ করেছে এবং নাগরিক টিভির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে।”

বৈঠকে অভিজ্ঞ আইনবিদদের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলাগুলো পরিচালনার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের গুলিস্তান কমপ্লেক্স ভবনে অবৈধভাবে দখল করা দোকান, চিলেকোঠা, সিঁড়ি এবং নবম তলায় দাহ্য পদার্থের দোকান দ্রুততম সময়ের মধ্যে খালি করার জন্য সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক উপ মহাব্যবস্থাপক মোঃ সিরাজুল ইসলামের দুর্নীতি সংক্রান্ত সব তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা বন্ধ রাখার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।

শাজাহান খানের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, এ বি তাজুল ইসলাম, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও মোছলেম উদ্দিন আহমদ অংশ নেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক